এম এ খালেক
রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫ প্রিন্ট ৩৬৮ বার পঠিত
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মুসফিকুর রহমান বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলো তো বটেই এমন কি উন্নত দেশের অর্থনীতিতেও এসএমই খাত বিশেষ অবদান রাখছে। একটি দেশের দ্রুত এবং সুষম উন্নয়নের জন্য এসএমই খাতের কোন বিকল্প নেই। যেসব দেশ এসএমই খাতের উপর প্রত্যাশিত মাত্রায় গুরুত্ব দেয়নি তারা উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে। এ জন্যই বলা হয় এসএমই খাত হচ্ছে যে কোন দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড। এসএমই খাতকে বাদ দিয়ে কোন দেশের দ্রুত এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন এম এ খালেক।
প্রশ্ন: একটি দেশের শিল্প খাতের উন্নয়নে এসএমই খাতের গুরুত্ব কেমন বলে মনে করেন?
মো. মুসফিকুর রহমান: আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। শুধু শিল্প খাতের জন্য নয় দেশের পুরো সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যই এসএমই খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। পৃথিবীতে এমন কোন দেশ পাওয়া যাবে না যারা এসএমই খাতকে অবহেলা করে কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলো তো বটেই এমন কি উন্নত দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার দিকে যদি আমরা দৃষ্টি দেই তাহলে দেখবো এসএমই খাত বিশেষ অবদান রেখেছে। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি উন্নয়নশীল বা উন্নত যে দেশের কথাই আমরা বলি না কেন এসএমই খাতকে অবহেলা করে কখনোই শিল্পায়ন তথা অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জন করা সম্ভব নয়। যেসব দেশ অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়ন অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে তাদের জিডিপি’তে এসএমই খাতের অবদান ৪০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ। আপনি যদি বিশ্লেষণ করেন তাহলে দেখবেন, ঐসব দেশের (উন্নত এবং উন্নয়নশীল) জিডিপি’তে এসএমই খাত গড়ে ৫০ শতাংশের মতো অবদান রাখছে। অন্যান্য খাত যেমন, কৃষি, সেবা, ইত্যাদি খাত থেকে আসে জিডিপি’র অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ। একটি দেশের দ্রুত এবং সুষম উন্নয়নের জন্য এসএমই খাতের কোন বিকল্প নেই। আমি বলবো, যে কোন অর্থনীতির জন্য এসএমই খাত সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেসব দেশ এসএমই খাতের উপর প্রত্যাশিত মাত্রায় গুরুত্ব দেয়নি তারা উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে। এ জ
ন্যই বলা হয়, এসএমই খাত হচ্ছে যে কোন দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড। এসএমই খাতকে বাদ দিয়ে কোন দেশের দ্রুত এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। সবকিছু ঠিক থাকলে আমরা ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত তালিকায় উত্তীর্ণ হবো। সেই অর্জনকে ধরে রাখার জন্য এসএমই খাতের উপর যথাযথ গুরুত্ব দিতেই হবে। এসএমই খাতকে অবহেলা করে কোনভাবেই উন্নয়ন অর্জন এবং তা ধরে রাখা সম্ভব হবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্ষেত্রে এসএমই খাত এ পর্যন্ত যে অবদান রেখেছে তারচেয়ে অনেক বেশি অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। দেশের এসএমই খাতকে বিকশিত করার লক্ষ্য নিয়েই এসএমই ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়েছে। আমরা সাধ্যমতো অবদান রেখে চলেছি ক্ষুদ্র, মাঝারি শিল্পের উন্নয়নের জন্য। কয়েক বছর আগে এসএমই খাতের সঙ্গে কটেজ এবং মাইক্রো শিল্পকে যুক্ত করায় এই খাতের পরিধি আরো বেড়েছে। জাতীয় অর্থনীতিতে এই খাতের অবদান যাতে আরো বাড়ানো যায়। ব্যবসায়ের পরিবেশ যাতে উন্নত হয় এবং এসএমই খাতের উদ্যোক্তাগণ যাতে প্রাতিষ্ঠানিক খাত থেকে অর্থায়ন পেতে পারে সে জন্য আমরা নানাভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা এসএমই খাতের সব সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হয়েছি এটা বলবো না তবে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এসএমই খাতের বিকাশের ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা আছে তা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আমরা যদি বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূরীকরণ করতে পারি তাহলে এই খাতের উদ্যোক্তাগণ সফলতার মুখ দেখতে পারবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদান আরো বৃদ্ধি পাবে।
প্রশ্ন: আমি শুনেছি উন্নত দেশগুলোতে বৃহৎ শিল্পগুলো সাবকন্ট্রাক্টের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে তারা তা সংযোজন করে ফিনিশড প্রোডাক্ট তৈরি করে। আমাদের দেশে এধরনের উদ্যোগ গ্রহণ কতটা সম্ভব বলে মনে করেন?
মো. মুসফিকুর রহমান: আপনি ঠিকই শুনেছেন। যেমন জাপানের একটি বৃহৎ শিল্প টয়োটা। তারা গাড়ির সব পার্টস নিজেরা তৈরি করে না। যেমন, একটি গাড়ি তৈরি করতে হয়তো ৩ হাজার বিভিন্ন ধরনের পার্টস প্রয়োজন হয়। তারা নিজেরা এই পার্টস তৈরি না করে এসএমই খাতের অন্য কোন প্রতিষ্ঠানকে স্পেসিফিকেশন দিয়ে দেয়। ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো টয়োটা কোম্পানির চাহিদাকৃত পার্টস তৈরি করে যোগান দেয়। এভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চুক্তির মাধ্যমে যন্ত্রাংশ তৈরি করে এনে টয়োটা কোম্পানি ফিনিশড প্রোডাক্ট তৈরি করে থাকে। এতে তাদের দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশের চমৎকার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের কাজের গুণগত মানও অত্যন্ত উন্নত। আমাদের দেশেও সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। তবে সেটা এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় বিকশিত হয়নি। বাংলাদেশে যে সব প্রতিষ্ঠান তৈরি পোশাক উৎপাদন করছে তারা হয়তো সব পণ্য নিজেরা তৈরি না করে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে তৈরি করে আনছে। যেমন তৈরি পোশাক কারখানায় হ্যাঙ্গার প্রয়োজন হয়। কিন্তু তৈরি পোশাক কারখানায় হ্যাঙ্গার তৈরি করা হয় না। তারা অন্য প্রতিষ্ঠান যারা হ্যাঙ্গার তৈরি করে সেখান থেকে তা সংগ্রহ করে তাদের চাহিদা পুরণ করে। জিপার বা বোতাম তৈরির আলাদা কারখানা আছে সেখান থেকে এগুলো সংগ্রহ করা হয়। তৈরি পোশাক শিল্পে যেসব উপকরণ প্রয়োজন হয় তা ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানও যোগান দিচ্ছে। আবার এসব পণ্য যোগান দেবার জন্য বড় প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে। তবে এদের অবদান আরো বাড়ানোর সুযোগ আছে এবং আমাদের সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।
প্রশ্ন: আমাদের দেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান কতটা?
মো. মুসফিকুর রহমান: বর্তমানে দেশের জিডিপি’তে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। ভারতে ৩৭%, পাকিস্তানে ৪০%, মালয়েশিয়ায় ৩৯.১০%, ভিয়েতনামে ৪৫%, চীনে ৬০%, জাপানে ৫০%, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪৬.৯০% এবং ইউরোপীয়ান ইউনিয়নে ৪০%। বাংলাদেশের শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এসএমই খাতের অবদান ৮০ শতাংশ থেকে ৮৫ শতাংশ। জাতীয় অর্থনীতি এবং শিল্প খাতে এসএমই খাতের অবদান বৃদ্ধির চমৎকার সুযোগ রয়েছে। আমরা এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সেই সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। বাংলাদেশের মানুষ সৃজনশীল প্রতিভার অধিকারি। তারা যে কোন কাজ এবার দেখলেই রপ্ত করতে পারে। তাদের যদি এসএমই খাতে সম্পৃক্ত করা যায় তাহলে বেকার সমস্যা সমাধান করা সহজ হবে। এসএমই শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা অভিজ্ঞতা অর্জন করলে তার পক্ষে বৃহৎ শিল্প স্থাপন করে সফল হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অনেকেই হঠাৎ করে এসে বৃহৎ শিল্প স্থাপন করে কিন্তু অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে তারা সফল হতে পারেন না। তার মানে আমি বলছি না যে, দেশে বড় শিল্প স্থাপনের প্রয়োজন নেই। বড় শিল্প অবশ্যই স্থাপন করতে হবে। তবে এসএমই খাতকে কখনোই অবহেলা করা ঠিক হবে না। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যেসব ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প আছে তাদের এসএমই খাতে অন্তর্ভুক্ত করে বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে তারা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় পুঁজি সংগ্রহের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা এবং সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকেন। আমরা এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সিডিউল ব্যাংকগুলোর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করছি। এদের মাধ্যমে এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের ক্ষেত্রে সহায়তা করা হচ্ছে। এসএমই শিল্প থেকে বৃহৎ শিল্পে পরিণত হবার সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল। আমি দীর্ঘ দিন ব্যাংকে কর্মরত ছিলাম। আমি দেখছি, যারা এক সময় ক্ষুদ্র উদ্যোগ শুরু করেন তাদের অনেকেই পরবর্তীতে বৃহৎ শিল্পের মালিক হয়ে গেছেন। আজকে দেশে যেসব বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান আমরা প্রত্যক্ষ করছি তাদের অনেকগুলোই ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা স্বীয় দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, শ্রমিক বা কর্মচারী হওয়া সহজ কিন্তু উদ্যোক্তা হওয়া সহজ নয়। সবাই উদ্যোক্তা হতে পারেন না। উদ্যোক্তা হতে হলে তাকে ঝুঁকি গ্রহণের সামর্থ্য অর্জন করতে হয়। বাজার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হয়। অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা উন্নত মানের পণ্য উৎপাদন করতে পারেন কিন্তু সঠিক বাজারজাতকরণ কৌশল না জানা থাকার কারণে তারা বাজার প্রতিযোগিতায় অন্য প্রতিষ্ঠানের নিকট হেরে যাচ্ছেন। আমাদের দেশে একটি সাধারণ প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় তাহলো, হয়তো একশত জন উদ্যোক্তা ক্ষুদ্র পরিসরে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করলেন তার মধ্যে হয়তো একজন বৃহৎ উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতা পেলেন। এই সফলতার হার আরো বাড়ানো সম্ভব এবং আমাদের সেই চেষ্টা করা প্রয়োজন। এসএমই খাত থেকে বৃহৎ শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতা অর্জনের হার যদি বাড়ানো যায় তাহলে আমরা জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরো বেশি অবদান রাখতে পারবো।
প্রশ্ন: ট্রেডিশনাল ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে এসএমই উদ্যোক্তাগণ প্রয়োজনীয় ঋণ সহায়তা পান না। তাদের প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন করা হয়। বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?
মো. মুসফিকুর রহমান: এটা কোনভাবেই অস্বীকার করা যাবে না যে, এসএমই উদ্যোক্তাগণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে প্রয়োজনীয় পুঁজি সংগ্রহের ক্ষেত্রে নানা জটিলতার মুখোমুখি হয়ে থাকেন। একজন গ্রাহককে ঋণদানের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে নানা ধরনের আইন-কানুন মেনে চলতে হয়। আবেদনকৃত ঋণের বিপরীতে জামানত দিতে হয়। এসএমই উদ্যোক্তাদের পক্ষে অনেক সময় এসব ফর্মালিটিজ মেনে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। ফলে তারা এনজিও’র নিকট থেকে ঋণ গ্রহণ করে থাকেন। এনজিও ঋণের সুদের হার অনেক বেশি। ফলে এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করে অনেক সময় প্রতিষ্ঠান লাভজনকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়না। এটা এসএমই শিল্প বিকাশের পথে একটি প্রতিবন্ধকতা বটে। আমরা এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এই সমস্যা সমাধানের জন্য নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য অনেক দিন ধরেই ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কাজ করছি। বর্তমানে আমাদের পার্টনার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আছে ২৩টি। এরা এসএমই খাতে অর্থায়নের ব্যাপারে সহায়তা করছে। কিছু কিছু ব্যাংক এসএমই খাতে ঋণদানের ক্ষেত্রে বেশ আগ্রহী। তারা বড় শিল্পে ঋণদানের পাশাপাশি এসএমই খাতে ঋণ দিচ্ছে। কিন্তু যে মাত্রায় এসএমই খাতে ব্যাংক ঋণ প্রয়োজন তা তারা পাচ্ছে না। নানা কারণেই ব্যাংকগুলো এসএমই খাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঋণ দিচ্ছে না। কিন্তু আমরা বুঝানোর চেষ্টা করছি ব্যাংক যদি এসএমই খাতে ঋণ দান করে তাহলে তাদেরই লাভ হবে। কারণ এসএমই খাতে খেলাপি ঋণের হার হচ্ছে ১ শতাংশের মতো। বৃহৎ শিল্পে খেলাপি ঋণের হার অনেক বেশি। এসএমই খাতের উদ্যোক্তাগণ গৃহীত ঋণের কিস্তি ফেরত দেবার ব্যাপারে খুবই সচেতন। ব্যাংক যদি ৫টি বৃহৎ শিল্পে ঋণদান করে এবং তাদের মধ্যে একটি প্রকল্প ঋণের কিস্তি ফেরত দিতে অপারগ হয় তাহলে খেলাপি ঋণের হার হবে ২০ শতাংশ। আর যদি ১০০টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ দেয়া হয় এবং তাদের মধ্যে ৫টি প্রকল্প ঋণের কিস্তি ফেরত দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে খেলাপি ঋণের হার হবে ৫ শতাংশ। তার মানে আমি বলছি না যে, বৃহৎ শিল্পে ঋণ দেয়া যাবে না। বৃহৎ শিল্পে অবশ্যই ঋণ দিতে হবে। তার পাশাপাশি এসএমই খাতেও ঋণ দিতে হবে। ব্যাংকিং সেক্টরে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। খেলাপি ঋণ সৃষ্টির পেছনে দুর্নীতি-অনিয়ম তো আছেই তার পাশাপাশি ব্যাংকগুলো তাদের ঋণদানের ক্ষেত্রে ভিন্নমুখীতা আনায়ন করতে পারেনি। তারা যদি নতুন নতুন খাতে ঋণ দিতো এবং বিশেষ করে এসএমই খাতে ঋণদান করতো তাহলে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না। ব্যাংক থেকে ঋণ পাবার ক্ষেত্রে ডকুমেন্টেশনে নানা ঝামেলা রয়েছে। আমরা ব্যাংকগুলোকে বুঝানোর চেষ্টা করছি তারা যেন এসএমই উদ্যোক্তাদের ঋণদানের ক্ষেত্রে ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়া সহজীকরণ করে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে এসএমই খাতে নারী উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনা কেমন?
মো. মুসফিকুর রহমান: বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। নারীরা হস্তশিল্প থেকে শুরু করে অনেক কাজেই অত্যন্ত দক্ষ। তারা সুযোগ পেলে যে কোন কাজে দক্ষতার পরিচয় দিতে পারে। বিশেষ করে এসএমই শিল্পে নারী উদ্যোক্তাদের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু নানা কারণেই তারা সুযোগ পাচ্ছে না। এসএমই ফাউন্ডেশনের একটি ফোকাস পয়েন্ট হচ্ছে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন। আমরা নানাভাবে চেষ্টা করছি কিভাবে নারী উদ্যোক্তাদের আরো বেশি বেশি করে ক্ষুদ্র শিল্পে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। সামাজিক এবং পারিবারিক কারণে এক সময় আমাদের দেশের নারীরা ব্যবসায়-বাণিজ্যে যুুক্ত হতে চাইতেন না। কিন্তু পরিস্থিতি অনেকটাই পরিবর্তিত হয়ে গেছে। নারীরা এখন নানা ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। তারা বেশ সফলতাও অর্জন করছেন। নারী উদ্যোক্তাদের আমরা এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সেবা দিচ্ছি। তারা বেশ সফলতা অর্জন করছেন। নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরির জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। নারী উদ্যোক্তা এখন অনেকটাই এগিয়ে এসেছেন। অনেকেই শহরের বিভিন্ন স্থানে খাবার দোকান চালাচ্ছেন। বুটিক বা বাচ্চাদের পোশাক বিক্রি করছেন। ঢাকা শহরে নারীদের পরিচালনায় অনেক শো-রুম দেখতে পাবেন। অনেকে আবার বাড়িতে থেকেই নানা ধরনের খাবার আইটেম তৈরি করে বিক্রি করছেন। নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রচুর সম্ভাবনা আছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এসএমই ফাউন্ডেশন সেই কাজটিই করে চলেছে।
Posted ০৫:২৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com