নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ প্রিন্ট ৩৮৩ বার পঠিত
বীমা কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করে প্রবিধানে ফের সংশোধনী এনেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সংশোধনী সংক্রান্ত এ তথ্য প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
নতুন সংশোধনীতে সিইও নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার শর্তে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হলেও অপসারণের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
বীমা আইন, ২০১০-এর ১৪৮ ও ৮০ ধারার ক্ষমতাবলে বীমা কোম্পানি (মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ) প্রবিধানমালা, ২০১২-তে এ অধিকতর সংশোধনী আনা হয়েছে। গত ২২ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে ২০২৩ সালেও এ প্রবিধানে এক দফা সংশোধন আনা হয়েছিল।
সংশোধিত প্রবিধান অনুযায়ী, কোনো বীমা কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ পেতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বীমা খাতে ন্যূনতম ১২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এর মধ্যে-কোনো বীমা কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন বা জীবন বীমা কর্পোরেশনে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে ন্যূনতম ১ বছর, অথবা উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ন্যূনতম ৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
এছাড়া, এ অভিজ্ঞতার অন্তত ১ বছর প্রধান কার্যালয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যতীত প্রশাসনিক বা অন্য দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা হতে হবে।
তবে বীমা কোম্পানির প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত মনে করলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এ অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করতে পারবে। যেমন-(ক) সরকারি বা সরকার-সংশ্লিষ্ট কোনো বীমা কোম্পানি, যেখানে সরকারের বা সরকারি সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ৫০ শতাংশের বেশি;
(খ) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বহুজাতিক বীমা কোম্পানিতে ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা পদে ন্যূনতম ২ বছরের সরাসরি বীমা-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি।
ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা পদ’ বলতে সিইও, এমডি, এডিএমডি, ডিএমডি ছাড়াও সিএফও, সিআইও, সিওও, সিআরও, প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা, প্রধান মার্কেটিং কর্মকর্তা, কোম্পানি সচিব, প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স প্রধানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
নতুন সংশোধনীতে স্বীকৃত পেশাগত ডিগ্রি বা পদবিধারীদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাকচুয়ারিয়াল ফেলো বা অ্যাসোসিয়েট (ইউকে/ইউএসএ), চার্টার্ড ইন্স্যুরেন্স ইনস্টিটিউট (ইউকে), সিএলইউ (ইউএসএ), আইসিএবি, আইসিএইডব্লিউ, এসিসিএ, আইসিএমএ, সিএফএ ও সিপিএ।
সিইও নিয়োগ ও নবায়নের আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৬০ দিন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না হলে পরবর্তীতে অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে মেয়াদপূর্তির তারিখ থেকেই তা কার্যকর হবে।
অপসারণে কঠোরতা ও নিয়ন্ত্রকের ক্ষমতা জোরদার:
সংশোধনীতে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মানিলন্ডারিং বা আর্থিক অনিয়মের কারণে পূর্বে অপসারিত ব্যক্তিকে সিইও হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। একইভাবে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়োগ বা নবায়নের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
এছাড়া, দায়িত্ব পালনকালে দোষী সাব্যস্ত হয়ে বীমা আইন বা প্রবিধান অনুযায়ী অপসারিত ব্যক্তি কিংবা অপসারণযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কোম্পানি ব্যবস্থা না নিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও ভবিষ্যতে অযোগ্য হবেন।
একইসঙ্গে কোনো বীমা কোম্পানির পরিচালক, উল্লেখযোগ্য শেয়ারহোল্ডার (৫ শতাংশ বা তদূর্ধ্ব), পরামর্শক বা উপদেষ্টা থাকলেও তিনি মুখ্য নির্বাহী পদে নিয়োগ পেতে পারবেন না।
প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক সরাসরি মুখ্য নির্বাহী অপসারণের ক্ষমতাও আইডিআরএকে দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগ নবায়নের ক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাহীর কর্মসম্পাদন মূল্যায়নে ‘কাজের যোগ্যতা’র পরিবর্তে “কর্মসম্পাদনের মান ও পরিমাণ” বিবেচনার নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
কেন এই সংশোধনী
বীমা খাতে দীর্ঘদিন ধরেই যোগ্য সিইও সংকট, নিয়োগ বিলম্ব এবং নিয়ন্ত্রক -পরিচালনা পর্ষদ টানাপোড়েন একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। ২০২৩ সালের সংশোধনীর পরও বহু কোম্পানিতে সিইও নিয়োগ ও নবায়নের আবেদন ঝুলে ছিল। নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে আইডিআরএ একদিকে যোগ্য জনবল সংকট মোকাবিলা, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক কর্তৃত্ব বজায় রাখার কৌশল নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত অভিজ্ঞ পেশাজীবী এবং উচ্চমানের পেশাগত ডিগ্রিধারীদের জন্য দরজা খুলে দেওয়াকে খাতটিতে নতুন নেতৃত্ব আনার প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত সিইও দিয়ে চলা বা নিয়োগ জটিলতায় থাকা কোম্পানিগুলো দ্রুত স্থায়ী নেতৃত্ব পেতে পারে। সিএফএ, অ্যাকচুয়ারিয়াল, এসিসিএ বা সিআইআই ডিগ্রিধারীদের জন্য সুযোগ বাড়ায় বীমা খাতে ফাইন্যান্স, রিস্ক ও কর্পোরেট গভর্ন্যান্স-কেন্দ্রিক নেতৃত্ব বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে অপসারণ ও অযোগ্যতার শর্ত কঠোর করায় আইডিআরএ কার্যত “নিয়োগে নমনীয়, শাসনে কঠোর” এই অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এতে নিয়ন্ত্রক ঝুঁকি বেড়েছে বলে মনে করছেন কিছু উদ্যোক্তা।
পরিচালক, বড় শেয়ারহোল্ডার বা উপদেষ্টাকে সিইও হতে না দেওয়ার বিধান কর্পোরেট গভর্ন্যান্স শক্তিশালী করবে, তবে পারিবারিক বা উদ্যোক্তা-নিয়ন্ত্রিত কোম্পানিতে এটি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে খাত সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ মনে করছেন-অভিজ্ঞতা শিথিল করা হলেও যোগ্যতা যাচাইয়ের মানদন্ড স্পষ্ট নয়।
Posted ০৭:৪৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
এ বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভ ক্য
| শনি | রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ২ | ৩ | ৪ | ৫ | ||
| ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ | ১ | |
| ১৩ | ৪ | ১৫ | ১৬ | ১ | ৮ | ১৯ |
| ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ | ২৬ |
| ২৭ | ২ | ৯ | ৩০ | |||
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com