Ad
x
এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর সেমিনার

কৃষি খাতে আরও বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি রিজভীর

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬   প্রিন্ট   ৩৩ বার পঠিত

কৃষি খাতে আরও বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি রিজভীর

দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৃষি খাতে আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষি উন্নয়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ আহ্বান জানান।

রিজভী বলেন, চলতি বাজেটে কৃষি খাতের বরাদ্দ আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়ানো হলেও মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে এ বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। সরকারের নির্ধারিত কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে এ খাতে আরও বরাদ্দ, কার্যকর তদারকি এবং গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় কৃষির কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষকের মধ্যে কৃষি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ ইতিবাচক। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থায়ন সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষি উৎপাদন আরও গতিশীল হবে।

কৃষি ব্যাংক ও রাকাবের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ-পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে কৃষিঋণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। সে সময় কৃষকদের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি যান্ত্রিকীকরণ, পাওয়ার টিলারের ব্যবহার, খাল খনন এবং চাল রপ্তানির মতো উদ্যোগ কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে কৃষির অবদান পাঁচ থেকে ছয় শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এটি সাত থেকে আট শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত। দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪০ শতাংশ কৃষিনির্ভর হওয়ায় এ খাতকে আরও অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

সম্প্রতি ভিয়েতনাম সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রিজভী জানান, দেশটি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন আলু আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৩০ হাজার মেট্রিক টন আলু নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং অতিরিক্ত উৎপাদিত পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও কমবে।

কৃষি গবেষণা ও দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক কৃষিবিদ বের হচ্ছেন। তাদের মেধা ও গবেষণার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষি খাতের সম্ভাবনা আরও বিকশিত হবে।

রিজভী কৃষিপণ্য সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও জোর দেন। তিনি বলেন, আলুসহ বিভিন্ন ফল ও সবজি দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে মৌসুমি অতিরিক্ত উৎপাদনের অপচয় কমবে। একই সঙ্গে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা হ্রাস করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, নিউজিল্যান্ড ও ডেনমার্ক কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জন করেছে। বাংলাদেশেও কৃষিভিত্তিক শিল্প সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কৃষি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, গবেষণা জোরদার এবং বৈজ্ঞানিক জনবল তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এ্যাবের আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্যসচিব কৃষিবিদ শাহাদত হোসেন বিপ্লব। অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহাম্মদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান, ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box

Posted ০৮:২২ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com