নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬ প্রিন্ট ১০৩ বার পঠিত
দেশের অনেক বীমা কোম্পানি গ্রাহকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। । তিনি বলেন, বিশেষ করে লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পাওনা টাকা পেতে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ‘মানুষ সারা জীবন প্রিমিয়াম দেয়, কিন্তু ম্যাচিউরিটির পর টাকা পায় না। এমনকি বীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা অবসরে যাওয়ার পর তাদের পাওনা সুবিধাদি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। আমার কাছে এমনও তদবির আসে যে, কোনো কোম্পানির বড় ভাই অবসরে গেছেন কিন্তু তার বেনিফিট দেওয়া হচ্ছে না। এই পর্যায়ের অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় দেশের বীমা খাতের নানাবিধ দুর্বলতা তুলে ধরে শৃঙ্খলা ও সুশাসন জোরদারে কঠোর তাগিদ দেন এনবিআর চেয়ারম্যান । যিনি এক সময় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগেরও সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বলেন, বীমা খাতে পেশাদারিত্বের অভাব এবং চরম অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই খাত নিয়ে মারাত্মক নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।
আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘মোটর বীমা আগে আবশ্যিক ছিল, যা করতে মাত্র ২০০-২৫০ টাকা লাগে। সেটিও এখন উঠে গেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কোনো পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠেনি। পুরো বীমা খাত নিয়ে মানুষের মধ্যে নেতিবাচকতা এখন চরমে।’ তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘একদিকে আপনারা বলছেন ব্যবসা নেই, অন্যদিকে বীমা কোম্পানির লাইসেন্সের জন্য এখনও বহু লোক তদবির করছেন।’
বীমা খাতে দক্ষ জনবলের তীব্র অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বীমা কোম্পানি আছে অথচ কোথাও কোনো ‘অ্যাকচ্যুয়ারি’ নেই-পৃথিবীর কোথাও এমনটা দেখা যায় না। আমাদের দেশে অ্যাকচ্যুয়ারি নিয়ে পড়াশোনা বা বিশেষজ্ঞ তৈরির সুযোগ নেই বললেই চলে। বাংলাদেশে মাত্র দুজন অ্যাকচ্যুয়ারি আছেন, যার মধ্যে একজনের বয়স ৮৮ বছর পার হয়েছে। আরেকজন তরুণ, আমার মেয়ে। এমন অবস্থায় এই খাতে শৃঙ্খলা আনা কীভাবে সম্ভব?’
এনবিআর চেয়ারম্যান সতর্ক করে বলেন, বীমা খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে করদাতাদের আস্থা ফিরে আসবে না। সুশাসন নিশ্চিত না হলে মানুষ ভাববে, সরকার জোর করে বীমা কোম্পানিগুলোকে লাভবান করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
Posted ০৮:৩৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com