নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ প্রিন্ট ৮৫ বার পঠিত
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘ব্যাংকিং খাতের সমন্বয়: ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক ফোকাস গ্রুপ আলোচনায় দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সিএমএসএমই খাতের উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
সভায় ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের ঘাটতির কারণে শিল্পখাতে উৎপাদন কমে গেছে, বেড়েছে বকেয়া ও খেলাপি ঋণ। একই সঙ্গে বেসরকারিখাতে ঋণ প্রবাহ কমে যাওয়া এবং সরকারের ঋণ গ্রহণ বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিকভাবে শিল্পখাত চাপে রয়েছে। এ পরিস্থিতি উত্তরণে ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত সংস্কার, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং ব্যাংক ও বেসরকারিখাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি জানান, দেশে বর্তমানে ৩ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত তারল্য থাকলেও বেসরকারিখাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে প্রায় ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। শিল্পখাতে অনাদায়ী ঋণের হার ৫০ শতাংশের বেশি এবং খেলাপি ঋণ ৩১ শতাংশ ছাড়িয়েছে যা ব্যাংকগুলোর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। এসএমই খাতেও প্রায় ৩৫ শতাংশ ঋণ সময়মতো পরিশোধ না হওয়ায় খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে।
তাসকীন আহমেদের মতে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকের মূলধন সংকট বাড়ছে এবং ব্যাংকগুলো ব্যবসায়িক ঋণের বদলে ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হচ্ছে। এ প্রবণতা কমাতে ব্যাংক খাতের গভীর কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা জরুরি। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্পের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পায়নেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. তিতুমীর বলেন, সিএমএসএমই খাতের উন্নয়নই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের চাবিকাঠি। এ খাতের বিকাশে সরকার ও বেসরকারিখাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি ব্যাংক কোম্পানি আইনসহ আর্থিক খাতের বিদ্যমান আইন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম শ্রমঘন শিল্পের বিকাশে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় উদ্যোগ নেওয়া হবে। বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
ড. তিতুমীর দীর্ঘমেয়াদি টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করতে শক্তিশালী বন্ড মার্কেট ও পুঁজিবাজার গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার বলেন, এসএমই অর্থায়ন সহজীকরণ জরুরি এবং এ ক্ষেত্রে বেসরকারি ব্যাংকগুলো এগিয়ে এসেছে। তবে নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি আর্থিক খাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।
ব্যাংকাররা জানান, পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়ন বাড়ছে, তবে এসএমই উদ্যোক্তাদের তথ্য সংরক্ষণে দুর্বলতা ঋণপ্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি করছে। এছাড়া ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের পরিধি বাড়ানো, ঋণপ্রাপ্তির শর্ত সহজ করা এবং এসএমই পণ্যের জন্য কার্যকর বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মুক্ত আলোচনায় বক্তারা সরকারের ব্যাংক নির্ভর ঋণ গ্রহণ কমানোর আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই নেতৃবৃন্দসহ সরকারি ও বেসরকারিখাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
Posted ০৭:২০ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com