• শিরোনাম

    এক ঈশ্বরের আরাধনায় বিশ্বাসী ব্রাহ্মধর্ম

    বিবিএনিউজ.নেট | ২৬ আগস্ট ২০২০ | ২:২৬ অপরাহ্ণ

    এক ঈশ্বরের আরাধনায় বিশ্বাসী ব্রাহ্মধর্ম

    পাটুয়াটুলী ব্রাহ্মসমাজ


    ব্রাহ্মধর্ম বা ব্রাহ্মসমাজ হলো ঊনিশ শতকে স্থাপিত এক সামাজিক ও একটি ধর্মীয় আন্দোলন, যা বাংলার পুনর্জাগরণের পুরোধা হিসেবে পরিচিত। এখান থেকেই বাংলায় নবজাগরণ, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্র্রথম পর্যায় এবং বৃহত্তর ক্ষেত্রে হিন্দু সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। রাজা রামমোহন রায় ব্রাহ্মসমাজ আন্দোলনের প্র্রথম প্র্রবক্তা। ১৮২৮ সালের ২০ আগস্ট হিন্দুধর্ম সংস্কারক রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২-১৮৩৩) ও তার বন্ধুবর্গ মিলে কলকাতায় এক সর্বজনীন উপাসনার মাধ্যমে ব্রাহ্মসমাজ বা ব্রাহ্মসভা শুরু করেন। যুক্তিবাদ প্র্রয়োগের উপর অধিক গুরুত্ব দিয়ে তিনি হিন্দু ধর্ম ও সামাজিক রীতিনীতিগুলি সংস্কারে উদ্যোগী হয়েছিলেন। তাছাড়া তিনি নিজেও একেশ্বরবাদী ধর্ম ও আধুনিক বিজ্ঞানের দ্বারা অনুপ্র্রাণিত হন। তাদের উপাস্য ছিল ‘নিরাকার ব্রহ্ম’। এ থেকেই ধর্মের অনুসারীরা হন ‘ব্রাহ্ম’। আর অনুসারিরা সামাজিকভাবে ব্রাহ্মসমাজ নামে পরিচিত। এরা মূলত ভারতীয় ও বাংলাদেশী।

    রামমোহনের ধর্মীয় সত্য অনুসন্ধানের তৃষ্ণা তাকে উদার মন নিয়ে সকল গুরুত্বপূর্ণ ধর্মের শাস্ত্রসমূহ অধ্যয়নে প্র্রণোদিত করে। এভাবে তিনি শুধু সংস্কৃত ভাষায় হিন্দু ধর্মশাস্ত্রসমূহ- যেমন বেদ অধ্যয়ন করেই ক্ষান্ত হননি; তিনি আরবি ভাষায় কুরআন এবং হিব্রæ ও গ্রিক ভাষায় বাইবেল পাঠ করেন। প্র্রতিটি ধর্মের মূলনীতিগুলি অধ্যয়ন করে দেখতে পান, মানবজাতির নৈতিক পুনর্জাগরণই সকল ধর্মের উদ্দেশ্য। তাই ধর্মের মূূলনীতিগুলি পরিবর্তিত যুগের আলোকে ব্যাখ্যা ও পুনরায় পরীক্ষা করার প্র্রয়োজন অনুভব করেন। তিনি প্র্রতিটি ধর্মের গোঁড়ামি, আনুষ্ঠানিকতা ও কুসংস্কারগুলি বাদ দিয়ে ধর্মের বিশ্বজনীন নীতিশিক্ষাগুলি গ্রহণ করেন। ১৮২৮ সাল নাগাদ তার ধর্মীয় ধ্যান-ধারণা কিছুটা স্পষ্ট রূপ লাভ করে। ঐ বছরের আগস্ট মাসে তিনি ব্রাহ্ম সভা (পরবর্তীসময়ে ব্রাহ্মসমাজ) অর্থাৎ ঈশ্বরের সমাজ প্র্রতিষ্ঠা করেন। এই নতুন ধর্মবিশ্বাসের ধর্মীয় মতবাদসমূহ ব্রাহ্মসমাজের ট্রাস্টের দলিলে লিপিবদ্ধ আছে। যদিও এই নব প্র্রতিষ্ঠিত সমাজের তাত্তি¡ক দাবি ছিল, এটাকে সর্বজনীন ধর্ম হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কিন্তু পরবর্তীতে এটা হিন্দুধর্মেরই একটি শাখায় পরিণত হয় এবং এখনও সেভাবেই আছে।

    Progoti-Insurance-AAA.jpg

    রামমোহন রায় হিন্দুধর্মের ভেতর থেকেই উক্ত ধর্মকে সংস্কার করতে উদ্যোগী হন। কিন্তু তার প্র্রগতিশীল উত্তরসূরি মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৫০ সালে বেদের অভ্রান্ততা ও অপৌরুষত্বে অস্বীকার করেন। এর মাধ্যমে ব্রাহ্মসমাজ মূলধারার হিন্দুধর্ম থেকে বেরিয়ে আসে। ১৮৩৩ সালে ইংল্যান্ডে রামমোহন রায় মারা যাওয়ার পর ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনটি বাধার সম্মুখীন হয়। রামমোহনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহযোগী দ্বারকানাথ ঠাকুরের (১৭৯৪-১৮৪৬) পুত্র দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮১৭-১৯০৫) কাজটি হাতে নেন। তার নেতৃত্বে ব্রাহ্মসমাজ আন্দোলনটি নতুন মাত্রা ও বৈশিষ্ট্য পরিগ্রহ করে। তিনি ১৮৩৯ সালে তত্ত¡বোধিনী সভা নামে একটি সমিতি এবং একটি সংবাদপত্রও প্র্রকাশ করেন। যেটি এই নতুন ধর্মবিশ্বাস প্র্রচারের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক সংস্কার সাধনের পক্ষেও জনমত গড়ে তোলে।

    রাজা রামমোহন

    রামমোহন রায়ের মৃত্যুর পর মৃতপ্র্রায় ব্রাহ্মসমাজে দেবেন্দ্রনাথ নতুন জীবনের সূচনা করেন। কেশবচন্দ্র সেনের (১৮৩৮-১৮৮৪) প্র্রগতিশীল নেতৃত্বে আন্দোলনটি আরও ব্যাপক ভিত্তি লাভ করে। কেশবচন্দ্র ১৮৫৭ সালে ব্রাহ্মসমাজে যোগদান করেন এবং মাত্র এক বছরের মধ্যে দেবেন্দ্রনাথের ডান হাতে পরিণত হন। কিন্তু বর্ণপ্র্রথা পালন ও সামাজিক সংস্কারসমূহকে কেন্দ্র করে দেবেন্দ্রনাথ ও কেশবচন্দ্রের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। যেখানে দেবেন্দ্রনাথের পদ্ধতি ছিল কিছুটা রক্ষুশীল, সেখানে কেশবচন্দ্র জাতিভেদ প্র্রথা পুরোপুরি বিলোপ করার পক্ষে মতপ্র্রকাশ করেন এবং সমাজ সংস্কার বিশেষত, স্ত্রীশিক্ষা ও নারীমুক্তি আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে যান। এ সময়ে হিন্দুধর্মের বিপক্ষে খ্রিস্টান প্র্রচারকদের অত্যাধিক আক্রমণাত্মক প্র্রচারণা চলছিল। ব্রাহ্মসমাজের মধ্য থেকে আমূল সংস্কারের সমর্থক শ্রেণীটি বেদের অভ্রান্ততা নিয়ে প্র্রশ্ন তুলতে শুরু করে। এদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত (১৮২০-১৮৮৬)। ঐ সময় পর্যন্ত বেদ যে অভ্রান্ত সেটা ব্রাহ্ম ধর্মীয় বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে বিবেচিত হতো। ১৮৪৭ সালের দিকে পুঙ্খানুপুঙ্খ সমীক্ষার পর ব্রাহ্ম নেতৃবৃন্দের মনে দৃঢ়প্র্রত্যয় জন্মে যে, বেদ অভ্রান্ত এই মতবাদ গ্রহণযোগ্য নয়। তাই একেশ্বরবাদী ধারণা সম্বলিত উপনিষদের নির্বাচিত অংশসমূহের ওপর ভিত্তি করে ব্রাহ্ম ধর্মবিশ্বাস পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করা হয়। ব্রাহ্মসমাজের সংশোধিত মতবাদটি ১৮৫০ সালে ‘ব্রাহ্ম ধর্ম’ অথবা ‘এক সত্য ঈশ্বরের পূজারীদের ধর্ম’ নামে পুস্তকাকারে প্র্রকাশিত হয়। ১৮৬৮ সালে কেশবচন্দ্র সেন ভারতের ব্রাহ্মসমাজ নামে একটি নতুন সংগঠন গড়ে তোলেন। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের নেতৃত্বে অন্য সংগঠনটি আদি ব্রাহ্মসমাজ নামে পরিচিতি লাভ করে। বোম্বাই, মাদ্রাজ ও অন্যান্য স্থানে বক্তৃতা-সফরের মাধ্যমে কেশবচন্দ্র সেন ভারতের বৃহৎ অংশব্যাপী ব্রাহ্মসমাজের বাণী ছড়িয়ে দেন। প্র্রধানত তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করার ফলে ১৮৭২ সালে সিভিল বিবাহ আইন পাস হয়। এটি ধর্মীয় আচারাদি পালন ব্যতিরেকে অযাজকীয় বিবাহ অনুষ্ঠানের বিধান প্র্রবর্তন করে। আইনটি একবিবাহকেও বাধ্যতামূলক করে এবং কনে ও বরের বয়সের নিম্নসীমাও যথাক্রমে ১৪ ও ১৮ বছরে নির্ধারিত করে দেয়। শুধু তাই নয়, ইসলাম ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনের প্র্রথম বাংলা অনুবাদের কাজও কেশবচন্দ্র সেনের নির্দেশে করা হয়। প্র্রথম পূর্ণাঙ্গ কোরআন শরীফের বাংলা অনুবাদক গিরিশ চন্দ্র সেন তার গুরু ব্রাহ্মধর্মের প্র্রধান কেশব চন্দ্র সেনের কাছ থেকে ধর্ম প্র্রচারক হিসেবে উপাধি পান। এরপর তিনি কিছু সময় ময়মনসিংহে অবস্থান করেন। তবে তিনি ব্রাহ্মধর্মে প্র্রচারের জন্য বিভিন্ন স্থান ভ্রমণ অব্যাহত রাখেন। ১৮৭৫/৭৬ সালের দিকে ব্রাহ্মধর্মে ব্যক্তিরা হিন্দু, খ্রিস্টান, ইসলাম ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ গুলো বাংলায় অনুবাদ করার জন্য সিদ্ধান্ত নেন। তাদের ধারণা ছিল সকল ধর্মই শান্তি চায়। তাই তারা প্র্রধান ৪ ধর্মকে একত্রিত করে ধর্ম প্র্রচার করেন। গিরিশ চন্দ্র সেন আরবি ও ফার্সি জানতেন। তাই ইসলাম ধর্মের পবিত্র কোরআন শরীফ অনুবাদের জন্য গিরিশ চন্দ্র সেনকে দায়িত্ব দেন। ব্রাহ্মধর্মের গুরু কেশব সেনের অনুপ্র্রেরণায় তিনি কোরআন শরীফের বাংলা অনুবাদ শুরু করেন। তবে ঐ সময় এ ধরনের একটি কাজ করা ছিল খুবই কঠিন। কিন্তু তিনি ঐ সময় রক্ষণশীল সমাজকে তোয়াক্কা করেনি। শুরু করে দেন কোরআন চর্চা। ১৮৮১ সালে ১২ ডিসেম্বর তিনি কোরআন শরীফের ১ম খণ্ড প্র্রকাশ করেন। এটি প্র্রকাশ হয় শেরপুরে চারু প্র্রেস থেকে। এরপর তিনি কোরআন শরীফের বাংলা অনুবাদ এর বাকি অংশ প্র্রকাশ করেন কোলকাতার বিধমন যন্ত্রে। কোরআন শরীফের বাংলা অনুবাদ মোট ১২ টি খণ্ডে প্র্রকাশ হয়। অনুবাদ শেষ হয় ১৮৮৬ সালে। ১৮৮৬ সালে তিনি ১২ টি খণ্ডকে একত্র করে কোরআন শরীফের পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদ প্র্রকাশ করেন। ফলে কোরআন শরীফ বঙ্গানুবাদের ইতিহাসে গিরিশচন্দ্র সেনের পাশাপাশি তার নামও চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।কিন্তু কেশব সেনের নির্দিষ্ট কিছু ধারণা ও কার্যকলাপ তার অনুসারি যুবা ও চরমপন্থীদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে। ব্রিটিশ সরকারের প্র্রতি কেশব সেনের অত্যুৎসাহী আনুগত্যকে অপছন্দ করত এবং কুচবিহারের রাজার সাথে তার কন্যার বিবাহের ব্যাপারে আচরণ নিয়েও ক্ষুব্ধ ছিল। কনে ও বর উভয়ই অপ্র্রাপ্তবয়স্ক ছিল এবং সনাতন হিন্দু ধর্মীয় আচার অনুযায়ী ব্রাহ্মণ পুরোহিতরা এ বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পাদন করে। এতে ব্রাহ্মসমাজের ধর্মবিশ্বাস ও প্র্রথার নিদারুণ লঙ্ঘন ঘটে। তার কর্তৃত্বপরায়ণতা ও অযৌক্তিক আচরণও অনুসারীদের উত্তেজিত করে। শেষ পর্যন্ত শিবনাথ শাস্ত্রী (১৮৪৭-১৯১৪) ও আনন্দমোহন বসুর (১৮৪৭-১৯০৬) নেতৃত্বে আমূল সংস্কারের পক্ষপাতী শ্রেণীর লোকজন কেশবচন্দ্র সেনের সমাজ থেকে বের হয়ে আসে এবং ১৮৭৮ সালে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ গঠন করে। এটি প্র্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে একটি গঠনতন্ত্র তৈরি করে এবং সর্বজনীন ধর্ম প্র্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যকে জনসমক্ষে ঘোষণা করে। এ মহিমান্বি^ত দাবি সত্ত্বেও ব্রাহ্ম আন্দোলন বেশি দূর অগ্রসর হতে পারে নি। বরং দিনে দিনে শক্তি হারাতে থাকে। দেবেন্দ্রনাথ কিছুটা হলেও হিন্দু রীতিনীতি রক্ষা করেছিলেন, কিন্তু ব্রাহ্মদের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের ফলে ব্রাহ্মসমাজ ভেঙে যায়। ঊনিশ শতকের শেষের দিকে ‘নবজাগ্রত’ হিন্দুধর্ম ব্রাহ্মসমাজ আন্দোলনের অধিকাংশ ধর্মীয় ও সামাজিক ধ্যান-ধারণা আত্মস্থ করতে শুরু করে। ১৯০১ সালে ব্রিটিশ ভারতের প্র্রিভি কাউন্সিল ঘোষণা করে যে, “ব্রাহ্মদের অধিকাংশ হিন্দু নয়। তাঁদের নিজস্ব ধর্ম রয়েছে।”


    দেবেন্দ্রনাথ

    দেবেন্দ্রনাথের ব্রাহ্মধর্ম বা ধর্মীয় ও নৈতিক বিধান ‘ব্রাহ্মধর্মের মৌলিক নীতি’তে পরিণত হয়। এই গ্রন্থে ব্রাহ্মদের কর্তব্যগুলি বিবৃত হয়েছে। সেই সঙ্গে ব্রাহ্মদের সভা বা উপাসনা সর্বদা ‘১৮৩০ সালের অছি নীতি’গুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

    ব্রাহ্মধর্মের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও কালরেখা :
    ১৮২৮ : রামমোহন রায় ‘ব্রাহ্মসভা’ স্থাপন করেন।
    ১৮২৯ : এশিয়াটিক সোসাইটি প্র্রথম দুই ভারতীয়কে সদস্যপদ দেন। এরা হলেন দ্বারকানাথ ঠাকুর ও প্র্রসন্নকুমার ঠাকুর।
    ১৮৩০ : দ্বারকানাথ ঠাকুর, প্র্রসন্নকুমার ঠাকুর ও অন্যান্যরা একটি আইনি অছি নথির মাধ্যমে প্র্রথম ব্রাহ্ম উপাসনা মন্দির প্র্রতিষ্ঠা করেন। এই উপাসনা মন্দিরটি কলকাতার চিৎপুর (জোড়াসাঁকো) অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। রামমোহন রায় ব্রিটেনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
    ১৮৩৩ : ব্রিটেনে রামমোহন রায়ের মৃত্যু ঘটে।
    ১৮৩৯ : ৬ অক্টোবর দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর তত্ত্ববোধিনী সভা প্র্রতিষ্ঠা করেন।
    ১৮৪৩ : তত্ত্ববোধিনী সভা ব্রাহ্মসভার সঙ্গে মিশে যায়। কলকাতা ব্রাহ্মসমাজ প্র্রতিষ্ঠিত হয়। দ্বারকানাথ ঠাকুর রাজশক্তির বিরুদ্ধাচারণ করে গ্রেট ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে কোম্পানি স্থাপন করেন।
    ১৮৫০ : দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই খণ্ডে ব্রাহ্মধর্মঃ গ্রন্থটি প্র্রকাশ করেন। ব্রাহ্মধর্ম বেদের ভ্রান্ততা স্বীকার করে হিন্দুধর্ম থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং নতুন ধর্ম হিসেবে আত্মপ্র্রকাশ করে।
    ১৮৫৫ : কেশবচন্দ্র সেন ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি গঠন করেন। পরে তিনি জেমস লং ও চার্লস ডাল নামে দুই খ্রিস্টান মিশনারির সঙ্গে যুক্ত হন। ডাল ছিলেন একজন পর্যটক ইউনিটারিয়ান মিশনারি। তিনি বোস্টনে ক্যারোলিন ওয়েলস হিলি ডাল নামে এক নারীবাদীর সঙ্গে বিবাহ-সংক্রান্ত সমস্যায় জড়িয়ে পড়ে মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। পরে তিনি চিরকালের জন্য ভারতে চলে এসে তার পত্নীকে ‘বোস্টন বিবাহবিচ্ছেদ’ অনুমোদন করেন। তিনিই প্র্রথম ইউনিটারিয়ান মিশনারি যিনি বিদেশে ধর্মপ্র্রচার করেছিলেন।
    ১৮৫৬ : দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর সিমলার পাহাড়ে যান।
    ১৮৫৭ : দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ইউনিটারিয়ান প্র্রচারক চার্লস ডালকে জানান যে, ডালকে আর কলকাতা ব্রাহ্মসমাজে প্র্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং “তিনিও সমাজে যিশুর নাম শুনবেন না।” ডাল তখন রামমোহন রায় সোসাইটি গঠন করে উদারপন্থী ব্রাহ্মদের দেবেন্দ্রনাথের কাছ থেকে সরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। কেশবচন্দ্র সেন কলকাতা ব্রাহ্মসমাজে যোগ দেন। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই সময় সিমলায় ছিলেন। সিপাহি বিদ্রোহ শুরু হয়। ব্রাহ্মসমাজের অছি পরিষদের প্র্রায় সকল সদস্য ব্রিটিশ রাজশক্তিকে সমর্থন করেন এবং বিদ্রোহীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
    ১৮৬০ : চার্লস ডাল খোলাখুলি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আক্রমণ করেন এবং থিওডোর পার্কার ও উইলিয়াম চ্যানিংয়ের হিন্দুদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার পদ্ধতি অনুসারে উদারপন্থী ব্রাহ্ম নব্য-খ্রিস্টান গোষ্ঠীটিকে অনুমোদন করেন।
    ১৮৬৬ : প্র্রগতিশীল বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীটির থেকে নিজেদের পৃথক করার জন্য ব্রাহ্মসমাজের প্র্রথম অংশ ও কলকাতা ব্রাহ্মসমাজের নাম হয় ‘আদি ব্রাহ্মসমাজ’।
    ১৮৭১ : আদি ব্রাহ্মসমাজের নেতারা বিতর্কিত ‘ব্রাহ্ম বিবাহ বিল, ১৮৭১’-এর পরিপ্র্রেক্ষিতে খোলাখুলিভাবে প্র্রগতিশীল গোষ্ঠীটির বিরোধিতা করেন। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেন, “আমরা প্র্রথমে ব্রাহ্ম, পরে ভারতীয় বা হিন্দু।”
    ১৮৭২ : বিবাহ-সংক্রান্ত বিলটি বাহ্যিকভাবে ব্রাহ্মদের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ না করে ‘১৮৭২ সালের বিশেষ বিবাহ আইন (আইন তিন)’ হিসেবে পাস করা হয়। এই আইনে বলা হয় যে, এই আইনে বিয়ে করতে হলে ‘আমি হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান বা ইহুদি নই’ বলে ঘোষণা করা বাধ্যতামূলক। এর মাধ্যমে এটি একমাত্র ব্রাহ্মদের ক্ষেত্রেই প্র্রযোজ্য করা হয়।
    ১৮৭৮ : ব্রাহ্মসমাজের বিভক্ত অংশটি আবার ভেঙে যায়। এই অংশের অধিকাংশ সভ্য মধ্যপন্থী সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ গঠন করেন। আদি ব্রাহ্মসমাজের দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রাজনারায়ণ বসু তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের বিশিষ্ট নেতারা ছিলেন শিবনাথ শাস্ত্রী, আনন্দমোহন বসু ও শিবচন্দ্র দেব।

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতৃপুরুষ

    বাংলাদেশে ব্রাহ্মসমাজ : আগস্ট ১৮২৮ সালে হিন্দুধর্ম সংস্কারক রাজা রামমোহন রায় ব্রাহ্মসমাজ প্র্রতিষ্ঠা করেন। তার মৃত্যুর পর দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দায়িত্ব নেন। নিরাকার এক ঈশ্বরবাদী ব্রাহ্মমত উন্মুক্ত ছিল সব ধর্মের লোকের জন্য। তাদের মূল উদ্দেশ্যে ছিল সমাজ থেকে ধর্মীয় গোঁড়ামি, মাত্রারিতিক্ত অপচয়, পৌত্তলিকতা, যৌতুক প্র্রথা, বিধবা বিবাহ, নারীশিক্ষা প্র্রভৃতি দূর করা। ঢাকায় ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত হয় এই ধর্ম প্রবর্তনের প্রায় দুই যুগ পর। নতুন এই মতাদর্শে আকৃষ্ট হয়ে ঢাকার অনেক যুবক এই মতে দীক্ষিত হন। এজন্য অনেকে পরিবার-পরিজন পর্যন্ত তাদের ত্যাগ করেন। যে উৎসাহ উদ্দিপনায় যুবকরা এই ধর্মমতে দীক্ষিত হয় পরে তারাই আবার ফিরে যান রক্ষণশীল হিন্দু সমাজে। সার্বজনীন ধর্ম হিসেবে প্র্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা থাকলেও ক্রমেই এটি হিন্দু ধর্মের একটি শাখা হিসেবে পরিণত হয়। ঢাকার শিক্ষা, সংবাদপত্রসহ বহু সমাজসেবামূলক কাজে ব্রাহ্মসমাজের অবদান উল্লেখযোগ্য। ঢাকার পাটুয়াটুলী, আরমানিটোলা ও নিমতলী কুঠির বিধানপল্লীতে ছিল তাদের উপাসনালয়। এমনি একটি ব্রাহ্মসমাজ মন্দির রয়েছে পুরোন ঢাকার পাটুয়াটুলী এলাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে। এটি ‘পূর্ব বাঙ্গালা ব্রাহ্মসমাজ মন্দির’ নামেও পরিচিত। বর্তমানে সারা দেশে মোট ব্রাহ্মের সংখ্যা প্রায় ১০০ এর কাছাকাছি। ব্রাহ্মসমাজের সাত সদস্যর কার্যনির্বাহী কমিটি রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে সাত সদস্যর ট্রাস্টি বোর্ড। এরাই মন্দিরসহ সব সম্পদের দেখভালের দায়িত্বে আছেন। মন্দিরের আচার্যের দায়িত্বে আছেন সবুজ কুমার পাল। তিনিই প্রার্থনাসভা পরিচালনা করেন। ব্রাহ্মসমাজের মন্দিরে রয়েছে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের প্রবেশাধিকার। প্রতি রবিবারই অনুষ্ঠিত হয় সাপ্তাহিক প্রার্থনা। এছাড়াও বছরে ছয় থেকে সাতটি উৎসব আয়োজিত হয়ে থাকে মন্দিরটিতে। বিশেষ করে জানুয়ারি, মে, জুন ও সেপ্টেম্বর মাসে।

    পাটুয়াটুলী ব্রাহ্মসমাজ মন্দির: পুরান ঢাকার সদরঘাট এলাকার বাংলাবাজার চৌরাস্তার মোড় থেকে ডানে কিছু দূর সামনে গেলেই পড়বে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল। ঠিক এর পাশেই অবস্থিত মন্দিরটি। ১৯২৬ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে এসেছিলেন এই মন্দিরটি দেখতে। এখানেই বসবাস করেন বাংলাদেশের প্রথম নারীবিবাহ নিবন্ধক কবিতা রানী দত্ত রায় ও চন্দনা পাল।

    ১৮৪৬ সালের দিকে ব্রজসুন্দর মিত্র, যাদবচন্দ্র বসু, গোবিন্দচন্দ্র বসু, রামকুমার বসুসহ অন্যরা মিলে ঢাকায় ব্রাহ্মসমাজ আন্দোলন শুরু করেন। প্র্রথম দিকে ব্রাহ্মসমাজের সভ্যদের বাড়িতেই এর কার্যক্রম চলত। তবে ঢাকা ব্রাহ্মসমাজের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ব্রজসুন্দর মিত্রের ভাড়াবাড়িতে। পরবর্তীতে ১৮৬৯ সালে কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক দীননাথ সেনের ভূমিকায় ঢাকায় ব্রাহ্মসমাজের এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর প্র্রেক্ষিতে ২৫ আগস্ট ১৮৬৬ সালে ৯ সদস্যের নির্মাণ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে ছিলেন- সাধারণ সম্পাদক দীননাথ সেন, অক্ষয়কুমার সেন (বিদ্যালয়ের পরিদর্শক), রাধিকামোহন রায় (জমিদার), উমেচন্দ্র দাস (কমিশনার অফিসের হেডক্লার্ক), গোপীমোহন বসাক (পোগোজ স্কুলের প্র্রধানশিক্ষক), রামকুমার বসু (ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট), অভয়চন্দ্র দাস (কমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী), কৈলাসচন্দ্র ঘোষ (কলেজিয়েট স্কুলের প্র্রধানশিক্ষক) ও বৈকুণ্ঠনাথ সেন প্র্রমুখ। সেই সময় ভবনটি নির্মাণে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। মন্দিরটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য ব্যাপক আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবাব আব্দুল গনি, নবাব আহসানুল্লাহ, ত্রিলোচন চক্রবর্তী ও জোয়াকিন পোগজসহ প্রমুখ ব্যক্তিরা। মন্দিরটি স্থাপনের আগে ঢাকার ব্রাহ্মরা উপাসনার জন্য একত্রিত হত আরমানিটোলার ব্রাহ্মসমাজগৃহে। জনৈক ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিজের বাড়িটি ব্রাহ্মসমাজকে দান করেন। মতান্তরে এই জমির মালিক ছিলেন কলতাবাজারের জমিদাররা। এই জমিদারদের মধ্যে ছিলেন- শ্যামচাঁদ বসাক, জগন্নাথ বসাক, সনাতন ও কৃষ্ণদাস বসাক প্র্রমুখ। ব্রাহ্ম মন্দিরের জন্য মোট ৫,৮৭৫ জন চাঁদা দেয়। এই জমি রেজিস্ট্রেরি করা হয় ১০ সেপ্টেম্বর ১৮৬৮ সালের দিকে। অবশ্য এপ্র্রিল ১৮৬৭ সালেই অভয় কুমার দত্ত পাটুয়াটুলীর মোড়ে মন্দিরের ভিত্তিপ্র্রস্তর স্থাপন করেন। উমাকান্ত ঘোষ এই মন্দির ভবনের নকশা প্র্রস্তুত করেন; রামমাণিক্য সেন নির্মাণ কাজ পরিচালনা করেন। ডেভিড কফ এই মন্দিরটিকে সে সময়কার দক্ষিণ এশিয়ার ব্রাহ্ম মন্দিরের মধ্যে সর্ববৃহৎ ও আকর্ষণীয় বলে উল্লেখ করেন। ৭ ভাদ্র ১২৭৬ বঙ্গাব্দ/২২ আগস্ট ১৮৬৯ সালে মন্দিরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। শহরের প্র্রায় সকল ধর্মের লোকের উপস্থিতিতে ৫ ডিসেম্বর ১৮৬৯ সালে মন্দির উদ্বোধন হয়। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য ব্যাপক আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন নবাব আবদুল গণি, নবাব আহসানুল্লাহ, ত্রিলোচন চক্রবর্তী, জোয়াকিন পোগোজ, বরদাকিঙ্কর রায়, ল²ীকান্ত দাস, ডেভিড, কৃষ্ণকুমার বসু প্র্রমুখ। প্র্রতি রবিবার সন্ধ্যার এখানে প্র্রায় তিনশ সভ্য উপাসনার জন্য উপস্থিত থাকতেন বলে জানা যায়। ১২৭৬ বঙ্গাব্দ/১৮৭০ সালে এর সর্বপ্র্রথম সম্পাদক ছিলেন দীননাথ সেন।

    মোটা লোহার তারে বাঁধা ডুলি। তাতে ভূগর্ভ থেকে উঠে আসে কয়লা। এটাই হলেজ পদ্ধতি। এ দেশের প্রথম শিল্পোদ্যোগী দ্বারকানাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত ঘর, কয়লাখনি ও বাংলো আজ শুধুই ভগ্নস্তূপ।

    মন্দিরের বর্ণণা: চার ফুট উঁচু মঞ্চের উপর পূর্ব-প্রশ্চিমে আয়তকার মন্দিরটি ব্রিটিশ স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত। মন্দির ভবনের ছাদের সামনের অংশে একটি নকশাদ্বার চ‚ড়ায় লেখা আছে ‘ব্রাহ্মসমাজ’। সাদামাটা এ মন্দিরে প্র্রবেশ করতে হয় পাঁচটি প্র্রশস্ত সিঁড়ি বেয়ে। সিঁড়িগুলো উপরের দিকে পাশে ক্রমশ কমে গেছে। সিঁড়ির ঠিক মাঝখানে উন্মুক্ত খিলান প্র্রবেশপথ। প্র্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৫৫ ফুট প্র্রশস্ত মন্দিরটির চারপাশে ১৫ ফুট প্র্রশস্ত বারান্দার ঠিক মাঝখানে বিশাল একটি হলঘর। বারান্দার চারকোণের উপরের অংশে আছে চারটি বর্গাকার কক্ষ। পেছন দিকের বারান্দার অংশে ঘরগুলোতে উঠার জন্য দুটি আলাদা সংকীর্ণ সিঁড়ি। উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত মন্দিরের মূল হলঘরটির দৈর্ঘ্য ৫৫ ফুট, প্র্রশস্ততা ২২ ফুট এবং উচ্চতা ২১ ফুট। চারপাশের বারান্দা থেকে হলঘরে প্র্রবেশের নির্দিষ্ট দূরত্বে মোট ১৬টি প্র্রবেশপথ আছে। এরমধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ৫টি করে আর পূর্ব-পশ্চিমে ৩টি করে প্র্রবেশপথ আছে। বিশালাকার এই প্র্রবেশপথগুলো সবই খড়খড়ির। হলঘরের উত্তর অংশের ঠিক মাঝখানে চার ফুট উঁচু বেদিতে উঠতে হয় চারটি প্র্রশস্ত সিঁড়ি বেয়ে। এই বেদির উপর বসে সম্পাদক ব্রাহ্মসমাজের মতবাদের কথা বলেন। এই উপাসনালয়ে কোনো প্র্রার্থনা বা পূজা হয় না। বেদির সামনে বসে শিল্পীরা ব্রাহ্মসমাজের বিভিন্ন গান গেয়ে থাকে। আর চারপাশের বেঞ্চে বসে অতিথিরা তা শুনে থাকে। হলঘরটির পূর্ব ও পশ্চিম দিকের উপরের অংশে আছে রেলিং দেয়া আয়তাকার বারান্দা। মন্দির নির্মাণের সময়ই মন্দিরের পেছনের অংশে সমাজের প্র্রচারকদের জন্য কয়েকটি ভবন নির্মাণ করা হয়।

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ২:২৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২০

    bankbimaarthonity.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    পারিবারিক বলয়ে বন্দী সানলাইফ

    ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি