নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬ প্রিন্ট ১৯১ বার পঠিত
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশে এর প্রভাব এবং মোকাবেলায় কর্মপন্থা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় জ্বালানি সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ৯ এপ্রিল ২০২৬ অনুষ্ঠিত এ সভায় ব্যবসায়ী, নীতিনির্ধারক ও খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
সভায় ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, জ্বালানি খাত দেশের শিল্প, পরিবহন ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বাংলাদেশের জ্বালানি নির্ভরতার দুর্বলতা সামনে এনে দিয়েছে। তিনি জানান, বিশ্বে প্রায় ২০% তেল ও ২৫%-এর বেশি এলএনজি বাণিজ্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে হয়, আর বাংলাদেশ তার প্রায় ৯০% জ্বালানি এই রুটের ওপর নির্ভর করে আমদানি করে। ফলে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ১০ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। দাম যদি ১২০ ডলার ছাড়ায়, তবে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াতে পারে ৪–৫ বিলিয়ন ডলার। এতে শিল্প উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, পোশাক খাতে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫০% কমেছে, সিমেন্ট উৎপাদনে ব্যাগপ্রতি খরচ ২৫–৩০ টাকা বেড়েছে এবং পরিবহন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় তিনি অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্প সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই জ্বালানি ঘাটতি থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তা আরও তীব্র করেছে। তিনি জানান, কৃষি খাতের জন্য জুন পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন সার প্রয়োজন, তবে গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তিনি গ্যাস অনুসন্ধানে গতি বাড়ানো এবং নীতিগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎচালিত যানবাহন নীতিমালা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এফবিসিসিআই প্রশাসক মোঃ আব্দুর রহিম খান বলেন, জ্বালানি সংকট মানুষের জীবনযাত্রার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এ সংকট মোকাবেলায় তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ, সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে শুল্ক হ্রাস জরুরি।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য (বিদ্যুৎ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার (অব.) বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্যাস অনুসন্ধানের বিকল্প নেই।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া ভর্তুকি কমাতে খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেন। তিনি জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের ওপর নীতিগত পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হবে।
বিএসআরইএ সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানান। সংগঠনের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি জাহিদুল আলম জানান, সৌর যন্ত্রপাতি আমদানিতে উচ্চ শুল্ক এ খাতের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।
ইডকলের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নাজমুল হক জাতীয় পর্যায়ে টাস্কফোর্স গঠন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিজিএমইএ প্রতিনিধি বলেন, ইউরোপে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বেশি হওয়ায় তারা তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা হতে পারে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পিডিবির ভর্তুকি প্রায় ৬৩ হাজার কোটি টাকা, যা জ্বালানির উচ্চ ব্যয়ের ফল। এই চাপ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, জ্বালানি সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো গেলে কম দামে জ্বালানি কিনে ভবিষ্যৎ ব্যয় কমানো সম্ভব। পাশাপাশি একটি সমন্বিত জ্বালানি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় ডিসিসিআই নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
Posted ০৫:২৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com