নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 147 বার পঠিত

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ধারাবাহিক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বহাল রাখার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। বেসরকারিখাতের শীর্ষ সংগঠন হিসেবে সংস্থাটি মনে করে, চলমান এই নীতিগত কৌশল দেশের উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করার পরিবর্তে ক্রমশ সংকুচিত করে দিচ্ছে।
আজ সকালে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর মুদ্রনীতি ঘোষণার পর এমন মন্তব্য করেছে ডিসিসিআই।
ডিসিসিআইয়ের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর মুদ্রানীতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতির কাঙ্খিত নিয়ন্ত্রণ অর্জিত হয়নি বরং বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, এই নীতির ফলে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংস্থাটি বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বেসরকারিখাতে ঋণ প্রবাহের ভয়াবহ সংকোচন নিয়ে। ডিসেম্বর ২০২৫ সালে বেসরকারিখাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৬.১ শতাংশে যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। উচ্চ সুদের হার ও ঋণ গ্রহণের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ, শিল্প সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ে ব্রড মানি প্রবৃদ্ধি জুন ২০২৫-এর ৭ শতাংশ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫-এ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৬ শতাংশে। এই চিত্র অর্থনীতিতে মুদ্রা সম্প্রসারণের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে যা বিদ্যমান কঠোর মুদ্রানীতির কার্যকারিতা ও নীতিগত সামঞ্জস্যতা নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন তোলে। পাশাপাশি, বেসরকারিখাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিও হ্রাস পেয়ে ২০২৫ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ২২.৪৮ শতাংশে, যেখানে ২০২৩ অর্থবছরে তা ছিল ২৪.১৮ শতাংশ যা বিনিয়োগ আস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন।
ডিসিসিআইয়ের মতে, এই ধরনের অকার্যকর ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিপ্রয়োগের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়।
রপ্তানি খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক ছয় মাসে রপ্তানিতে ধারাবাহিক পতন লক্ষ্য করা গেছে যা ডিসেম্বর ২০২৫-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১৪.২৫ শতাংশে। এই প্রবণতা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা দুর্বল করছে যা সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।
সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনায় ঢাকা চেম্বার দৃঢ়ভাবে মনে করে, অতিমাত্রায় কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কাঠামোর মধ্যে বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার, শিল্পায়ন ত্বরান্বিতকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়। সংস্থাটি আগামী নির্বাচিত সরকারের কাছে নীতিহার হ্রাসসহ একটি বাস্তবভিত্তিক, সমন্বিত ও প্রবৃদ্ধিবান্ধব মুদ্রানীতির প্রত্যাশা করছে যেখানে রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, নমনীয় তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো নিশ্চিত করা হবে।
Posted ৫:৩৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy


