নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬ প্রিন্ট ১৬৭ বার পঠিত
২০২৫ সালে ২৮২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বেড়ে দেশের নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৪৯৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ২০২৪ সালে এই বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ২১৭ কোটি ৩৩ লাখ । সে হিসেবে বিনিয়োগ বেড়েছে ২.৫২ শতাংশ। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে খাতের ৪৬ টি কোম্পানির পাঠানো অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আইডিআরএ’র তথ্যানুযায়ী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের চেয়ে ২০২৫ সালে নন লাইফ বীমা খাতের ২২ টি কোম্পানির বিনিয়োগ কমেছে, বেড়েছে ২৪ টির।
তবে আইডিআরএ সরবরাহকৃত কয়েকটি কোম্পানির বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে অসঙ্গতি পেয়েছে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি। যে কারণে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স,প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে পত্রিকাটি নিজস্ব বিশ্লেষণে সঙ্গতিপূর্ণ তথ্য ব্যবহার করেছে।
খাতের সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের বিনিয়োগ ৫৫ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৮২ কোটি টাকায়। এছাড়া প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ সর্বোচ্চ ২০৩ কোটি টাকা বেড়ে ৩১৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ১০৮ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৪৬৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
অন্যদিকে পিপলস, পাইওনিয়ার, ইউনাইটেড, সেনা কল্যাণ ও সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানির বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে কিছু প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রবণতাও দেখা গেছে। গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৩৭ কোটি টাকা কমে ৬৭৮ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। একইভাবে শিকদার, মার্কেন্টাইল ইসলামি, প্রাইম, প্রভাতী ও ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সসহ কয়েকটি কোম্পানির বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রবণতা থাকলেও খাতটিতে অসমতা রয়ে গেছে। কিছু বড় কোম্পানির শক্তিশালী পারফরম্যান্স মোট প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ভূমিকা রাখলেও ছোট ও মাঝারি কোম্পানির একটি অংশ এখনও চাপের মধ্যে রয়েছে।
আইডিআরএ’তে পাঠানো দেশের ৪৬টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানির অনিরীক্ষিত তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে রাষ্ট্রায়ত্ব সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের বিনিয়োগ ৫৫ কোটি টাকা বেড়ে ৫২৮২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ১৬ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৫ কোটি টাকায়। অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৪৪ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে মাত্র ৭২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৩ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে ১২৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৫ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে ৯৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ কোঅপারেটিভ ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ২৫ লাখ টাকা হ্রাস পেয়ে ২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৫ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে ১২১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ১৬ লাখ টাকা বেড়ে ২৩২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৫ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে ২৭৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ১৭ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৬৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ১০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৭ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৫২ লাখ টাকা হ্রাস পেয়ে ৩৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৩ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে ১৭৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৬৩ লাখ টাকা বেড়ে ৭৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৪ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৮কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে ২৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ২ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে ৮১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৩৭ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে ৬৭৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
ইসলামি কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৮ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
ইসলামি ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশের বিনিয়োগ ১ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১০৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। জনতা ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ১ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে ৬৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
কর্ণফুলি ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৩ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১২৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৭ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৮৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
মার্কেন্টাইল ইসলামি ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ১৬ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে ১৩০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
নিটল ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ১৯ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১০৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
নর্দার্ণ ইসলামি ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ১ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে ১৫৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৮ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
পিপলস ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ১৫ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২৩২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ১ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে ৯৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ২ কোটি টাকা বেড়ে ২০৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ২০৩ কোটি টাকা বেড়ে ৩১৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ১৫ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে ৮৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৮ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে ৮৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৬১ লাখ টাকা বেড়ে ৯৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ১০৮ কোটি টাকা বেড়ে ৪৬৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ১০কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে ৫৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
রূপালী ইন্স্যুরেন্স ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৮ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে ১০১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ১৬ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৭৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
শিকদার ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৫৭ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে ৭৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ১ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৬৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৪১ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ১ কোটি টাকা বেড়ে ১২৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
তাকাফুল ইসলামি ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ১ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে ৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ৩ কোটি টাকা কমে ১৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ১৪ কোটি টাকা বেড়ে ১৭৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
Posted ০৯:২২ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com