নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ প্রিন্ট ১৯৭ বার পঠিত
নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও দেশের নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পুনঃবীমা চুক্তি (রিইন্স্যুরেন্স ট্রিটি) নবায়নের সার্টিফিকেট এখনো ঝুলিয়ে রেখেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (এসবিসি)।
নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর ৩১ মার্চের মধ্যে এসবিসির সঙ্গে বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলোর পুনঃবীমা চুক্তি নবায়ন সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও চলতি বছর তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
এদিকে, চলতি বছরের চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে বকেয়া পুনঃবীমা প্রিমিয়ামের অন্তত ৩০ শতাংশ পরিশোধের শর্ত আরোপ করেছে এসবিসি। এতে করে বীমা খাতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে উদ্ভূত সংকট নিরসনে রোববার বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) নেতারা এসবিসির সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বিআইএ প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়।
বৈঠকে বিআইএ’র পক্ষ থেকে চলমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য শর্ত শিথিল করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, অনেক কোম্পানির বীমা দাবি বাবদ অর্থ দীর্ঘদিন ধরে এসবিসির কাছে পাওনা রয়েছে।
প্রতিনিধি দল দাবি করে, এসব দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি করে প্রিমিয়ামের সঙ্গে সমন্বয় করা উচিত। এছাড়া অতিরিক্ত নথিপত্র চাওয়ার কারণে অনেক দাবিই নিষ্পত্তি হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
তবে এসব বিষয়ে কোনো সমাধান ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল পুনরায় আলোচনায় বসবে দুই পক্ষ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সমাধান না হলে পুনঃবীমা চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা বীমা খাতে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
এর আগে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের পুনঃবীমা চুক্তি নবায়ন প্রসঙ্গে এসবিসিকে একটি চিঠিও দিয়েছেন বিআইএ প্রেসিডেন্ট। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বকেয়া প্রিমিয়ামের ৩০ শতাংশ পরিশোধ এবং মেরিন কার্গো পলিসির ক্ষেত্রে প্রতি মাসে ইড়ৎফবৎবধীঁ জমা দেওয়ার শর্তে বিভিন্ন কোম্পানি দ্বিমত পোষণ করেছে।
বিশেষ করে, মেরিন কার্গো পলিসিতে মাসিক ইড়ৎফবৎবধীঁ জমা দেওয়ার শর্তকে অযৌক্তিক বলে দাবি করা হয়েছে। কারণ এতে অনেক পলিসি পুনঃবীমার আওতার বাইরে থেকে যেতে পারে, যা কোম্পানিগুলোর জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ডলারের মূল্য বৃদ্ধি, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, ব্যবসা মন্দা ও অসম প্রতিযোগিতার কারণে বীমা খাতের অধিকাংশ কোম্পানি তারল্য সংকটে রয়েছে। এ অবস্থায় যেসব কোম্পানির পুনঃবীমা দাবি বাবদ অর্থ এসবিসির কাছে পাওনা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নবায়নের সময় কোনো অর্থ দাবি না করার অনুরোধ জানানো হয়।
দেশে বর্তমানে ৪৫টি বেসরকারি নন-লাইফ বীমা কোম্পানি রয়েছে। এসব কোম্পানির দাবি, সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের কাছে তাদের কয়েক হাজার কোটি টাকার পুনঃবীমা দাবি বকেয়া রয়েছে। অথচ আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে পুনঃবীমা দাবি নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।
এতে করে গ্রাহকদের বীমা দাবি সময়মতো পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে কোম্পানিগুলো। অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী আমানত ভেঙে বা ব্যাংক ঋণ নিয়ে দাবি পরিশোধ করতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই জটিলতা নিরসনে ২০২৪ সালের ২০ মে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) একটি ত্রিপক্ষীয় সভা করে। ওই সভায় ১০ দফা সিদ্ধান্তের মধ্যে বকেয়া প্রিমিয়াম ও দাবি ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমন্বয়ের কথা থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
খাত সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পুনঃবীমা প্রিমিয়াম আদায়ে যতটা সক্রিয় এসবিসি, তার তুলনায় দাবি নিষ্পত্তিতে অনেক বেশি ধীরগতি দেখা যায়। বিদেশি পুনঃবীমা কোম্পানিগুলো যেখানে দ্রুত দাবি নিষ্পত্তি করে, সেখানে অপ্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করছে রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত সমাধান না হলে পুনঃবীমা চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরো বীমা খাতেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
Posted ১০:০৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com