| শনিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | 123 বার পঠিত
শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলমান পতন ঠেকাতে সরকার ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন দিয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত বাজারে স্বল্পমেয়াদে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও বিনিয়োগকারীদের আচরণ এবং বাজারের কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে পতন থামানো সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি সভরেন গ্যারান্টির বিপরীতে আইসিবিকে এই ঋণের অনুমোদন দেয়। এর ফলে গত বুধবার বাজারে সূচকের উত্থান ঘটে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫১৯৭ পয়েন্টে পৌঁছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করে। তবে বৃহস্পতিবার বাজার সেই স্থিতি ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। ডিএসইএক্স সূচক ৫.৩৪ পয়েন্ট কমে ৫১৯২ পয়েন্টে দাঁড়ায়। বাজার মূলধন থেকে ৬৯৫ কোটি টাকা কমে ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকায় নেমে আসে। বাজারে পতনের কারণ হিসেবে মুনাফা তোলার চাপ: বুধবারের উত্থান অনেক বিনিয়োগকারীকে মুনাফা তুলে নিতে নেয়। বিক্রির চাপে বৃহস্পতিবার বাজারের সূচক নিম্নমুখী হয়। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনো দীর্ঘমেয়াদী আস্থার সংকট রয়েছে। সরকার ও আইসিবির পদক্ষেপ সাময়িক সুরাহা দিলেও বাজারের সামগ্রিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারেনি।
লেনদেনের চিত্র:
বৃহস্পতিবার ডিএসইতে ৪৭৩.৭৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। মোট ৩৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৫টির শেয়ার দর বেড়েছে, ১৯৬টির কমেছে, এবং ৬৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসই সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫.৬ কোটি টাকার, যেখানে সূচক ৬২ পয়েন্ট বেড়ে ১৪,৫৩২ পয়েন্টে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক অস্থিরতা মূলত কাঠামোগত দুর্বলতা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বল্পমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। আইসিবির ঋণ অনুমোদন বাজারে তারল্য সংকট সামাল দিতে সহায়তা করলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থায়িত্ব আনতে এটি যথেষ্ট নয়। দীর্ঘ মেয়াদে আস্থা আনতে বাজারের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। শেয়ার মূল্যের কৃত্রিম উত্থান-পতন ও কারসাজি রোধে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা দরকার। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে বাজারে স্বচ্ছতা এবং নীতিমালার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের উপর চাপ কমবে। তাদের মতে, স্বল্পমেয়াদী মুনাফার দিকে মনোযোগ না দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে বিনিয়োগ করতে হবে। বিনিয়োগের আগে বাজারের গতি প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক অবস্থা বিশ্লেষণ করাও প্রয়োজন। আতঙ্কিত না হয়ে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে। আইসিবির ঋণের মতো পদক্ষেপ সাময়িকভাবে বাজারে স্বস্তি আনতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য বাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে হবে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ।
Posted ৯:২৩ অপরাহ্ণ | শনিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৪
bankbimaarthonity.com | rina sristy