নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ১৬ বার পঠিত
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের শাখায় প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের প্রায় ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯১ জন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের বক্তব্য নিয়েছে দুদকের অনুসন্ধান দল। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে ৮ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮২৬ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র শ্রীনগর শাখায় কর্মরত ক্যাশ অফিসার মো. শরীফুজ্জামানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী পরস্পর যোগসাজশে জাল এফডিআর, চেক জালিয়াতি, ভুয়া ডিপোজিট স্লিপ তৈরি এবং গ্রাহকের হিসাবের তথ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর দুদকের অনুসন্ধান দল দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। গত ৪ অক্টোবর অভিযোগসংশ্লিষ্ট একজনকে গ্রেপ্তার করে আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার-পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এরপর ৭ অক্টোবর দুদকের অনুসন্ধান দল সরেজমিনে ঘটনাস্থলে যায়।
শ্রীনগর থানা পুলিশের সহায়তায় ওই দিন অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখার আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—ব্যাংকের অফিসার (ক্যাশ) ও বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত মো. জিন্নাহ হোসেন, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক রেজাউল হক, প্রিন্সিপাল অফিসার ও সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মো. শরীফ উদ্দীন এবং দুই নিরাপত্তাকর্মী রঞ্জু আহমেদ ও আবদুল হাই।
দুদক জানিয়েছে, অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে তাদের আমানতের অর্থ হাতিয়ে নেন বলে অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রাহকদের এফডিআর ও অন্যান্য ব্যাংকিং নথি জাল করা, চেক জালিয়াতি, ভুয়া জমা স্লিপ ব্যবহার এবং হিসাবের তথ্য পরিবর্তনের মতো পদ্ধতিতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে দুদকের অনুসন্ধান দল ঘটনাস্থলে অবস্থান করে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের বক্তব্য গ্রহণ করছে। এ পর্যন্ত ৯১ জন গ্রাহকের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তাদের বক্তব্য ও প্রাথমিক নথিপত্র যাচাই করে প্রায় ৮ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮২৬ টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে অনুসন্ধান দলের ধারণা, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ২০০ জনের বেশি গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ফলে অনুসন্ধান আরও বিস্তৃত হলে আত্মসাতের অর্থের পরিমাণও বাড়তে পারে।
দুদকের অনুসন্ধানসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক শাখায় গ্রাহকদের আমানত ও হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যোগসাজশের মাধ্যমে এ ধরনের অনিয়ম সংঘটিত হয়ে থাকলে তা অত্যন্ত গুরুতর আর্থিক অপরাধ। এ ঘটনায় গ্রাহকদের বক্তব্যের পাশাপাশি ব্যাংকের হিসাব, লেনদেনের নথি, এফডিআর, চেক, জমা স্লিপ ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে।
অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পর অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে মামলা বা এফআইআর দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
Posted ০৮:৪৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com