নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ৫ বার পঠিত
কানাডীয় লেখক অ্যান কার্সনকে ২০২৬ সালের সাহিত্যের নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।
আজ বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় সুইডেনের স্টকহোমে অবস্থিত সুইডিশ একাডেমির স্থায়ী সচিব ইংগ্রিড কার্লবার্গ এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বছর সাহিত্যে নোবেলবিজয়ীর নাম ঘোষণা করেন।
পুরো অনুষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে নোবেল প্রাইজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (nobelprize.org) এবং তাদের ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
নোবেল কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতিতে বলা হয়েছে, ‘তার সাহসী এবং উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের জন্য’ তাকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তার সাহিত্যকর্ম ‘ধ্রুপদী ঐতিহ্যের সাথে চপল সংলাপের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্যের নতুন রূপ তৈরি করেছে।’
নোবেল কমিটি বলেছে, ‘অ্যান কার্সন তার সমগ্র কর্মজীবনজুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা ও অনুবাদ কাজের পাশাপাশি কবিতা লেখাকে একত্রিত করেছেন। তার প্রায় সমস্ত সাহিত্য সৃষ্টিই শব্দের প্রতি একজন ভাষাভাষীর বা ভাষাতাত্ত্বিকের গভীর অনুরাগ এবং নতুন অর্থ খোঁজার প্রতি একজন কবির আকাঙ্ক্ষার সংযোগস্থলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। তিনি নিজেই শব্দের ব্যুৎপত্তিকে তার সমস্ত কাজের আদি উৎস বা যাত্রাবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করেছেন।’
১৯০১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সাহিত্যে মোট ১১৮ বার নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়সহ মোট ৭ বছর এই বিভাগে কোনো পুরস্কার দেওয়া হয়নি।
মোট বিজয়ী সংখ্যা: এ পর্যন্ত মোট ১২২ জন সাহিত্যিক এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
নোবেল নিয়মে পুরস্কার ভাগাভাগির সুযোগ থাকলেও সাহিত্যে সাধারণত এককভাবে পুরস্কার দেওয়াই রেওয়াজ। এর বাইরে মাত্র ৪ বার এই পুরস্কার দুইজনের মধ্যে যৌথভাবে বণ্টন করা হয়েছে।
বিজ্ঞান বা শান্তির মতো সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার কেউ কখনো একাধিকবার পাননি।
ফ্রান্সের কবি ও সাহিত্যিক সুলি প্রুদোম তাঁর বিশেষ কাব্যিক রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথম সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান, যা একাধারে উচ্চ আদর্শবাদ, শৈল্পিক পারফেকশন এবং বিরল আধ্যাত্মিকতার প্রমাণ দেয়।
গত বছর ২০২৫ সালে হাঙ্গেরির ঔপন্যাসিক লাজলো ক্রাসনাহোরকাই। তাঁর অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও দূরদর্শী সাহিত্যকর্মের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান, যা সর্বনাশা বা মহাপ্রলয়ের আতঙ্কের মধ্যেও শিল্পের শক্তিকে পুনর্ব্যক্ত করে।
সাহিত্যে সবচেয়ে কম বয়সে নোবেল পাওয়ার বিশ্বরেকর্ড ব্রিটিশ লেখক রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের। ১৯০৭ সালে যখন তিনি নোবেল পান, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৪১ বছর।
সবচেয়ে বেশি বয়সে সাহিত্যে নোবেল পাওয়ার রেকর্ডটি ব্রিটিশ লেখিকা ডোরিস লেসিংয়ের। ২০০৭ সালে যখন তিনি এই পুরস্কারে ভূষিত হন, তখন তাঁর বয়স ছিল ৮৭ বছর।
সাহিত্যে এ পর্যন্ত মোট ১৮ জন নারী নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। প্রথম নারী হিসেবে ১৯০৯ সালে সুইডিশ লেখিকা সেলমা ল্যাগেরলফ সাহিত্যে নোবেল পান। আর সর্বশেষ ২০২৪ সালে এই তালিকায় যুক্ত হন দক্ষিণ কোরিয়ার হান কাং।
সাহিত্যের ইতিহাসে ২ জন লেখক নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৫৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে বরিস পাস্তেরনাক পুরস্কারটি গ্রহণে বাধ্য হয়েও পরে তা প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হন। আর ১৯৬৪ সালে ফরাসি দার্শনিক ও সাহিত্যিক জঁ-পল সার্ত্র সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় নিজের নীতিগত কারণে এই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন।
সাহিত্যে মরণোত্তর নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে মাত্র ১ বার। ১৯৩১ সালে সুইডিশ কবি এরিক অ্যাক্সেল কার্লফেল্ডকে মৃত্যুর পর এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৭৪ সাল থেকে মরণোত্তর নোবেল দেওয়ার নিয়ম পুরোপুরি বন্ধ করা হয়।
১৯১৩ সালে প্রথম অ-ইউরোপীয় এবং প্রথম এশীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়ে ইতিহাস গড়েন বাঙালি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
নোবেলজয়ীরা একটি ১৮ ক্যারেট সোনার মেডেল, একটি প্রশংসাপত্র (ডিপ্লোমা) এবং আলফ্রেড নোবেলের ট্রাস্ট থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ পান, যা বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখ (১২ মিলিয়ন) সুইডিশ ক্রোনা।
রীতি অনুযায়ী, আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্টকহোমে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৬ সালের রসায়নের এই দুই নতুন নোবেলজয়ীর হাতে মেডেল, ডিপ্লোমা ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেওয়া হবে।
Posted ০৬:৫২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com