অনলাইন ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ৩৪ বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় ব্যবধানে জয়ের পর আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমার প্রত্যাশায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববাজারে দর হারিয়েছে মার্কিন ডলার। বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে ইউরো, জাপানি ইয়েন ও ব্রিটিশ পাউন্ডসহ বিভিন্ন মুদ্রা। একই সঙ্গে বিশ্বের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিরোধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা কমে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। এর প্রভাব পড়েছে ডলারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ড ও আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারেও।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের বড় ব্যবধানে জয় রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এনেছে। এতে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ কমতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা কৌশল বিভাগের প্রধান রে অ্যাট্রিলের মতে, নির্বাচনের ফলাফল আন্তর্জাতিক বাজারের সাম্প্রতিক ওঠানামায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একটি পডকাস্টে তিনি বলেন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের দামের পরিবর্তনের সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফলের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা কমে আসায় ডলারের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে দুর্বল হয়েছে মার্কিন মুদ্রা।
বিশ্বের ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের অবস্থান নির্দেশক ডলার সূচক বৃহস্পতিবার ০.০৬ শতাংশ কমে ১০১.৪১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এর আগের কার্যদিবসেও সূচকটি ০.৩৬ শতাংশ কমেছিল।
অন্যদিকে, ইউরোর দাম ০.১২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ইউরো ১.১২৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জাপানি ইয়েনও ডলারের বিপরীতে ০.০৮ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে। ফলে প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য নেমে এসেছে ১৫৮.২৫ ইয়েনে।
তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব পড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নীতিতে তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন না বাজারসংশ্লিষ্টরা।
সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকে সুদের হার অন্তত ০.২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮১.২ শতাংশে পৌঁছেছে। আগের কার্যদিবসে এই সম্ভাবনা ছিল ৭৭.৪ শতাংশ। অর্থাৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যেও সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে সামনে এসেছে বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য।
এডিপির প্রকাশিত জাতীয় কর্মসংস্থান প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতে নতুন করে ৮৬ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। অথচ রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদেরা এ সংখ্যা ৬৯ হাজার হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
অর্থাৎ পূর্বাভাসের তুলনায় কর্মসংস্থান বেড়েছে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের পরিস্থিতি নিয়ে চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ তথ্য। শুক্রবার দেশটির সরকারি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের মধ্য দিয়ে সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশ শেষ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দরপতনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যও বেড়েছে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদের হার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত সামনে রেখে বৃহস্পতিবার পাউন্ডের দাম ০.৩৮ শতাংশ বেড়ে ১.৩৪৬২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে লেনদেনের একপর্যায়ে পাউন্ডের মূল্য ১.৩৫০৩ ডলারে উঠেছিল। গত সাত সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি ছিল মুদ্রাটির সর্বোচ্চ অবস্থান।
এ নিয়ে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো পাউন্ডের দাম বাড়ার পথে ছিল। এর আগে গত ৬ জুলাই শেষ হওয়া টানা আট দিনের ঊর্ধ্বগতিই ছিল মুদ্রাটির সর্বশেষ দীর্ঘ মূল্যবৃদ্ধির নজির।
বিশ্লেষকদের ধারণা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে তৈরি হওয়া মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে আগামী বছর একাধিকবার সুদের হার বাড়ানো হবে—বিনিয়োগকারীদের এমন প্রত্যাশার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক অবস্থান নিতে পারে।
জাপানের মুদ্রাবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের পর ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মূল্য বেড়েছে।
প্রকাশিত কার্যবিবরণীতে ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি আরও কঠোর করতে পারে—এমন প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে।
সেপ্টেম্বরের ওই বৈঠকে নীতিনির্ধারকেরা সুদের হার বাড়িয়ে ১.২৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছিলেন, যা ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বৈঠকের কার্যবিবরণীতে একজন নীতিনির্ধারক আরও দ্রুত সুদের হার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও মত দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে ডলারের দুর্বলতার বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রাও।
বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলীয় ডলারের মূল্য ০.০৯ শতাংশ বেড়ে ০.৭০১ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের ডলারের দাম বেড়েছে ০.১২ শতাংশ। মুদ্রাটির বিনিময়মূল্য দাঁড়িয়েছে ০.৫৬২৭ মার্কিন ডলারে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ফলাফল, ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার পরিবর্তন এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হারসংক্রান্ত প্রত্যাশা আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারের গতিপথে প্রভাব ফেলছে। আপাতত ডলারের বিপরীতে অন্যান্য প্রধান মুদ্রার শক্তিশালী অবস্থান বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। তবে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের নতুন তথ্য বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Posted ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন