এম এ খালেক
রবিবার, ০৪ মে ২০২৫ প্রিন্ট ৫৩৭ বার পঠিত
সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, ‘আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রণয়ন বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। বিশেষ করে কাক্ষিত মাত্রায় রাজস্ব আহরণ এবং বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে। একই সঙ্গে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।’ ড. এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি পত্রিকার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন এম এ খালেক। সাক্ষাৎকারের বিবরণ এখানে উল্লেখ করা হলো :
দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: আপনি সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা থাকাকালে দু’টি বাজেট প্রণয়ন করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বলবেন কি আগামী অর্থবছরের (২০২৫-২০২৬) জন্য যে বাজেট প্রণীত হতে যাচ্ছে সেখানে কি কি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে?
ড.এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম: আগামী অর্থবছরের (২০২৫-২০২৬) জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট প্রণয়নের কাজ বর্তমানে প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ৫ জুন প্রস্তাবিত বাজেট উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপন করা হতে পারে। যেহেতু বর্তমানে সংসদ কার্যকর নেই তাই প্রস্তাবিত বাজেট উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত হবে। নানা কারণেই আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এটাই প্রথম জাতীয় বাজেট। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য বাজেট প্রণয়ন করা সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে আরো বেশি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্রয়োজনীয় অর্থ সংকুলান করা। আমাদের দেশে বাজেট অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রধানত রাজস্ব আহরণের উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ খুব একটা উল্লেখযোগ্য নয়। কয়েক বছর আগেও ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও ১০ শতাংশের উপরে ছিল। বর্তমানে ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশে ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও বিশ্বের সবচেয়ে কম ট্যাক্স আদায়কারী কয়েকটি দেশের মধ্যে অন্যতম এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। চলতি অর্থবছরের ৯ মাস অর্থাৎ মার্চ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল ৪২ হাজার ৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আর আদায় হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৬৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সেন্টার ফর পলিসি ডয়লগ (সিপিডি) তাদের এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে কর ফাঁকির কারণে দেশ ২ লাখ ২৬ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে। ২০১২ সালে কর ফাঁকির পরিমাণ ছিল ৯৬ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১১ বছরের ব্যবধানে কর ফাঁকির পরিমাণ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।
দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: প্রতি বছরই দেখা, রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় তা অনার্জিত থেকে যায়। বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
ড. এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম: আমাদের দেশে প্রতিবছর রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় তা অর্জিত হয়না। চলতি অর্থবছরেও তার কোনো ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হয় না। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ২২ হাজার ১৫২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। কিন্তু বাস্তবে আদায় হয়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার ৭৯ দশমিক ৬২ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো না গেলে বাজেট অর্থায়নের জন্য বিদেশি ঋণের উপর নির্ভর করতে হয়। বাজেট যেভাবেই প্রণীত হোক না কোনো বছরই তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় না। বছরান্তে দেখা যায়, বরাদ্দকৃত অর্থ অব্যবহৃত রয়ে গেছে। ন্যাশনাল বোর্ড অব রেভিনিউ (এনবিআর) রাজস্ব আহরণের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে দেশে ৪১টি করাঞ্চল রয়েছে। আগামীতে এর সঙ্গে আরো ৯টি করাঞ্চল যুক্ত করা হচ্ছে। এনবিআর এর এই উদ্যোগ রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কতটা অবদান রাখবে তা আগামীতেই বলা সম্ভব হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা নিজস্ব সূত্র থেকে আহরিত অর্থ দ্বারা বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, কোনো বছরই এনবিআর রাজস্ব আহরণের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছে না।
বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আর একটি সমস্যা হচ্ছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা। প্রতি বছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয় তার একটি বড় অংশই অব্যবহৃত থেকে যায়। দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম ৭/৮ মাসে হয়তো বরাদ্দকৃত অর্থের ৩০/৩৫ শতাংশ ব্যয়িত হচ্ছে। আর অর্থবছর শেষ হবার ২/৩ মাস আগে অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ বা হার বৃদ্ধি পায়। এতে বাস্তবায়িত প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। অর্থের অপচয় হয়। শেষ পর্যন্ত বছর শেষে বার্র্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের হয়তো ৬০/৬৫ শতাংশ ব্যয় করা সম্ভব হয়।
দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: গত প্রায় তিন বছর ধরে দেশের অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। আমাদের মতো একটি দেশের অর্থনীতিতে ৩ থেকে ৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি সহনীয় বলে বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের উপরে রয়েছে। এতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ বিপদে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি সমস্যাটিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
ড. এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম: বর্তমান প্রেক্ষিতে প্রণীত বাজেট বিরাজমান উ”” মূল্যস্ফীতির উপর কেমন প্রভাব ফেলবে সেটাই বিবেচ্য বিষয় বটে। মূল্যস্ফীতিকে কিছুটা কমিয়ে রাখার জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। তবে ভর্তুকি প্রদানের ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগিদের আপত্তি থাকতে পারে। পাশাপাশি সাপ্লাই চেইন সঠিকভাবে কাজ করে কিনা সেটা নিশ্চিত করতে হবে। সাপ্লাই চেইন সঠিকভাবে কাজ না করলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট সম্ভবত সংকোচনমূলক হবে। সংকোচনমূল বাজেট দিয়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, যদি সাপ্লাই চেইন ঠিকভাবে কাজ না করে। গত প্রায় তিন বছর ধরে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৯ শতাংশের উপরে রয়েছে। মূল্যস্ফীতির কষাঘাতে সব শ্রেণি পেশার মানুষ বিপদে রয়েছে। আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবার দাবি রাখে।
দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: ব্যাংকিং সেক্টরের সমস্যা সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?
ড. এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম: বাজেটের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না হলেও ব্যাংকিং সেক্টরের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বাজেট যেহেতু সার্বিক ম্যাক্রোইকোনমিক ডকুমেন্ট তাই ব্যাংকিং খাতের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা জানি, ব্যাংকিং সেক্টরে খেলাপি ঋণের মাত্রা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। কোনোভাবেই খেলাপি ঋণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধ করা যাচ্ছে না। বিগত সরকারের আমলে কৃত্রিমভাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে দেখানো হয়েছে। এখন সেই লুকিয়ে রাখা খেলাপি ঋণ দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ এভাবে অপ্রতিহত গতিতে বাড়তে থাকলে ব্যাংকিং সেক্টরের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে। মাঝখানে কোনো কোনো ব্যাংকের গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উত্থাপিত হলে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ গ্রাহকগণ আতঙ্কিত হয়ে আমানত উত্তোলন করেছিল। গত ৬ মাসে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আমানত ফিরেছে ২১ হাজার কোটি টাকা। গত বছর আগস্ট মাসে ব্যাংকের বাইরে থাকা অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৯৪ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে থাকা টাকার পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। তবে সাধারণভাবে আমানতকারীরা এখনো কিছুটা আতঙ্কের মধ্যেই রয়েছে। বিগত সরকার আমলে ব্যাংকিং সেক্টরে অনুসৃত বেশ কিছু আন্তর্জাতিক আইন পরিবর্তন করে ঋণ খেলাপিদের সুবিধা দেয়া হয়েছিল। সেই সব আইনগুলোকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা এমনকি আরো কঠিন আইন প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি। কোনোভাবেই ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের কোনো রকম ছাড়া দেয়া যাবে না। উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ দরকার। আর বিনিয়োগের জন্য সুস্থ ধারার ব্যাংকিং ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত মার্চ মাসে ব্যক্তি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ, যা বিগত ২৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে আমাদের যে কোনো মূল্যেই হোক সুস্থ ধারার ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
উন্নত দেশগুলোতে দীর্ঘ মেয়াদি পুঁজির জন্য সাধারণত ক্যাপিটাল মার্কেটের উপর নির্ভর করা হয়। ক্যাপিটাল মার্কেট থেকে পুঁজি সংগ্রহ করা হলে তা উদ্যোক্তাদের জন্য সুবিধাজনক হয়। কারণ ক্যাপিটাল মার্কেটে কোম্পানির শেয়ার ছেড়ে অর্থ সংগ্রহ করা হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর মুনাফা অর্জন করলেই শুধু ডিভিডেন্ড দিতে হয়। কিন্তু ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করলে প্রকল্প উৎপাদন শুরু করুক আর নাই করুক একটি নির্দিষ্ট সময় পর ব্যাংক ঋণের কিস্তি প্রদান কার্যক্রম শুরু করতে হয়। তাই উন্নত দেশগুলোর উদ্যোক্তাগণ সাধারণত ব্যাংক থেকে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ গ্রহণ না করে ক্যাপিটাল মার্কেট থেকে পুঁজি সংগ্রহ করে থাকেন। কিন্তু বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেট এখনো সেভাবে বিকশিত হতে পারেনি। বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকারেজ হাউজ মালিকদের সংগঠন ডিবিএ তাদের এক অনুষ্ঠানে তথ্য প্রকাশ করেছে যে, গত ১৬ বছরে দেশের শেয়ারবাজার ৩৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। বর্ণিত সময়ে ১৩৪টি কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে তারা বাজার থেকে ৯ হাজার কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করেছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৪২টিই বর্তমানে ‘জেড ক্যাটাগরিতে রয়েছে। বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৩৬০টি। এর মধ্যে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে ১০৩টি কোম্পানি। শেয়ারবাজার উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন হলেও এ ক্ষেত্রে উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।
ব্যাংকিং সেক্টর যদি উদ্যোক্তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ ঋণ দিতে না পারে তাহলে দেশে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ হবে না। অধিকাংশ ব্যাংক তারল্য সংকটে পতিত হয়েছে। তারা চাইলেও উদ্যোক্তাদের চাহিদা মতো ঋণ দিতে পারবে না। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে প্রতি শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির জন্য ব্যক্তি খাতে অন্তত ৫ শতাংশ বিনিয়োগ হওয়া প্রয়োজন। দেশে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের হার অনেক দিন ধরেই জিডিপি’র ২২/২৩ শতাংশে উঠানামা করছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৮ শতাংশ। কিন্তু তা অর্জিত হয়নি। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে ২৭ শতাংশ। এটা অর্জিত হবার কোনোই সম্ভাবনা নেই। যদি ব্যক্তি খাতে কাক্সিক্ষত মাত্রায় বিনিয়োগ না হয় তাহলে কর্মসংস্থানের নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে না। ফলে দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে।
বাংলাদেশ বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ আহরণের জন্য নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ফলাফল খুব একটা আশাপ্রদ নয়। সম্প্রতি রাজধানীতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো। এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের ৫ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ গ্রহণ করেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নীতির ধারাবাহিকতা দেখতে চান। বিনিয়োগ সম্মেলনে আগে থেকে পাইপলাইনে থাকা বিনিয়োগ প্রস্তাবসহ মোট ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ নানা কারণেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিকট আকর্ষণীয় গন্তেব্যে পরিণত হতে পারে। কিন্তু সে জন্য কার্যকর বিনিয়োগ অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রণীত হতে যাচ্ছে তাতে রাজনৈতিক বিবেচনা পরিবর্তে বাস্তবতার নিরিখে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বলেই মনে হচ্ছে। বার্র্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয় তা নির্দিষ্ট সময়ে প্রাক্কলিত ব্যয়ে যাতে সম্পন্ন হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো বাস্তবায়নকারী সংস্থা যদি নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয় এবং সে কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পায় তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান থাকা প্রয়োজন।
Posted ০১:৪৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৪ মে ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com