|

Advertisement
×

বীমা মার্কেটিংয়ের যাদুকর এস আর খানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬   প্রিন্ট   ৫ বার পঠিত

বীমা মার্কেটিংয়ের যাদুকর এস আর খানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বীমা মার্কেটিংয়ে যাদুকর এস আর খানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বীমা অঙ্গনে তিনি এস আর খান নামে পরিচিত হলেও তার নাম সাইদুর রহমান খান।

মানিকগঞ্জের সেওতা গ্রামের এক সাধারণ মুসলিম পরিবারে ১৯৩৯ সালের ১৭ জুলাই তার জন্ম। বাবা মরহুম ইশহাকুর রহমান খান ছিলেন সরকারি চাকুরিজীবী এবং মাতা মরহুম নূরজাহান বেগম ছিলেন গৃহিনী। এস আর খান তৃতীয় শ্রেণি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন মানিকগঞ্জ হাইস্কুলে। এরপর ঢাকায় আসেন এবং পগোজ স্কুলে ভর্তি হন। পরবর্তীতে স্কুল পরিবর্তন করেন এবং ১৯৫৬ সালে ঢাকা কলেজিয়েট স্বুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএসসি এবং একই কলেজ থেকে ১৯৬০ সালে বিএ পাস করেন।

এস আর খান একটা সময়ে স্বপ্ন দেখতেন পাইলট হবার; আইএসসি পাস করার পর তদানীন্তন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর যুদ্ধ বিমানের পাইলট হবার ইচ্ছা ছিল তার। নিয়তির জেরে পথের নিশানা বদলে গেলো। আকাশের উড়াল পথের পরিবর্তে ১৯৬২ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৬৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর ইস্তফা দিয়ে যোগ দেন বাংলাদেশের জীবনবীমার বন্ধুর পথে। ১৯৬৫ সালে তিনি আদমজী ইন্স্যুরেনন্স কোম্পানি লিমিটেডে যোগ দেন। সেখান থেকেও তিনি চলে আসেন।

ইস্টার্ন ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের এজেন্ট হিসেবে জীবন বীমা পেশায় কর্মজীবন শুরু করেন। সেদিনই প্রথম বীমা পলিসি বিক্রি করেন। এখানেই যেন তার পেশা জীবনের হাতেখড়ি। এক সময় হয়ে ওঠেন মার্কেটিংয়ের যাদুকর। এর নেপথ্যে রয়েছে বীমা জগতের আইকন খোদা বকস্। এস আর খান খোদা বকস্রে গুনে মুগ্ধ হয়ে; অনুপ্রাণিত হয়ে তার কার্যক্রমকে অনুসরণ করতেন। খোদা বকস্ যখন প্লেনে ভ্রমণ করতেন, তখন তিনি প্লেনেই বীমা বিক্রি করতেন। ঠিক তেমনি এস আর খানও যখনই যে দেশে ভ্রমণ করেছেন তখনই তিনি টোকেন বিক্রি করেছেন। এক সময়ে বিমান, রেলওয়ে, সিএসপি, চিকিৎসক সকলকে বীমায় অন্তর্ভূক্ত করায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন তিনি। যখনই যেখানে যার সাথে তার পরিচয় হয়েছে; তার নাম, জন্ম তারিখ, টেলিফোন নম্বর ও ঠিকানা রেখে দিতেন। তারপর সুবিধামত সময়ে যোগাযোগ করে, বীমা করায় আগ্রহী করে তুলতেন।
এস আর খানের ছিল এক অসাধারণ গুণ। অরে তা হলো বুঝিয়ে কথা বলে মানুষকে প্রভাবিত করার দক্ষতা। তার ছিল অপরিসীম ধৈর্য, ছিলেন সৎ পরিশ্রমী। এ সব গুণগুলো তার পেশাগত জীবনে সাফল্যের চাবিকাঠি হয়ে ওঠে; হয়ে ওঠেন একজন সফল বীমা ব্যক্তিত্ব। সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে পেশায় সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়েছেন; কখনো থেমে থাকেননি। একাধিক জীবন বীমা কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে বীমা গ্রহীতাদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বীমা কোম্পানিগুলোকে জাতীয়করণ করা হয়। জীবন বীমা কর্পোরেশনে তার চাকরি ন্যস্ত করা হয়। তিনি ১৯৯৬ সালে ডিজিএম পদ থেকে অবসর নেন। রিটায়ার্ড হলেও তিনি টায়ার্ড হননি। ফিরে আসেন বেসরকারি বীমা অঙ্গনে। যোগদান করেন সানলাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে। সর্বশেষ তিনি ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে কনসালট্যান্ট হিসেবে দয়িত্ব পালন করেন।

তার বয়স তাকে ক্লান্ত করতে পারেনি। বার্ধক্যকে যেন দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। মৃদু ও মিষ্টভাষী, এস আর খান পঁচাশি বছরে পা দিয়েছিলেন। জীবন বীমাবিদ হওয়ার কারণেই হয়তো বয়স তাকে তখনও কাবু করতে পারেনি। বার্ধক্যের ছাপকে অন্তরালে রেখেছে তার তারুণ্য অবয়ব। ইহজগত ছেড়ে চলে গেছেন অতি নীরবে নিঃশব্দে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট।

 

 

Facebook Comments Box

Posted ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com