শনিবার ৩০ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x

আন্তর্জাতিক মানে ব্যবসায়ীদের ছাড় দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৯   প্রিন্ট   ৮৫৭ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক মানে ব্যবসায়ীদের ছাড় দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ব্যাংকিং খাতে বেশকিছু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থা ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেগুলোর ক্ষেত্রে ছাড় দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। খেলাপি ঋণের সংজ্ঞায় যে পরিবর্তন এসেছে, সেটি নিশ্চয়ই ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে করা হয়েছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত ‘বিআইডিএস ক্রিটিক্যাল কনভারসেশনস ২০১৯: বাংলাদেশ জার্নি মুভিং বিয়ন্ড এলডিসি’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের প্রথম দিনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ঋণখেলাপির সংজ্ঞা, ঋণের স্থিতি কতটুকু রাখতে হবে, এসব বিষয়ে গবেষণা না করে হঠাৎ করেই তা বিশ্বমান থেকে নিচে নামিয়ে আনাটা ঠিক নয়।

উদ্বোধনী সেশনের পর অনুষ্ঠিত হয় ‘ক্রিটিক্যাল ইস্যুজ ইন ম্যাক্রোইকোনমিক অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর’ শীর্ষক প্রথম সেশন। এতে সভাপতিত্ব করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার। এ সেশনে দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. কাজী ইকবাল ও সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. মনজুর হোসেন।

এর একটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। দেশে বর্তমানে ৫৯টি ব্যাংক রয়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ শাখা শহরে অবস্থিত। আর নতুন ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। যদি রাজনৈতিকভাবে এটা রোধ করা না যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো এক শাখা এক ব্যাংক অনুমোদন প্রক্রিয়া চালু করা যেতে পারে। বেশি ব্যাংক হওয়ায় তারল্য সংকট বেড়েছে। অল্প দুয়েকটি ব্যাংক ক্রেডিট রেটিং ‘এ’ পেয়েছে, বাকিগুলো ‘বি’ ও ‘সি’ রেটিংয়ে আছে।

গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়, ব্যাংকগুলোকে ডিপোজিটের ওপর নির্ভর না করে বন্ডের ওপর নির্ভর করা উচিত। পরিবারভিত্তিক ব্যাংক পরিচালনার ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় ডিপোজিটরস ইন্স্যুরেন্স, নতুন ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন এবং যদি নতুন ব্যাংক ঠেকানোই না যায়, তাহলে ইউনিট ব্যাংকের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সঠিক নিয়ন্ত্রণ জরুরি। প্রবন্ধে বলা হয়, চার কারণে প্রশ্নের মুখে পড়েছে দেশের ব্যাংকিং খাত। এর একটি হচ্ছে ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার। অন্যগুলো হলো—খেলাপি ঋণ, নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসনের অভাব। সঞ্চয়পত্রে উচ্চ সুদহার, খেলাপি ঋণ ইত্যাদি কারণে ঋণের সুদের হার কমছে না। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কি সংশোধন করা সম্ভব নয়? এমন প্রশ্ন উঠে এসেছে। এসব সমস্যা সমাধানে ব্যাংক খাত সংস্কারসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এ সেশনে আলোচক ছিলেন ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপের (ইআরজি) নির্বাহী পরিচালক ড. সাজ্জাদ জহির, বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন, ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এবং সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রেজা। বক্তারা দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের সুশাসন, প্রবৃদ্ধি অনুযায়ী কর্মসংস্থান না হওয়া এবং টেকসই উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে মতামত দেন।

ড. সেলিম রেজা বলেন, প্রবৃদ্ধির সঙ্গে উৎপাদনশীলতা মেলানো কঠিন। অফিশিয়ালি যে হিসাব দেয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল থাকছে না। প্রকৃত আয় না বাড়লেও মাথাপিছু আয় বেড়েছে। ফলে তথ্যে গরমিল রয়ে গেছে। প্রবৃদ্ধির তথ্যে গরমিল থাকায় রাজস্ব, রফতানি, আমদানির অনুপাতে প্রবৃদ্ধি যৌক্তিক হচ্ছে না। ফলে এসব সূচকের সঙ্গে প্রবৃদ্ধির অনুপাত কমে যাচ্ছে।

জিডিপি হিসাবের ক্ষেত্রে বিবিএসের স্বাধীনতা প্রয়োজন মন্তব্য করে তিনি বলেন, শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদার ভিত্তিতে প্রবৃদ্ধি হলে চলবে না। এখানে রফতানিনির্ভর প্রবৃদ্ধির বিকল্প নেই। রফতানি বহুমুখীকরণ করতে হবে। সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চল হলেও এফডিআই আনতে হবে।

মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির যে আকার তাতে এখানে আর নতুন ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। ব্যাংক এখন পাড়ার বুটিক শপের মতো হয়ে পড়েছে। যেসব উদ্দেশ্যে নতুন ব্যাংকগুলো এসেছে, তারা তাদের ম্যান্ডেড বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। সুদ বেশি দিয়ে ডিপোজিট নিয়ে কম সুদে ঋণ দেয়া সম্ভব নয়। ব্যাংকিং খাতে অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। এ কারণে গ্রাহক খারাপ করছে। ইচ্ছাকৃত ডিফল্ট বেড়ে গেছে।

ড. জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থনীতি বৈচিত্র্যকরণে মুদ্রানীতি সহায়ক ভূমিকা পালন করছে না। টেকসই আর্থিক খাতের জন্য মুদ্রা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। পোশাক খাতের মতো অন্যান্য শিল্পেও প্রণোদনা দেয়া প্রয়োজন।

Facebook Comments Box

Posted ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৯

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com