রবিবার ৩ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x
চাঁদাবাজী, চুরি, ডাকাতি ও নারী কেলেঙ্কারীতে জড়িত: নাবালিকাসহ অন্তত ৫ বিয়ে

আমতলীতে মিলন গাজীর অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসী

রবিবার, ০৩ মে ২০২৬   প্রিন্ট   ৮৬ বার পঠিত

আমতলীতে মিলন গাজীর অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসী

বরগুনার আমতলী উপজেলার ৫নং ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মৃত আজিজ গাজীর ছেলে মো. কাসেম গাজী ওরফে মিলন গাজী ওরফে ‘মিলন চোরা’, যিনি দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিলন গাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী, চুরি, ডাকাতি, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তারা দাবি করেন, এসব অভিযোগে তিনি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগও করেছেন। তবে এসব অভিযোগে আইনি ফাঁক-ফোকরে বের হয়ে আবারও অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়ান তিনি। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মিলন গাজী মূলত একজন চোর প্রকৃতির লোক। চুরি-ডাকাতি ও নারী উত্যক্তকারী হিসাবেই পরিচিত সবার কাছে। কয়েকবার ধরা পড়লেও কোনভাবে বের হয়ে আবার সেই কাজেই ফিরে যায়। এজন্য এলাকাবাসীও তার যন্ত্রণায় অতিষ্ট।

ভিডিওটি দেখতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন :

https://www.facebook.com/reel/945309948333561

পুলিশের রেকর্ডে দেখা যায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পুলিশ তাকে আটক করে আদালতের নির্দেশে জেল হাজতে পাঠায়। পরে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি জামিন নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করে তিনি বারবার আইনের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন। এলাকাবাসী বলেন, এলাকায় তিনি ‘মিলন-চোরা’ নামেই পরিচিত। এই নামকরণ তার বিরুদ্ধে ওঠা চুরির অভিযোগ থেকেই এসেছে। এরকম চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে গনধোলাইয়ের শিকার হন মিলন গাজী, সেই ভিডিও ভাইরাল হয় এলাকায়। তবে বিভিন্ন অপরাধে লঘুদন্ড তাকে আরও বেপরোয়া করে তোলে।

স্থানীয়ভাবে খবর নিয়ে জানা যায়, এতেই ক্ষান্ত হয়নি সে। মিলন গাজী বিয়ে করেছে অন্তত ৫টি। এর বাইরেও অন্য কোথাও না জানিয়ে বিয়ে করে থাকতে পারে বলে অনেকে সন্দেহ করেন। এখন যে বউয়ের সঙ্গে সংসার করছেন তাকেও নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে করেন তিনি। বিয়ে করার আগে ওই মেয়েকে অপহরণ করেছিলেন মিলন গাজী। তখন ওই মেয়ের মা-বাবা থানায় মামলা দেয়। প্রায় ৮-৯ বছর সে মামলা চলে। কিন্তু মিলন গাজী সেই মেয়েকে বিয়ে করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়। এখনও এলাকার নারী সমাজ মিলন গাজীর ভয়ে একা চলতে সাহস পায় না বলে জানা যায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার কারণে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় চুরি বা ডাকাতির আশঙ্কায় অনেকেই ভীত থাকেন। কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা শান্তিতে থাকতে পারছি না। বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটছে, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না।’

এদিকে স্থানীয়রা আরও দাবি করেন, অতীতে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি রাজনৈতিক কার্যক্রমেও যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার হিসাবে নির্বাচনে অংশ নেন। তখন গ্রামের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে মিলন চোর বলেন, আমি আর চুরি করবো না, আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন। কিন্তু সে সময় ভোটে জয়লাভ করেননি তিনি। এখন সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে তিনিও দল বদল করে আবারও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা যায়। আমতলী উপজেলার ৫ নং ওয়ার্ডের এই ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সম্প্রতি মিলন গাজী আমতলী এলাকায় দলবল নিয়ে এক ঢাকাবাসীর ক্রয়কৃত সম্পত্তি জোর করে দখল করতে গেলে জমির তত্ত্বাবধায়ক টুকু মিয়া বাঁধা দেন। তখন মিলন গাজী তাকে মারধর করে খুনের হুমকি দেয়। এ বিষয়ে টুকু মিয়া আমতলী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাইন পারভেজ বলেন, মিলন গাজীর নামে একাধিক ওয়ারেন্ট আছে। আমরা তাকে গ্রেফতার করার জন্য খুঁজছি। এলাকাবাসী যদি তার কোন অবস্থানের খোঁজ দিতে পারে তাহলে আমরা সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গ্রেফতার করবো। এরকম অপরাধীর বিষয়ে তারা ছাড় দেবেন না বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা হানিফ বয়াতি এ বিষয়ে বলেন, দীর্ঘদিন যাবত  মিলন গাজীর বিভিন্ন  অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ট। আমি নিজেই ওকে কয়েকবার থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি। থানায় তার নামে ওয়ারেন্ট থাকলে পুলিশ কেন ধরছে না তা তো বলতে পারবো না। মিলন গাজী তো এলাকায় প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, আমরা অভিযান পরিচালনা করবো, শুধু ওর অবস্থান সম্পর্কে কেউ একটু তথ্য দিক।

আমতলীর ৫ নং ওয়ার্ডের  মেম্বার হাবিব চৌকিদার একই কথা বলেন। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ‘মিলন গাজী আসলে ‘মিলন চোরা’। চাঁদাবাজি, চুরি-ডাকাতি করাই তার ধর্ম। আমার জানা মতে, ওর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে ৮-১০টা। একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামী হয়ে মিলন চোরা তো প্রকাশ্যেই এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাহলে পুলিশ খুঁজে পায় না কীভাবে। আমিসহ এলাকার সবাই তো মিলন চোরার কুকর্মের জন্য লজ্জা পাই কিন্তু প্রশাসন ওরে ধরে না কেন।’

স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বললে সবাই মিলন গাজীর শাস্তি দাবি করেন।

 

Facebook Comments Box
×

Posted ০৮:০০ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com