নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার, ০২ মে ২০২৬ প্রিন্ট ১২ বার পঠিত
জ্বালানি সাশ্রয়, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধিকে সামনে রেখে হাইব্রিড, প্লাগ-ইন হাইব্রিড এবং বৈদ্যুতিক (ইভি) গাড়ির ওপর শুল্ক-করহার যৌক্তিকীকরণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। একই সঙ্গে মোটরযান আমদানি নীতিমালায় যুগোপযোগী সংস্কার আনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (২ মে) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার সভাপতি আবদুল হক এ দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি।
তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের প্রেক্ষাপটে মোটরযান খাতে শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপর বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক কমানো হলে বাজারে এসব গাড়ির ব্যবহার বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পরিবেশবান্ধব যানবাহন পৌঁছাবে।
বারভিডা সভাপতি আরও বলেন, গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হলে পরিবহন খাতে ব্যয় কমবে এবং সেবার মান উন্নত হবে। একই সঙ্গে জাপান থেকে আমদানি করা রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক (ইভি) গাড়ির ওপর কর হ্রাসের প্রস্তাবও তিনি দেন।
আবদুল হক বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ইভি শিল্প বিকাশে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে। সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রিকন্ডিশন্ড ইভি গাড়ির ওপর করছাড় দেওয়া হলে দেশের পরিবহন খাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির বিস্তার আরও দ্রুত হবে। এতে জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, যা সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত শুল্ক ও কর সুবিধা বাস্তবায়িত হলে মোটরযানের দাম তুলনামূলকভাবে কমবে এবং তা মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির নাগালের মধ্যে আসবে। ফলে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক উভয় খাতেই গাড়ির ব্যবহার বাড়বে, বাজার সম্প্রসারিত হবে এবং সরকারের রাজস্ব আহরণও বৃদ্ধি পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোয় রাজস্ব আহরণ বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে স্থিতিশীল রাজস্ব প্রবাহ অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে মোটরযান খাতে একটি আধুনিক ও যৌক্তিক শুল্ক কাঠামো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে পারে। পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়লে শুধু অর্থনৈতিক নয়, পরিবেশগত দিক থেকেও দেশ লাভবান হবে। জ্বালানি সাশ্রয়, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং নগর পরিবেশের মান উন্নয়নে হাইব্রিড ও ইভি গাড়ির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বারভিডা নেতারা মনে করেন, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশে একটি নিরাপদ, আধুনিক এবং টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, আসন্ন বাজেটে সরকার পরিবেশবান্ধব যানবাহন খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে, যাতে দেশের পরিবহন খাতে আধুনিকায়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হয়।
Posted ০৬:৩৩ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০২ মে ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com