Ad
x

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি ও ডিএমডির বিরুদ্ধে দুদকের চার মামলা

সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫   প্রিন্ট   ৩৮৩ বার পঠিত

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি ও ডিএমডির বিরুদ্ধে দুদকের চার মামলা

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে আর্থিক অনিয়ম, সোর্স ট্যাক্স জালিয়াতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরমান আর চৌধুরী এবং সাবেক ডিএমডি ও সিএফও মোহাম্মদ নাদিমসহ চারজনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (৩০ নভেম্বর) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে উপপরিচালক আজিজুল হক বাদী হয়ে মামলাগুলো করেন। দুদকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ তদন্তে সুস্পষ্ট তথ্যপ্রমাণ হাতে আসার পরই প্রতিষ্ঠানটি এ উদ্যোগ নেয়।

মামলাগুলোর মধ্যে প্রথমটিতে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা ফরমান আর চৌধুরী এবং মোহাম্মদ নাদিম ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে নিয়োগপত্রের নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘন করে সাত ধাপে মূল বেতনের অতিরিক্ত প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। দুদকের ভাষ্য, এটি ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার অপকৌশল।

আরেক মামলায় বলা হয়েছে, ব্যাংকের জেনারেল লেজার (জিএল) হিসাব থেকে নানা ভাউচারের মাধ্যমে ৮৫ লাখ টাকা উত্তোলন করে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হয়। এই অভিযোগেও সাবেক এমডি ও ডিএমডিকে দায়ী করা হয়েছে এবং তদন্তে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তৃতীয় মামলাটি সবচেয়ে বড় আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এজেন্ট ব্যাংকিং কমিশন বাবদ ব্যাংকের আয় ছিল ৩৬১ কোটি টাকারও বেশি যার ওপর ১০% হারে সোর্স ট্যাক্স কেটে রাখা হয় মোট ৩৬ কোটি ১১ লাখ টাকার বেশি। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ ট্যাক্স সরকারী কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি বলে দুদকের অভিযোগ। এই ঘটনায় চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে ফরমান আর চৌধুরী, মোহাম্মদ নাদিম, মোহাম্মদ ফজলুর রহমান চৌধুরী এবং আবেদ আহাম্মদ খান। দুদকের মতে, এই অনিয়মের কারণে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

চতুর্থ মামলায় আবারও ফরমান আর চৌধুরী ও মোহাম্মদ নাদিমকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা তাদের প্রকৃত পাওনার বাইরে বোনাস বাবদ অতিরিক্ত ৫৩ লাখ ৮০ হাজার ৪০০ টাকা তুলে নেন। দুদক মনে করে, এটি ছিল প্রতিষ্ঠানের নীতি-বিধি পাশ কাটিয়ে ব্যক্তিগত লাভবান হওয়ার আরেকটি ঘটনা।

সব মামলাই দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় করা হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, প্রতিটি মামলায় পর্যাপ্ত নথিগত প্রমাণ রয়েছে এবং তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।

Facebook Comments Box

Posted ১০:৪৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com