|

Advertisement
×
২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে টেকসই উন্নতির প্রতিফলন

আস্থায় ইতিবাচক প্রাইম ইসলামী লাইফ

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬   প্রিন্ট   ২৮ বার পঠিত

আস্থায় ইতিবাচক প্রাইম ইসলামী লাইফ

দেশের বীমা খাতের অন্যতম শরীয়াহ ভিত্তিক জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ২০২৫ সমাপ্ত বছরে সার্বিক আর্থিক সূচকে আশাব্যাঞ্জক পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। বিশ্বব্যাপী ও জাতীয় পর্যায়ে বিরাজমান অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, কার্যকর ব্যয় ব্যবস্থাপনা, দক্ষ প্রিমিয়াম আদায় এবং সর্বোপরি রেকর্ড পরিমাণ বীমা দাবি পরিশোধের মাধ্যমে গ্রাহক আস্থার শক্তিশালী জায়গা ধরে রেখেছে কোম্পানিটি। কোম্পানির ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রিমিয়াম আয়, নতুন বিনিয়োগ, বকেয়া আদায় এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রতিটি ক্ষেত্রে চমৎকার অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

২০২৫ সালে প্রাইম ইসলামী লাইফের মোট (গ্রস) প্রিমিয়াম আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮৫ কোটি ২৪ লাখ টাকায়, যা ২০২৪ সালের ৩৮০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার তুলনায় ৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বা ১.১৪ শতাংশ বেশি। কোম্পানির নিট প্রিমিয়ামও ১.১৮% বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা থেকে ৩৮৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। একইসঙ্গে নতুন ও নবায়ন প্রিমিয়াম উভয় সূচকেই অগ্রগতি লক্ষণীয়। প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম ২০২৪ সালের ১২৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা থেকে ১.০২% বেড়ে ২০২৫ সালে ১২৯ কোটি ২১ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালে নবায়ন প্রিমিয়াম ১.৪৫% বেড়ে ২৪৫ কোটি ৮ লাখ টাকা থেকে ২৪৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। নবায়ন প্রিমিয়ামের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদী আস্থা ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করে। আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট সম্পদ ৮৭৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা থেকে সাময়িকভাবে কমে ৮৬৭ কোটি ৩০ লাখ টাকায় দাঁড়ালেও কোম্পানির নিট বিনিয়োগ সূচক বেশ শক্তিশালী অবস্থান দেখিয়েছে। কোম্পানির মোট বিনিয়োগ ৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে ৩৮৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। নিরাপদ ও লাভজনক খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে এই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে। ব্যাংক স্থায়ী আমানত বা এফডিআরে বিনিয়োগ ১৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা থেকে ১৯.২৬% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ১৬ লাখ টাকায়। এছাড়া বাংলাদেশ ট্রেজারী বন্ড-এ বিনিয়োগ ১৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে, যা সরকারি সিকিউরিটিজে নিরাপদ পোর্টফোলিও বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। দাবি পরিশোধে সর্বোচ্চ বাধ্যবাধকতা ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো সময়মতো গ্রাহকের দাবি নিষ্পত্তি করা। আলোচ্য বছরে প্রাইম ইসলামী লাইফ রেকর্ড পরিমাণ বীমা দাবি নিষ্পত্তি করেছে। মোট দাবি পরিশোধ ২০২৪ সালের ২৮০ কোটি ৫২ লাখ টাকা থেকে ২.৪৯% বেড়ে ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে ২৮৭ কোটি ৫১ লাখ টাকায়। নেট ক্লেইম টু নেট প্রিমিয়াম রেশিও ৭৩.৯৪% থেকে বেড়ে ৭৪.৮৯%-এ উন্নীত হয়েছে। দাবি পরিশোধের খাতওয়ারী চিত্রে দেখা যায়, মোট পরিশোধিত দাবির বড় অংশজুড়ে রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ দাবি। এটি ১৬৪ কোটি ৭ লাখ টাকা থেকে ৪.৮০% বৃদ্ধি পেয়ে ১৭১ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। মৃত্যু দাবি বাবদ পরিশোধ ১৪.৩৩% বেড়ে ১২ কোটি ৭০ লাখ টাকা থেকে ১৪ কোটি ৫২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, সার্ভাইভাল বেনিফিট (এসবি) ৯৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা থেকে কমে ৯৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং সমর্পন দাবি (স্যারেন্ডার) ৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা থেকে কমে ৩ কোটি ৪১ লাখ টাকায় নেমে এসেছে, যা নির্দেশ করে যে বেশিরভাগ গ্রাহকই মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত নীতিমালায় স্থির থাকছেন। বীমা দাবি বাবদ বিশাল অঙ্কের অর্থ পরিশোধের কারণেই কোম্পানির লাইফ ফান্ড ৭৪৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা থেকে সামান্য কমে ৭৩৯ কোটি ৭০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যাকে বিশ্লেষকরা গ্রাহকের পাওনা দ্রুত পরিশোধের এক বাস্তব ও ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

কোম্পানির আউটস্ট্যান্ডিং প্রিমিয়াম ২০২৪ সালের ৫৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা থেকে ৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা (৬.০৫%) কমে ২০২৫ সালে ৫১ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আউটস্ট্যান্ডিং প্রিমিয়াম হ্রাস পাওয়া কোম্পানির দক্ষ ও ইতিবাচক আদায় ব্যবস্থাপনার স্পষ্ট প্রতিফলন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দক্ষ প্রশাসনিক নীতির ফলে ব্যবস্থাপনা ব্যয় এবং এজেন্সি কমিশন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। ব্যবস্থাপনা ব্যয় আগের বছরের ১০৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা থেকে ০.৮০% হ্রাস পেয়ে ২০২৫ সালে ১০৮ কোটি ১১ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বড় মাইলফলক অর্জিত হয়েছে এজেন্সী কমিশনে, যা ৪২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা থেকে বিপুল পরিমাণে (২০.৭২%) কমে ৩৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

কোম্পানির বিনিয়োগ ও অন্যান্য খাত থেকে আয় ২০২৪ সালের ৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা থেকে ১৬.৫২% বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে ৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা হয়েছে। কোম্পানির নিবন্ধিত অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি ৫২ লাখ টাকা—উভয়ই অপরিবর্তিত রয়েছে। অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে প্রায় ১৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকার অব্যবহৃত মূলধন সক্ষমতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে ব্যবসার পরিধি আরও বিস্তৃত করার বিশাল সুযোগ উন্মুক্ত রাখে।

আর্থিক স্বচ্ছতা, কর্পোরেট সুশাসন এবং পরিশোধ ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখায় ক্রেডিট রেটিং সংস্থা কর্তৃক কোম্পানিটিকে টানা তিন বছর (২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫) দীর্ঘমেয়াদী ‘এ+’ (এ প্লাস) রেটিং প্রদান করা হয়েছে। এই ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠানের সুদৃঢ় বাজার অবস্থান ও টেকসই আর্থিক ভিত্তির এক নির্ভরযোগ্য স্মারক। ২০০০ সালে যাত্রা শুরু করে ২০০২ সালে সম্পূর্ণ শরিয়াহভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর হওয়া প্রাইম ইসলামী লাইফ গ্রাহকদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আন্তরিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে দেশের ইসলামী বীমা খাতে একটি সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছে। প্রিমিয়াম আয় বৃদ্ধি, নতুন ক্ষেত্রে দূরদর্শী বিনিয়োগ, ব্যয় সংকোচন এবং বকেয়া প্রিমিয়াম আদায়ে দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিকূলতার মাঝেও রেকর্ড পরিমাণ প্রায় ২৮৭ কোটি টাকার বীমা দাবি পরিশোধ করে কোম্পানিটি গ্রাহকের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি ও আস্থার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ২০২৫ সালের আর্থিক বিবরণীর সামগ্রিক চিত্র প্রমাণ করে যে, কৌশলগত সুশাসন ও সঠিক নেতৃত্বের গুণে প্রাইম ইসলামী লাইফ দেশের বীমা খাতে একটি সুদৃঢ়, টেকসই ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

Facebook Comments Box

Posted ০৫:৩১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com