|

Advertisement
×

এআরটি চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি বেড়েছে ১১৩ শতাংশ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬   প্রিন্ট   ১৩ বার পঠিত

এআরটি চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি বেড়েছে ১১৩ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (এআরটি) সইয়ের পর দেশটি থেকে বাংলাদেশের পণ্য আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১১৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ মোট ১৮৯ কোটি ৬২ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এর মধ্যে জানুয়ারি-মার্চে আমদানি ছিল ৬০ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। এপ্রিল-জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৯ কোটি ৬ লাখ ডলারে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে জ্বালানি ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য। এসব পণ্যে ব্যয় হয়েছে ৭৭ কোটি ৫২ লাখ ডলার, যেখানে প্রথম প্রান্তিকে ব্যয় ছিল ১৩ কোটি ৫৫ লাখ ডলার।

এ সময়ে আরও আমদানি হয়েছে ১৪ কোটি ২৬ লাখ ডলারের তুলা, ১০ কোটি ৪১ লাখ ডলারের লোহা ও ইস্পাত, ৭ কোটি ২৯ লাখ ডলারের সয়াবিন ও পশুখাদ্য এবং ৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের খাদ্যশস্য।

উড়োজাহাজ আমদানিতে ব্যয় আরও বাড়তে পারে

বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এআরটি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনা শুরু হলে আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য এপ্রিল মাসে প্রায় ৩৭০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি হয়েছে। এসব উড়োজাহাজ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহ করার কথা।

চুক্তির পরিপ্রেক্ষিত

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে তা ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।

চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র এআরটি চুক্তি সই করে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশি পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রেও শুল্কসুবিধা দেওয়া হয়।

এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য, জ্বালানি, উড়োজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার বিষয়ে বাংলাদেশ অঙ্গীকার করে।

আমদানি বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের বার্ষিক আমদানি ২২৬ কোটি থেকে ২৮৫ কোটি ডলারের মধ্যে ছিল। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩৫৯ কোটি ২৯ লাখ ডলারে দাঁড়ায়, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩২ শতাংশ বেশি।

পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজের মতে, এআরটি চুক্তির প্রভাব আমদানি বৃদ্ধিতে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। তাঁর মতে, আমদানি বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিও বাড়াতে হবে, যাতে বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় থাকে।

তিনি বলেন, আগে অন্য দেশ থেকে আমদানি করা কিছু পণ্য এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসছে। জ্বালানি, গম, সয়াবিন ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশের মতো পণ্যে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

Facebook Comments Box

Posted ০৩:২১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com