|

Advertisement
×
অ্যাডভাইজার, অ্যাডিশনাল এমডি পদে দুই ভাই, ভগ্নিপতি চিফ কনসালট্যান্ট

এখনো মোকাম্মেল পরিবারের দখলে প্রাইম লাইফ

বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫   প্রিন্ট   ১৭০৪ বার পঠিত

এখনো মোকাম্মেল পরিবারের দখলে প্রাইম লাইফ

প্রাইম ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সে এখনো বহাল তবিয়তে রাজত্ব করছে এস আলম গ্রুপের হয়ে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুটের কারিগর ইউনিয়ন ব্যাংকের পলাতক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম মোকাম্মেল হক চৌধুরীর পরিবার।

অভিযোগ রয়েছে, স্বৈরাচার হাসিনার দোসর এস আলম গ্রুপ ও তার অনুগত ব্যক্তিদের নিয়ে ২০১৮ সালে জোরপূর্বক বীমা কোম্পানিটি দখল করে নেয়া হয়। এই দখলের নেতৃত্ব দেন মোকাম্মেল হক চৌধুরী। দখলদার পর্ষদ দায়িত্ব নিয়েই কোম্পানির অভিজ্ঞ প্রায় ছয় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করে। গোমতী টেক্সটাইল, নোমান কর্পোরেশন, বিনিময় কনস্ট্রাশন, টেকনিপ কর্পোরেশন, সালভো আলকালি কেমিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রিজ- এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পছন্দের প্রতিনিধি পরিচালক বসিয়ে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করা হয়।

দখলের পরপরই কোনো আইন-কানুন, বিধি বিধানের তোয়াক্কা না করে কোম্পানিটির শীর্ষ পদগুলোতে একের পর এক নিজের পরিবারের সদস্যদের নিয়োগ দিয়ে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেন মোকাম্মেল হক চৌধুরী। বীমা পেশায় কোন ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়াই কোম্পানিটির দ্বিতীয় শীর্ষ পদ অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে বসান ভাই এ. কে. এম. নাজমুল হক চৌধুরীকে। কোন যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকলেও প্রতি মাসে বেতন বাবদ ৩ লক্ষ টাকা, গাড়ির তেল, ড্রাইভার, মেইন্টেন্যান্স, বিমান ভাড়াসহ নানাখাতে অবৈধভাবে কোম্পানি থেকে প্রতি মাসে আরো কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন নাজমুল।

আরেক ভাই এ. টি. এম. হামিদুল হক চৌধুরীকে বসানো হয় উপদেষ্টা বা পরামর্শক পদে। পরামর্শক ও উপদেষ্টা নিয়োগ প্রবিধানমালা অনুযায়ী, পরামর্শক বা উপদেষ্টা হতে হলে সংশ্লিষ্ট পেশাগত কাজে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ. টি. এম. হামিদুল হক চৌধুরীর ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতার কোন নিয়ম-কানুন মানা হয়নি। অথচ হামিদুল হক চৌধুরী প্রতি মাসে দুই লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা বেতন, মিটিং ফি, গাড়ির তেল, ড্রাইভার, মেইন্টেন্যান্স, প্রকিউরমেন্টসহ নানাখাতে অবৈধভাবে কোম্পানি থেকে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
এছাড়া ভগ্নিপতি রহিম উদ্দৌলা চৌধুরীকে বসানো হয় চিফ কনসাল্ট্যান্ট পদে। পরামর্শক ও উপদেষ্টা নিয়োগ প্রবিধানমালা অনুযায়ী, পরামর্শক বা উপদেষ্টা হতে হলে সংশ্লিষ্ট পেশাগত কাজে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

অথচ রহিম উদ্দৌলাকে চিফ কনসাল্ট্যান্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন ধরনের নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করা হয়নি।

যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ না করেও তিনি প্রতি মাসে তিন লক্ষ টাকা বেতন, মিটিং ফি, বিমান ভাড়া, গাড়ির তেল, ড্রাইভার, মেইন্টেন্যান্স, ব্যবসার উন্নয়ন ভাতাসহ নানাখাতে অবৈধভাবে কোম্পানি থেকে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

শুধু তাই নয় অভিযোগ রয়েছে, দুই ভাই, ভগ্নিপতিসহ মোকাম্মেল সিন্ডিকেট গত সাত বছরে এ রকম নানা খাতে প্রাইম ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স থেকে কয়েকশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ফলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একসময়ের স্বনামধন্য কোম্পানিটি আজ অর্থনৈতিকভাবে খাদের কিনারে এসে পৌঁছেছে।

মোকাম্মেল হক চৌধুরী ইউনিয়ন ব্যাংক ছাড়াও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার লুটপাটের দোসর এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে ছিলেন। এসব পদে থেকেই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নামে-বেনামে ঋণ বের করে নেয়া ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেই এস আলমের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন মোকাম্মেল হক চৌধুরী। শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে মোকাম্মেল হক চৌধুরী পলাতক রয়েছেন। ইতিমধ্যে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ব্যাংক হিসাবও।

মোকাম্মেল এবং তার স্ত্রী নাজনিন আকতারের ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি তাদের একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবও স্থগিত করার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ বিএফআইইউ।

বিএফআইইউর নির্দেশনায় বলা হয়, মোকাম্মেল হক এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত সব হিসাবের (কেওয়াইসি, হিসাব খোলার ফরম, শুরু থেকে হালনাগাদ হিসাব বিবরণী) তথ্য এবং পাঁচ লাখ টাকা বা তার ওপরে যেকোনো অঙ্কের টাকার লেনদেন ভাউচারসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় তথ্য বিএফআইইউতে পাঠাতে হবে।

দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, মোকাম্মেল তার ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে এস আলম গ্রুপের পরিবারের সদস্যদের অনুকূলে বেআইনিভাবে পাঁচ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার পদের অপব্যবহার করে ও রাজনৈতিক পরিচয়ের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ও বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ০৯:১৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com