|

Advertisement
×

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে

বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫   প্রিন্ট   ৩৪৩ বার পঠিত

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে

একটি দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার অভিভাবক হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সে হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক হচ্ছে দেশের সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক শক্তি।

বিশ্বের অধিকাংশ দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীন সত্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ এর সুস্পষ্ট ব্যত্যয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এককভাবে ব্যাংকিং সেক্টরের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর উপর যেভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা পারে না।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো পরিচালিত হয় অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনায়। ফলে ব্যাংকিং সেক্টরে এক ধরনের দ্বৈত শাসন চলছে। সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলেছেন, দেশে দু’টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক যাকে আমরা সবাই চিনি। আর একটি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থাকা কতিপয় ব্যক্তি। এরা অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং তাদের নির্দেশনা ছাড়া ব্যাংকিং সেক্টরে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। তার এই বক্তব্যের সূত্র ধরে বলা যায়, দেশের ব্যাংকিং সেক্টর আসলে তিনটি কর্তৃপক্ষের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে দু’টি কর্তৃপক্ষ হচ্ছে অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক যারা তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য। আর একটি কর্তৃপক্ষ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থাকা একটি শক্তিশালী মহল যাদের নির্দেশনা ছাড়া কোন নীতি প্রণীত ও বাস্তবায়িত হতে পারে না। অথচ তারা জবাবদিহিমুক্ত। তাদের কারো নিকট জবাবদিহি করতে হয় না। দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন। তাদের এই বক্তব্য অত্যন্ত সময়োপযোগী। দ্বৈত শাসক কোন ক্ষেত্রেই ভালো নয়। আর দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভালোমন্দ বাংলাদশে ব্যাংকের চেয়ে আর কেউ বেশি বুঝবে না। অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ চাইলে যে কোন সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে স্বাধীন এবং নিজস্ব বিবেচনা মোতাবেক কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। তাই কাল বিলম্ব না করে অর্থমন্ত্রালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিলুপ্ত করে বাংলাদেশের ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যেতে পারে।

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ০২:৫২ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com