শুক্রবার ২৯ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x

ঋণ করে ঋণের কিস্তি পরিশোধ কাম্য হতে পারে না

মঙ্গলবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২৫   প্রিন্ট   ২৮৬ বার পঠিত

ঋণ করে ঋণের কিস্তি পরিশোধ কাম্য হতে পারে না

ঋণ করে ঘি খাওয়া অথবা ঋণের টাকায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ কোনটাই কাম্য হতে পারে না। ব্যক্তি এবং রাষ্ট্রীয় জীবন উভয় ক্ষেত্রেই কথাটি প্রযোজ্য। ঋণ কোন বিলাসিত নয়।

ঋণ গ্রহণের অর্থ হচ্ছে সাময়িক আর্থিক সমস্যা সমাধান করা এবং সেই অর্থ ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ করা। ব্যক্তি এবং রাষ্ট্র যদি ঋণের অর্থ ব্যবহার করে তার উন্নয়ন অর্জন করতে না পারে। ভবিষ্যতে ঋণ গ্রস্থতা থেকে মুক্তি না পায় তাহলে সেই ঋণ গ্রহণের কোন মানে থাকতে পারে না। বিশ্বে সম্ভবত একটি দেশও খুঁজে পাওয়া যাবে না যারা তাদের উন্নয়নের কোন পর্যায়েই বিদেশি ঋণ গ্রহণ করেনি। কিন্তু যেসব দেশ ঋণ গ্রহণ করে তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেনি তারা অতিমাত্রায় ঋণ গ্রস্থ হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ এর একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্ম সম্পাদনের জন্য ব্যাপকভাবে বিদেশি ঋণ গ্রহণ করেছে। কিন্তু সেই ঋণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার না করে বরং সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে লুণ্ঠন কার্য চালানো হয়েছে। ফলে ঋণ গ্রহণের মূল্য উদ্দেশ্যই বিঘ্নিত হয়েছে। আগামীতে জাতিকে এই ঋণের দায়ভার বহন করতে হবে। বিগত সরকারের শেষের দিকে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ গৃহীত ঋণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছে না। বরং লুটপাটের মাধ্যমে ঋণের অর্থ লোপাট করা হয়েছে। নানা অপ্রয়োজনীয় খাতে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। যেহেতু স্থানীয়ভাবে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না তাই সরকার নানাভাবে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে বিদেশ থেকে ঋণ এনে সেই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। বিদেশ থেকে ঋণ এনে খরচ করার একটি সুবিধা হচ্ছে এর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে জনগণের নিকট জবাবদিহি করতে হয় না। এভাবে ঋণ গ্রহণের ফলে দেশ এখন এক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে যে, আগামীতে ঋণ এনে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। এর লক্ষণ ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণের কিস্তি পেয়েছে ১৬৬ কোটি মার্কিন ডলার। একই সময়ে পূর্বে গৃহীত ঋণের কিস্তি বাবদ ১৫৮ কোটি মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। বিষয়টি কতটা উদ্বেগজনক তা ব্যাখ্যা করে বুঝানোর প্রয়োজন পড়ে না। ভবিষ্যতে বিদেশি ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

Facebook Comments Box

Posted ০৫:৪৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২৫

bankbimaarthonity.com |

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com