অনলাইন ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ০৫ জুন ২০২৫ প্রিন্ট ২৫০ বার পঠিত
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় কোরবানি ঈদকে ঘিরে কামারদের ব্যস্ততা বেড়েছে। দিনরাত চলছে দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি তৈরির কাজ। লোহা ও কয়লার দাম বেড়েছে। কারিগরের মজুরিও বেশি। ফলে সরঞ্জামের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। চাহিদা কম হলেও কাজের চাপ বেশি। অনেকে মেশিনে তৈরি জিনিস কিনছেন। কামাররা বলছেন, সরকারি সহায়তা পেলে এ শিল্প টিকে থাকবে। ঈদকে ঘিরে কিছুটা আয় হবে এই আশাতেই কাজ করছেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কামারপাড়ায় টুং টাং শব্দে মুখরিত পরিবেশ। দিন-রাত কাজ চলছে। অনেকেই এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। সারা বছর কাজ না থাকলেও ঈদের আগে ব্যস্ততা বেড়ে যায়। কেউ নতুন দা-বঁটি তৈরি করছেন। কেউ পুরোনো জিনিস শান দিচ্ছেন।
একজন কামার বলেন, ‘বছরের ১১ মাস কাজ তেমন থাকে না। এই এক মাসই আমাদের মৌসুম।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ সময়টাতেই আয় হয়। তখনই বিক্রি বাড়ে।’
এই মৌসুমে দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি তৈরির খরচও বেড়েছে। লোহার দাম বেশি। কয়লার দামও বেড়েছে। কারিগরের মজুরি বেড়েছে। ফলে জিনিসের দাম বেশি পড়ছে। এখন জিনিস তৈরি হচ্ছে পুরোদমে। ঈদের তিন-চার দিন আগে বিক্রি বাড়ে। অর্ডার দেওয়া পণ্যের ডেলিভারির সময় চাপ আরও বাড়ে। বঁটি কিনতে আসা আমেনা বেগম বলেন, ‘আগে যে বঁটি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় পেতাম, এখন সেটা কিনতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। তবুও কিনতে হচ্ছে।’
ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার চাহিদা কম। কয়লার সংকট আছে। দামও বেশি। এখন অনেকেই মেশিনে দা-বঁটি বানাচ্ছে। তাই কামারের জিনিসের চাহিদা কমে যাচ্ছে।’
কামাররা বলেন, ‘কয়লার দাম বেড়েছে। লোহার দামও বেশি। কিন্তু আমাদের মজুরি বাড়েনি। তাই আর্থিকভাবে পিছিয়ে যাচ্ছি।’ অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। তারা মনে করেন, সরকার যদি সহযোগিতা করত, তাহলে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা যেত।
এদিকে ছুরি, চাপাতি, বঁটি শান দিতে কামারের দোকানে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। কেউ কেউ নতুন জিনিসও বানাচ্ছেন। ক্রেতারা বলছেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার লোহার দাম অনেক বেশি। তাই জিনিসের দামও বেড়েছে।’
প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে এই শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে। কামাররা আশা করছেন, কোরবানির ঈদে সময়টা ভালো যাবে। তাদের প্রত্যাশা, সরকার পাশে থাকলে এই শিল্প আবারও দাঁড়িয়ে যাবে।
Posted ০৩:২৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ জুন ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com