Ad
x
নতুন আইসিএমএস গাইডলাইন জারি, ২০২৬ সালের মধ্যেই বাস্তবায়নের নির্দেশ

ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণে বড় সংস্কার

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬   প্রিন্ট   ২৩ বার পঠিত

ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণে বড় সংস্কার

দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, জবাবদিহি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে নতুন ‘ইন্টারনাল কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইসিএমএস)’ গাইডলাইন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নতুন নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে পুনর্গঠন করতে হবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ (বিআরপিডি) এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৬ সালে জারি করা অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত দুটি সার্কুলার বাতিল করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা জোরদার, আন্তর্জাতিক মানদন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ কাঠামোকে আধুনিক করার লক্ষ্যেই নতুন গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, অডিট কমিটি, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ, কমপ্লায়েন্স ইউনিট এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের দায়িত্ব ও জবাবদিহি আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

গাইডলাইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘থ্রি লাইনস অব ডিফেন্স’ কাঠামো অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা। এতে প্রথম স্তরে ব্যবসায়িক ইউনিটগুলো নিজ নিজ কার্যক্রমের ঝুঁকি শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করবে। দ্বিতীয় স্তরে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও কমপ্লায়েন্স বিভাগ নীতিমালা অনুসরণের বিষয়টি তদারকি করবে। আর তৃতীয় স্তরে স্বাধীন অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ পুরো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে পরিচালনা পর্ষদের অডিট কমিটিকে প্রতিবেদন দেবে।

এ ছাড়া প্রচলিত অন-সাইট নিরীক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে অফ-সাইট সার্ভেইল্যান্স, ভার্চুয়াল অডিট, তথ্যপ্রযুক্তি নিরীক্ষা, ফরেনসিক অডিট, কনকারেন্ট অডিট এবং ডেটা অ্যানালিটিক্সভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বড় অঙ্কের লেনদেন ও সন্দেহজনক আর্থিক কার্যক্রম শনাক্তে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

নতুন গাইডলাইনে কার্যকর হুইসেলব্লোয়ার ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপদভাবে অনিয়ম, দুর্নীতি বা আর্থিক প্রতারণার তথ্য জানাতে পারেন।

অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব বিভাগের প্রধানদের নিয়োগ, মূল্যায়ন, পদোন্নতি ও অপসারণে পরিচালনা পর্ষদের অডিট কমিটির ভূমিকা আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষ জনবল নিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, নতুন আইসিএমএস বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা প্রতিরোধ, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ব্যাংকে অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি ও দুর্বল অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, নতুন গাইডলাইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে এবং দেশের ব্যাংকিং খাতে আন্তর্জাতিক মানের সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।

Facebook Comments Box

Posted ০৮:৩৮ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com