জাহিদুল ইসলাম | রবিবার, ২১ মার্চ ২০২১ | প্রিন্ট

আর্থিক প্রতিবেদন তৈরীতে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্র্টিং কাউন্সিল প্রণীত মানদণ্ড মানছে না দেশের জীবন বীমা কোম্পানিগুলো। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা এবং ব্যবসায়িক দক্ষতা ও অগ্রগতির বিষয়টি থেকে যাচ্ছে অন্তরালে। এতে আমানতকারী গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সম্প্রতি বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এমনটাই জানিয়েছে আর্থিক প্রতিবেদনের মানদণ্ড নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)।
চিঠিতে এফআরসি জানায়, দেশীয় জীবন বীমা খাতের সকল কোম্পানি এফআরসি’র জারিকৃত আর্থিক প্রতিবেদনের নির্ধারিত মানদণ্ডের কিছু বিষয় বরাবরই লঙ্ঘন করছে। এগুলোর মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদনে লাভ-ক্ষতির হিসাব না দেখানো এবং শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল ও শ্রমিক কল্যাণ তহবিল গঠন না করা অন্যতম। এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক হিসাব মান (আইএএস) ১ ও ৩৩ এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন- ২০০৬ ক্রমাগত লঙ্ঘন করে চলেছে।
চিঠিতে বলা হয়, আর্থিক প্রতিবেদনে লাভ-ক্ষতি হিসাব অনুপস্থিত থাকায় কোম্পানিগুলোর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) প্রদর্শন করা হচ্ছে না। ফলে কোম্পানিগুলোর সঠিক পিই রেশিও নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। এটি আইএএস- ১ এবং আইএএস- ৩৩ এর পাশাপাশি বীমা আইন- ২০১০ এর ২৭(১)(খ) ধারার লঙ্ঘন। আবার কোম্পানিগুলো নিয়মিতভাবে শ্রম আইন- ২০০৬ এর ২৩৪ ধারা লঙ্ঘন করে শ্রমিক অংশগ্রহণ ও কল্যাণ তহবিল গঠন বন্ধ রেখেছে। ফলে বার্ষিক নিট মুনাফার পাঁচ শতাংশ উক্ত তহবিলগুলোতে জমা রাখা হচ্ছে না।
এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানিগুলো অনিয়ম থেকে বেরিয়ে এসে যেন সংশ্লিষ্ট আইনগুলো যথাযথভাবে পরিপালন করে সে লক্ষ্যে দিকনির্দেশনা প্রদানে আইডিআরএর প্রতি অনুরোধ জানায় এফআরসি।
এ বিষয়ে এফআরসি’র নির্বাহী পরিচালক (মান নির্ধারণ) মুহাম্মদ আনওয়ারুল করিম জানান, ‘জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর আইএএস এবং শ্রম আইন পরিপালনে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু তারা সেগুলো মানছে না। এ জন্য আমরা বিষয়টি আইডিআরএকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছি।’ আইডিআরএ যদি বিষয়টিকে সমস্যা মনে না করে বা গুরুত্বপূর্ণ মনে না করে তাহলে করণীয় কি, এমনটা জানতে চাইলে তিনি বলেনÑ ‘আমরা এ নিয়ে ফলোআপ করবো এবং অডিট ফার্মগুলোকে জবাবদিহিতায় আনবো। তাছাড়া মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়গুলো বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেবো।’
এদিকে এফআরসি’র চিঠি পাওয়ার বিষয়ে আইডিআরএ’র নির্বাহী পরিচালক (লাইফ) মো. শাহ আলম জানানÑ ‘আর্থিক মানদণ্ডে এবং শ্রম আইন পরিপালনে নির্দেশনা দিতে এফআরসি’র অনুরোধ সংক্রান্ত চিঠি আমরা পেয়েছি। চিঠিতে যে অভিযোগগুলো তুলে ধরা হয়েছে তা আমরা খতিয়ে দেখবো এবং সত্যতা পেলে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।’ এতদিনেও কেন বিষয়গুলো দেখা হয়নি জানতে চাইলে বলেনÑ ‘আসলে আমাদের লোকবল সংকট রয়েছে। ইচ্ছে থাকলেও সবদিকে নজর দেয়া সম্ভব হয় না। তবে অভিযোগ যেহেতু পেয়েছি আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবো এবং কোম্পানিগুলোকে সে অনুযায়ী নির্দেশনাও দেয়া হবে।’
Posted ১২:২০ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২১ মার্চ ২০২১
bankbimaarthonity.com | rina sristy


