অনলাইন ডেস্ক
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ১৬ বার পঠিত
টেকসই অর্থায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসি। ২০২৫ সালে এ খাতে ব্যাংকটি ১৭ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে, যা তাদের মোট বিতরণকৃত ঋণের ৭২ দশমিক ২৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ২০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এ হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই সময়ে পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন ফাইন্যান্স খাতে ব্যাংকটির অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
ইউসিবির ২০২৫ সালের সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘ট্রান্সফর্মিং ইনটেন্ট ইনটু প্ল্যানেটারি ইমপ্যাক্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি ব্যাংকটির তৃতীয় সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট। এতে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন এবং টেকসই অর্থায়নে ব্যাংকটির অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড আইএফআরএস এস১ ও এস২ অনুসরণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রথমবারের মতো ওয়েবভিত্তিক ইন্টারঅ্যাকটিভ সংস্করণেও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউসিবি।
সম্প্রতি ব্যাংকটির করপোরেট অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টটি প্রকাশ করেন ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহির। অনুষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে ব্যাংকটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে ইউসিবির গ্রিন ফাইন্যান্সের বকেয়া স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৪৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। মেয়াদি ঋণ বিতরণের ৩০ দশমিক ৪০ শতাংশ এসেছে এ খাতের অর্থায়ন থেকে, যেখানে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ শতাংশ। পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নকে উৎসাহিত করতে ব্যাংকটি ২৭টি লিড সনদপ্রাপ্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২টি প্লাটিনাম এবং ১৩টি গোল্ড সনদপ্রাপ্ত।
অনুষ্ঠানে ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহির বলেন, জলবায়ু ঝুঁকির মুখে থাকা একটি দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যাংক হিসেবে ইউসিবি মনে করে, মূলধনকে বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজে লাগানো প্রয়োজন।
ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ বলেন, ইউসিবি টেকসই ব্যাংকিংকে কেবল করপোরেট বাধ্যবাধকতা হিসেবে দেখে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের অপরিহার্য ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। তিনি আরও জানান, ওয়েবভিত্তিক ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনের কাছে ব্যাংকটির টেকসই কার্যক্রমের তথ্য আরও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কার্বন নিঃসরণ পরিমাপ ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নেও উদ্যোগ নিয়েছে ইউসিবি। প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে ব্যাংকটির অর্থায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ১২ হাজার ২১২ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য। প্রতি কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে নিঃসরণের ঘনত্ব ছিল ৩৭ দশমিক ৫২ টন। আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের সহযোগিতায় ব্যাংকটির স্কোপ ১ ও ২ নিঃসরণ এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক জয়েন্ট ইমপ্যাক্ট মডেল ফাউন্ডেশনের কাঠামো অনুসরণ করে স্কোপ ৩ নিঃসরণ পরিমাপ করা হয়েছে।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতেও বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে ব্যাংকটি। বর্তমানে ইউসিবির ৩৪টি সৌরবিদ্যুৎচালিত শাখা, চারটি সোলার এটিএম এবং দেশের ৬৪ জেলায় ৬৩০টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট রয়েছে। এ ছাড়া উদ্যোক্তাদের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে ৫০টি বিশেষায়িত টেকসই অর্থায়ন হেল্প ডেস্ক।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউসিবির অর্থায়ন সহায়তায় বিভিন্ন খাতে দুই লক্ষাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রায় ৩০ শতাংশ নারী কর্মী। পাশাপাশি ২০২৫ সালে জাতীয় কোষাগারে ১ হাজার ৮০৩ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়েছে ব্যাংকটি।
Posted ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন