নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট

দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক বাস দুর্ঘটনা দেশজুড়ে শোকের পাশাপাশি নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাসটিতে আনুমানিক ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।দুর্ঘটনার পরপরই বাসটি নদীতে পড়ে দ্রুত ডুবে যেতে শুরু করলে যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। অনেকেই জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু সেই চেষ্টায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় জানালার পাশে লাগানো মোটা স্টেইনলেস স্টিল (এসএস) পাইপ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পাইপের কারণে অনেক যাত্রী জানালা দিয়ে বের হতে পারেননি এবং ভেতরেই আটকে পড়েন। বাসের জানালায় সাধারণত রোদ ঠেকানোর জন্য পর্দা লাগানো হয়, আর সেই পর্দা ধরে রাখার জন্য পুরো জানালাজুড়ে এই পাইপ বসানো থাকে। তবে দুর্ঘটনার সময় এই সাধারণ কাঠামোই প্রাণঘাতী ফাঁদে পরিণত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে জানালা যাত্রীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প বের হওয়ার পথ। সেখানে এ ধরনের স্থায়ী বাধা থাকলে দ্রুত উদ্ধার বা আত্মরক্ষার সুযোগ মারাত্মকভাবে কমে যায়। এ ঘটনায় পরিবহন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শুধুমাত্র একটি পর্দা ধরে রাখার জন্য এমন শক্ত ও স্থায়ী পাইপ ব্যবহার কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে সমালোচনা করছেন অনেকে। বিকল্পভাবে সহজ ও নিরাপদ উপায়ে পর্দা লাগানোর সুযোগ থাকলেও কেন ঝুঁকিপূর্ণ এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে। দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহল থেকে বাসের জানালার পাশে থাকা এই ধরনের এসএস পাইপ অপসারণের জোর দাবি উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি অবহেলার চেয়েও বেশি—একটি অদৃশ্য ঝুঁকি, যা প্রতিনিয়ত যাত্রীদের জীবনকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এদিকে, নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতেও এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকেই যাবে।
Posted ১:৪০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Amiyou Rudra


