|

Advertisement
×

নদী-সাগরে প্রতিমা বিসর্জন, শেষ হলো দুর্গাপূজার আয়োজন

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬   প্রিন্ট   ৭ বার পঠিত

নদী-সাগরে প্রতিমা বিসর্জন, শেষ হলো দুর্গাপূজার আয়োজন

দেশজুড়ে প্রতিমা বিসর্জনে দুর্গোৎসবের বিদায়, আগামী বছরের অপেক্ষায় ভক্তরা

নদী, সাগর ও বিভিন্ন জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বুধবার শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। বিজয়া দশমীর বিদায়বেলায় রাজধানী ঢাকার পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাট থেকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্ট—দেশজুড়ে বিসর্জন আয়োজনে অংশ নেন হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী।

ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি, ধর্মীয় সংগীত ও বর্ণিল শোভাযাত্রায় মুখর হয়ে ওঠে বিভিন্ন বিসর্জনস্থল। আনন্দঘন উৎসবের পাশাপাশি দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর মুহূর্তে ভক্তদের মধ্যে দেখা যায় আবেগ ও বিষাদের আবহ। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ভক্তরা আগামী বছর আবারও দেবীর আগমনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বাংলার হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনের সূচনা হয়। পাঁচ দিনের পূজা শেষে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে যান দেবী। এরপর ভক্তরা অপেক্ষায় থাকেন পরবর্তী বছরের শারদীয় উৎসবের।

কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্টে সাগরে ১৫০টিরও বেশি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এ আয়োজনে আনুমানিক তিন লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। কক্সবাজারের পাশাপাশি প্রতিবেশী বান্দরবান থেকে আসা ভক্তদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা, দেশি-বিদেশি পর্যটক এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও বিসর্জন অনুষ্ঠান দেখতে উপস্থিত হন।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে বিকেলে ঢেউয়ের বুকে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। অন্যদিকে, পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয় বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা। দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহর—রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশালসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরেও একইভাবে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

এর আগে সকালে মন্দির ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপগুলোতে অনুষ্ঠিত হয় বিজয়া দশমীর পূজা। এরপর পালন করা হয় দর্পণ বিসর্জন—যে প্রতীকী আচার-অনুষ্ঠানে দেবীর প্রতিচ্ছবি বিসর্জনের মাধ্যমে বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

বিজয়া দশমীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল সিঁদুর খেলা। লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পরে বিবাহিত নারীরা দেবী দুর্গাকে সিঁদুর ও মিষ্টি নিবেদন করেন। পরে একে অপরের কপাল ও মুখে সিঁদুর পরিয়ে এবং মিষ্টি বিনিময়ের মাধ্যমে তাঁরা দাম্পত্য সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

ধর্মীয় আচার শেষে বর্ণিল শোভাযাত্রায় প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় বিসর্জনস্থলে। সাজানো ট্রাক ও পিকআপে প্রতিমা পরিবহনের পাশাপাশি কোথাও কোথাও নৌকায় করে নদীর মাঝখানে নেওয়া হয় প্রতিমা। এ সময় ভক্তদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়, ‘আসছে বছর আবার হবে’—দেবীর পুনরাগমনের প্রত্যাশায় উচ্চারিত পরিচিত স্লোগান।

বিসর্জন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্যে ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, দেশে কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হয়েছে। তাঁর মতে, এটি বাংলাদেশে নিরাপত্তা সংকট না থাকার প্রমাণ।

কক্সবাজার সৈকত ও আশপাশের এলাকায় বিসর্জন অনুষ্ঠান ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রাখা হয়।

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও ভক্তদের মনে রয়ে গেল দেবীর বিদায়ের আবেগ এবং আগামী শরতে তাঁকে আবারও বরণ করে নেওয়ার প্রত্যাশা।

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ১০:২৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com