নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ১৬ বার পঠিত
আগামী তিন মাসের জন্য নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এক সংবাদ সম্মেলনে অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ের জন্য এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান মুদ্রানীতির বিভিন্ন দিক ও লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরেন।
সবশেষ গত জুনে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ রাখা হয়েছিল। তার এক মাস পর জুলাইয়ে সেখান থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে রাখার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় এই হার বেশ উচ্চ এবং সে কারণে বর্তমান মুদ্রানীতির অবস্থানকে টাইট বা সংকোচনমূলক বলা যায়।”
আগের মুদ্রানীতির লক্ষ্যে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি জানিয়ে হাবিবুর রহমান বলেন, “এটা মুদ্রানীতির সংকোচনমূলক অবস্থান বলব, নাকি সম্প্রসারণমূলক অবস্থান বলব? তবে হারের দিকে যদি তাকাই, যেটা আসলে নীতি সুদহার সাড়ে ৯ শতাংশ। আমাদের প্রতিযোগী দেশ আছে, তাদের সঙ্গে যদি তুলনা করি, আসলে সাড়ে ৯ শতাংশ বেশ উচ্চ হার। সেই প্রেক্ষিতে আসলে মুদ্রানীতি হার আর মুদ্রানীতির অবস্থান কিছুটা হলেও সংকোচনমূলক—এটা বলা যায়। আমরা এখনো কিছুটা কঠোর মুদ্রানীতির অবস্থানে আছি।”
নতুন মুদ্রানীতিতে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফেসিলিটি (এসএলএফ) বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদে ব্যাংকগুলোর নেওয়া ঋণের সুদ হার ঠিক করা হয়েছে ১১ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদহার করিডোরের নিম্নসীমা স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফেসিলিটির (এসডিএফ) হার আগের মতো সাড়ে ৭ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে।
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আগের মতই ৬ দশমিক ৮ শতাংশে রাখা হয়েছে।
সার্বিকভাবে অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবাহে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। আর সরকারি খাতে ঋণ প্রবাহেও লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২১ দশমিক ৮ শতাংশ।
গত জুনে মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল, এখন থেকে তিন মাস অন্তর মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে।
নতুন এই ব্যবস্থার ব্যাখ্যায় সংবাদ সম্মেলনে হাবিবুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে তিন মাস অন্তর মুদ্রানীতি ঘোষণার চর্চা রয়েছে। প্রতিবেশী ভারত দুই মাস পরপর মুদ্রানীতি ঘোষণা করে।
তবে পর্যাপ্ত ও সময়োপযোগী অর্থনৈতিক তথ্য না পাওয়ার কারণে বাংলাদেশ এখনই আরও ঘন ঘন মুদ্রানীতি পর্যালোচনার দিকে যেতে পারছে না বলে জানান তিনি।
ডেপুটি গভর্নর বলেন, আমদানি-রপ্তানির তথ্য প্রতি মাসে হালনাগাদ হলেও অর্থনীতির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সূচকের তথ্য একই সময়ে পাওয়া যায় না।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য প্রকাশে সময় লাগার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিবিএস যে তথ্য দেয়, তা অনেক পরে। মাস শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে শিল্প উৎপাদনের তথ্য।”
নীতি সুদহার মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে বেশি থাকায় প্রকৃত সুদের হার ‘ইতিবাচক’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন ডেপুটি গভর্নর।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে বলেও মনে করেন হাবিবুর রহমান।
ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি কমার প্রবণতা কতটা বজায় থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “রিসেন্ট যে পে স্কেলের অ্যানাউন্সমেন্ট, এগুলো ডিমান্ড সাইড ফ্যাক্টরকে কিছুটা হলেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আসলে ইনফ্লেশনের যে ডিজইনফ্লেশন রেট, যেটা আমরা লক্ষ্য করছিলাম, সেটা সামনের দিকে কতটা রক্ষা হবে, এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে একটু দ্বিধা কাজ করছে।”
এ কারণেই নতুন মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। তবে এবার মুদ্রানীতি ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর উপস্থিত ছিলেন না।
এর ব্যাখ্যায় হাবিবুর রহমান বলেন, সরকারি কাজে ব্যস্ত থাকায় গভর্নর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হতে পারেননি।
Posted ০৭:১৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com