খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ প্রিন্ট ১৪ বার পঠিত
মাটির স্বাভাবিক গুণাগুণ সংরক্ষণ ও কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৬৪ সালে খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়ে প্রতিষ্ঠিত হয় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (মৃত্তিকা সংরক্ষণ)। সময়ের পরিক্রমায় প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় কৃষির উন্নয়ন ও বহুমুখী গবেষণার মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলের ভিন্নতর জলবায়ু এবং পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রটি নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন ও কৃষি প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কেন্দ্রটি স্থানীয় উপযোগিতা ও জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দিয়ে বেশ কয়েকটি ফসলের উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বারি কাঁঠাল-২ (২০১১), বারি কাঁঠাল-৩ (২০১৫), বারি বিলাতি গাব-১ (২০১১) এবং বারি কামরাঙ্গা সিডলেস-১ (২০১৫)। বর্তমানে ড্রাগন ফল, কফি, আম, আলুবোখারা ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত বারি ড্রাগন ফল-১ বর্তমানে কেন্দ্রটির অন্যতম সফল গবেষণা উদ্যোগ। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজে সমৃদ্ধ এই ফল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপকারী হিসেবে বিবেচিত। ড্রাগন ফলের উচ্চ বাজারমূল্য থাকায় দেশে এর বাণিজ্যিক চাষের সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছে। কেন্দ্রে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, রোপণের দ্বিতীয় বছর থেকেই ফলন শুরু হয় এবং একটি গাছে এক ধাপে ১৫–২০টি পর্যন্ত ফল ধরে। বছরে কয়েক ধাপে ফলন পাওয়া যায়, যা কৃষকদের জন্য লাভজনক।
এছাড়া কেন্দ্রটির আরেকটি সম্ভাবনাময় গবেষণা ক্ষেত্র হলো কফি চাষ। পাহাড়ি অঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণ কফি উৎপাদনের জন্য উপযোগী হওয়ায় ২০২০ সাল থেকে এ বিষয়ে গবেষণা চলছে। বারি কফি-১ (রোবাস্টা) ও বারি কফি-২ (অ্যারাবিকা) জাতের পরীক্ষামূলক চাষে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। তৃতীয় বছর থেকে গাছে ফলন শুরু হয় এবং পূর্ণবয়স্ক একটি গাছ থেকে ১০–১৫ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাজারে কফির ব্যাপক চাহিদা থাকায় এ ফসল পাহাড়ি কৃষকদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। পাহাড়ি অঞ্চলে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে বারি আম-৪ জাতের আমও। বড় আকৃতি, মিষ্টি স্বাদ, পাতলা খোসা ও উচ্চ ফলনশীলতার কারণে কৃষকদের মধ্যে এর চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিপক্ব গাছ থেকে বছরে ১৮–২০ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে সমতল ও ঢালুভূমিতে উপযোগী চাষপদ্ধতি নিয়েও গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে আলুবোখারা চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়েও গবেষণা পরিচালনা করছে কেন্দ্রটি। বারি আলুবোখারা-১ উচ্চ ফলনশীল এবং মিষ্টি স্বাদের একটি জাত। রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় এবং বাজারমূল্য বেশি থাকায় এটি কৃষকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। পারিবারিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবেও এ ফল চাষের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্র শুধু ফলদ ফসল নয়, বিভিন্ন মৌসুমি ও অমৌসুমি সবজি উৎপাদন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং উন্নত কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনেও কাজ করছে। গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রটির দায়িত্বপ্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে এ কাজগুলো দেখভাল করছেন রাইহুল ইসলাম রাসেল ও মো. ফুয়াদ মিয়া। সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মো. এমদাদুল হক। কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করে কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে রামগড়ের এই গবেষণা কেন্দ্র।
Posted ০৩:৫৩ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Amiyou Rudra
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com