রবিবার ৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x

ফিলিস্তিন কি শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যাবে?

মঙ্গলবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৫   প্রিন্ট   ৭২৫ বার পঠিত

ফিলিস্তিন কি শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যাবে?

ফিলিস্তিনে চলমান ইসরাইলি আগ্রাসনের মাঝে যুদ্ধ বিরতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। সম্ভাব্য যুদ্ধ বিরতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছিল। সেই আলোচনার মাঝেই ইসরাইলি বর্বর বাহিনী নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করেছে। ফলে যুদ্ধ বিরতি ক্ষীণ সম্ভাবনা তিরোহিত হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে। ভারি অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ইসরাইলি বাহিনী প্রতিদিন ফিলিস্তিনি জনগণের উপর আক্রমন পরিচালনা করছে। গুড়িয়ে দিচ্ছে একের পর এক স্থাপনা। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ গাজায় সামরিক অভিযান জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, তারা বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা গাজায় তাদের অভিযান আরো জোরদার করবে। এটা করা হলে গাজা কার্যত মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। ইতিমধ্যেই ইসরাইল গাজার ৬২ বর্গ কিলোমিটার বা ১৭ শতাংশ এলাকা দখল করে নিয়েছে। দখলকৃত বিশাল এলাকা ইসরাইলের নিরাপত্তা অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা হবে বলে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে গাজাবাসিদের তাদের আবাসস্থল ছেড়ে অন্যত্র চলে যাবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যারা এই নির্দেশনা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাৎজে এক বিবৃতিতে বলেছেন, গাজার নির্দিষ্ট এলাকার অধিবাসিদের দ্রুত তাদের আবাসিক এলাকা ছেড়ে দিতে হবে। তিনি গাজাবাসির প্রতি হামাসকে নির্মূল করার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, হামাসকে নির্মূল করে ইসরাইলি বন্দীদের ফেরত আনার মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধের উপকরণ নিহিত রয়েছে।

নব পর্যায়ে ফিলিস্তিন সংকট শুরু হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর। সেই সময় ইরান সমর্থিত সংগঠন হমাস ইসরাইলি বাহিনীর উপর ব্যাপক হামলা শুরু করে। এ থেকে নতুন পর্যায়ে ফিলিস্তিন সংকট শুরু হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, এ পর্যন্ত হামাসের আক্রমনে ১ হাজার ২১৮জন ইসরাইলি নিহত হয়েছে। তবে অন্য একটি সূত্র মতে, নিহতের সংখ্যা আরো বেশি হবে। কারণ ইসরাইল তাদের নিহত সৈন্য এবং সাধারণ মানুষের প্রকৃত হিসাব প্রকাশ করে না। এতে করে জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে। এমনিতেই ইসরাইলী সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের প্রধানমন্ত্রী নেতাহিয়াহুর জনপ্রিয়তা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে যদি যুদ্ধকে দীর্ঘ স্থায়ী না করা যায় তাহলে তার পতন ঘটতে পারে। যৌক্তিক প্রয়োজনে না হলেও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর গদি টিকিয়ে রাখার জন্য এই যুদ্ধের প্রয়োজন রয়েছে। ইসরাইলের প্রতিশোধমূলক আক্রমনের কারণে গাজায় এ পর্যন্ত ৫০ হাজার ৩৫৭ জন নিহত হয়েছে। এদের বেশির ভাগই নিরীহ মানুষ। এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৩ হাজার ৯৫১ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। গত ১৮ মার্চ নতুন করে ইসরাইলি হামলা শুরু হবার পর থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৫০জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বাচ্চাদের স্কুলে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে নিহত হচ্ছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার মতে, গাজায় গত ১৮ মাসে ১৫ হাজার শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। ইসরাইলি অভিযানে এ পর্যন্ত ৪০ হাজার শিশু মাতৃহারা হয়েছে। গাজায় যুদ্ধরত মুসলিম বাহিনী হামাসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত গাজায় ১৯ হাজার শিশু শহীদ হয়েছে। আর আহত হয়েছে ৩৯ হাজার শিশু। গাজার মোট ২৩ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ৫১ শতাংশই শিশু। নিহত শিশুদের মধ্যে অনেকেই রয়েছে যারা জন্মের মাত্র এক মাসের মধ্যে নিহত হয়েছে। বাবার কোলে শিশু সন্তানের লাশ এখন ফিলিস্তিনের নিত্য দিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা এমনই দুর্ভাগা জাতি যে তাদের নিজ বাসভূমে পরবাসী হয়ে বাস করতে হচ্ছে। সম্প্রতি গাজায় ইসরাইলি সৈন্যরা ঠান্ডা মাথায় ১৫ জন চিকিৎসককে হত্যা করেছে। চিকিৎসকদের হত্যার উদ্দেশ্য হচ্ছে তারা যাতে আহত রোগিদের চিকিৎসা দিতে না পারেন। কতটা নির্মিম হলে এমন কাজ করতে পারে।

বর্তমান বিশ্ব সভ্যতায় সবচেয়ে বর্বরতার সৃষ্টি করে চলেছে ইসরাইলি বাহিনী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সমর্থনে ইসরাইলি বাহিনী নিরীহ ফিলিস্তিনিদের উপর নির্মম বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থাই ফিলিস্তিনিদের পক্ষে দাঁড়াচ্ছে না। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র-অর্থ দিয়ে ইসরাইলি নির্মমতাকে সহযোগিতা করে চলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে এক ধরনের দায়মুক্তি দিয়ে রেখেছে। ফলে বিশ্বের অন্য কোনো দেশ ইসরাইলের বর্বরতার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছে না। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আচরণ প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে মুসলিম দেশগুলোর ক্ষেত্রে। তারা মুখে ফিলিস্তিনের সমর্থন করলেও ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে পারছে না। যেসব মুসলিম দেশ বিশ্বে অত্যন্ত প্রভাবশালি হিসেবে পরিচিত তারা নতজানু হয়ে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভয়ে। বিশ্বে প্রায় দেড় শত কোটি মুসলমান রয়েছে। তারা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় সোচ্চার হতো তাহলে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিতে পারতো। যেসব মুসলিম দেশ ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারতো তারা চুপ করে বসে আসে। এর কারণ হচ্ছে অধিকাংশ মুসলিম দেশে গণতন্ত্র নেই। যেহেতু রাজতন্ত্রের মাধ্যমে এসব দেশ পরিচালিত হচ্ছে তাই তারা সব সময় ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ভীত থাকে। কারণ তারা জানে কোনো কারণে যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে ইসরাইলের তারা ঐক্যবদ্ধ হবার চেষ্টা করে তাহলে ‘আরব বসন্ত’র মাধ্যমে রাজতন্ত্র উচ্ছেদ করা হতে পারে। যেমন কোনো কোনো দেশে ইতিমধ্যেই করা হয়েছে। তাই তারা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ইসরাইলের সঙ্গে আপোষ করে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। এমন মুসলিম দেশও আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যারা ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করতে পারে।

আমরা যদি ফিলিস্তিনের ইতিহাস পর্যালোচনা করি তাহলে দেখবো, এক সময় পুরো ফিলিস্তিন এলাকা ছিল মুসলমানকে নিয়ন্ত্রণে এবং মুসলমানদের নিজস্ব আবাসভূমি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানের পরাজয়ের পর ইহুদিরা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হয়। সেই সময় কিছু ইহুদিকে ফিলিস্তিনে এনে আশ্রয় দেয়া হয়। মুসলমানরা মানবতার খাতিরে বিপদগ্রস্ত ইহুদিদের আশ্রয় দেয়। ইহুদিরা বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় তাদের জ্ঞাতিগোষ্ঠীকে এনে ফিলিস্তিনে স্থান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা আশ্রয়দাতা ফিলিস্তিনিদের মাতৃভূমিকে দখল করে নেয়। বিশ্বাসঘাতক ইহুদিরা মুসলমানদের সরলতার মূল্য এমনি করেই দেয়। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন সমস্যা শুরু হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনী প্রতিনিয়তই তাদের বসতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে মুসলমানদের আবাসিক এলাকা দখল করে নিতে থাকে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বিভিন্ন দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করলেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তারা কেনো যেনো চুপ হয়ে আছে।
১৯৬৭ সালে ৬দিনের যুদ্ধে ইসরাইলি বাহিনী ফিলিস্তিনের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। এই সময় পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম, গোলান মালভূমি ইসরাইলি দখলে চলে যায়। ১৯৭৩ সালে ইসরাইলি বাহিনী আবারো যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং নতুন করে বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান মতানৈক্য এবং আমেরিকা ভীতির কারণে ইসরাইল ফিলিস্তিন দখল করার সুযোগ পাচ্ছে। বর্তমানে অবস্থা এমন হয়েছে যে, ফিলিস্তিন নামক দেশটি পৃথিবীর মানচিত্র থেকে সম্পূর্ণরূপে মুছে যাবার পর্যায়ে রয়েছে। কিছু দিন আগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনী মুসলমানদের সৌদি আরবে আশ্রয় দেবার প্রস্তাব করেছে। ফিলিস্তিন নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ একটি অঞ্চল। এখানে রয়েছে জেরুজালেমের মতো শহর, যেখানে মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল আকসা মসজিদ অবস্থিত। ইহুদি এবং খৃষ্টানদের জন্য জেরুজালের পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত।

কিছুদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা খালি করে সেখানে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই প্রস্তাব সমর্থন করে গাজাবাসিকে স্বেচ্ছায় তাদের আবাসন ভূমি ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাবার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তারা গাজাবাসিকে স্বেচ্ছায় গাজা ত্যাগে সুবিধা দেবার জন্য পরিকল্পনা করছেন। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হামাসের নিকট থাকা আরো ৫৯জন ইসরাইলি বন্দীকে মুক্ত করার জন্য হামাসের উপর চাপ প্রয়োগই সর্বোত্তম পন্থা। মার্কিন সমর্থিত ৬ সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধ বিরতি চুক্তির পর গত মাসে ইসরাইল পুনরায় গাজায় বিমান হামলা করে এবং স্থল বাহিনী প্রেরণ করেছে। যুদ্ধ বিরতি কার্যকর করার জন্য কাতার ও মিশর চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি।

মুসলমানরা কোনোভাবেই ফিলিস্তিনের অধিকার অন্য কারো কাছে ছেড়ে দিতে রাজী নয়। কারণ ফিলিস্তিন একান্তই তাদের নিজস্ব আবাসভূমি। আবার ইসরাইলি কর্তৃপক্ষও ফিলিস্তিনের উপর থেকে অধিপত্য হারাতে চায় না। ফলে টেবিলের উভয় প্রান্তে অবস্থানরত দু’পক্ষের হাত হাত কোনোভাবেই মেলানো সম্ভব হচ্ছে না। ফিলিস্তিনের মোট ভূখন্ডের বেশির ভাগই এখন ইসরাইলের দখলে চলে গেছে। অবস্থা যেভাবে এগুচ্ছে তাতে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে পুরো ফিলিস্তিন ইসরাইলের কব্জায় চলে যেতে পারে। ফিলিস্তিনের স্ট্যাটাস নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি মত বেশ জোরালো হয়ে উঠতে শুরু করেছে। আবেগ এবং যুক্তি দিয়ে সব সময় সবকিছু করা যায় না। সমস্যা সমাধান করতে হলে কোনো কোনো সময় কিছুটা ছাড় দিতেও হয়। ফিলিস্তিন মুসলমানদের নিজস্ব সম্পদ। ইসলাইলিরা এখানে দখরদার বাহিনী বা বহিরাগত এটাও ঠিক। বর্তমান অবস্থায় যুদ্ধের মাধ্যমে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান চাইলে কোনো এক পক্ষকে নিশ্চিহ্ন হতে হবে। কিন্তু বাস্তবতার প্রেক্ষিতে এটা সম্ভব নয় বলেই মনে হয়। ইসরাইল কোনোভাবেই ফিলিস্তিনীদের নিজ ভূমিতে থাকতে দেবে না। আর ফিলিস্তিনিরাও তাদের নিজস্ব ভূমির অধিকার হারাতে রাজি নন। উপরন্তু তারা ইসরাইলিদের বিতাড়িত করার জন্য বদ্ধপরিকর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করছেন, বাস্তবতার নিরিখে উভয় পক্ষকেই কিছুটা ছাড় দিতে হবে। তাই বিকল্প যে ব্যবস্থাটি অনেকেই ভাবছেন তাহলো, দুই রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধান। ৫১ শতাংশ ইসরাইলিও মনে করে, দুই রাষ্ট্র গঠন করা হলেই শুধু এই সমস্যার স্থায়ী এবং গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে। ইসরাইল নামক রাষ্ট্রটি স্বীকার করা নেয়া হবে। তবে তাদেরকে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে জয় করা আরব ভূমি মুসলিম দেশগুলোর নিকট হস্তান্তর করতে হবে। আর ইসরাইলকেও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে স্বীকার করে নিতে হবে। ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনকে কেন্দ্র করে দু’টি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করা হলেই কেবল এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। ৫১ শতাংশ ইসরাইলি দ্বি-রাষ্ট্রিক সমাধানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আসলে সবাই শান্তিতে বসবাস করতে চায়। কিন্তু শাসকদের কারণে জনগণ শান্তিতে থাকতে পারে না। ইসরাইলের একদল আইনজীবী ইসরাইলি বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত দাবি করেছেন।

বাংলাদেশ ফিলিস্তিন ইস্যুতে সব সময়ই সোচ্চার। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশ ফিলিস্তিনকে সমর্থন করে আসছে। নিপীড়িত গাজাবাসি গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যার প্রতিবাদে বিশ্বব্যাপী হরতাল পালনের আহ্বান জানিয়েছে। গত কাল (০৮-০৪-২০২৫) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘ নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। তবে আমাদের একটি কথা মনে রাখতে হবে, অস্ত্রের বিরুদ্ধে লড়তে হলে অস্ত্র প্রয়োজন। শুধু মুখের প্রতিবাদ করে কোনো লাভ হবে না। তাই এ মুহূর্তে বিশ্বের সবগুলো মুসলিম দেশকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি ফিলিস্তিনি মুসলিম ভাইদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী ইসরাইলি শক্তির বিরুদ্ধে একযোগে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে নাকি ঘরে বসে শুধু প্রতিবাদ জানাতে থাকবে। বর্তমান বিশ্বে যেসব দেশ মানবতা মানবতা নিয়ে চিৎকার করে সেই সব দেশই তো ইসরাইলকে সমর্থন-সহযোগিতা দিয়ে চলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির একটি বড় অংশ জুড়ে আছে অস্ত্র ব্যবসায়। তাদেরও সিদ্ধান্ত নিতে তারা কি অস্ত্রের জোরে বিশ্ব মানবতাকে বিপন্ন করবে নাকি শান্তির পথে,আলোর পথে ধাবিত হবে?

ফিলিস্তিন ইস্যুতে আরব দেশগুলোর ভূমিকা ন্যাক্কারজনক। তারা মুসলিম ভ্রাতৃত্ব বোধে জাগ্রত হয়ে ফিলিস্তিনি ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর চেয়ে নিজস্ব ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্যই তৎপর রয়েছে। সৌদি আরব এবং আরো দু’একটি মুসলিম দেশ পরোক্ষভাবে ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। তাদের মনে আরব বসন্তের ভয় রয়েছে। কিন্তু হয়তো ভুলে গেছেন, ইসরাইল বা আমেরিকা কখনোই একটি মুসলিম রাষ্ট্রের শুভাকাঙ্খি হতে পারে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল সেই গল্পের আখ চোরের মতো ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। দু’ব্যক্তি একজনের আখ ক্ষেত্রে গিয়েছে আখ চুরির করার জন্য। তাদের একজন মুসলমান এবং অন্যজন হিন্দু। এমন সময় জমির মালিক এসে উপস্থিত। জমির মালিক চিন্তা করলেন তার পক্ষে দুইজন চোরের সঙ্গে শক্তিতে কুলিয়ে উঠা সম্ভব নয়। তাই তিনি কৌশল অবলম্বন করলেন। তিনি প্রথমে হিন্দু লোকটিকে ধরলেন। তিনি বলে তুই ব্যাটা হিন্দু হয়ে আমার আখ ক্ষেত্রে কেনো চুরি করতে এলি? মুসলমান লোকটি আমার জ্ঞাতিভুক্ত। সে না হয় আখ চুরি করতে পারে। কিন্তু তুই কেনো চুরি করতে গেলি। তিনি এই বলে আখ চোরকে পিটানি দেয়া শুরু করলেন। পিটানি দেবার পর হিন্দু আখ চোরকে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দিয়ে তিনি মুসলমান চোরকে পিটানি শুরু করলেন। তিনি বলতে থাকেন, হিন্দু লোকটি না হয় অন্য জাতি সে চুরি করতে পারে। কিন্তু তুই আমার নিজের জাতি হয়ে কেনো চুরি করতে গেলি। তাকেও আচ্ছা মতো পিটানি দিয়ে বিদেয় করে দেন। আরব দেশগুলোর অবস্থা ঠিক তেমনি। তারা ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিনে পরিচালিত বর্বরতায় তারা হয়তো পুলকিত হচ্ছে এই ভেবে যে যাক তাদের উপর তো কোনো আক্রমন করা হচ্ছে না। কিন্তু সে দিন খুব বেশি দূরে নয় যেদিন তাদের উপরও এমন আক্রমন পরিচালিত হতে পারে। কাজেই সময় থাকতে সাধু সাবধান।

ইসরাইল এবং ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানের জন্য জাতিসংঘের সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ফিলিস্তিনের মতো জ¦লন্ত ইস্যুতে যদি অবদান রাখতে না পারে তাহলে জাতিসংঘের অস্তিত্ব থাকার প্রয়োজন নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।

Facebook Comments Box

Posted ০৭:৫৮ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৫

bankbimaarthonity.com |

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com