|

Advertisement
×

বাংলাদেশ ব্যাংক ও পিকেএসএফের মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬   প্রিন্ট   ২৮ বার পঠিত

বাংলাদেশ ব্যাংক ও পিকেএসএফের মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত

দেশের মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ খাতে অর্থায়ন বাড়িয়ে তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদার এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পিকেএসএফের মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তাফা এবং পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ, ডেপুটি গভর্নর মো. আনিছুর রহমান এবং পরিচালক মো. জবদুল ইসলামসহ এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পিকেএসএফের পক্ষেও প্রতিষ্ঠানটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এর আগে গত ২৩ মে দেশের কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে পিকেএসএফের মাধ্যমে বিশেষায়িত কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তৃণমূল পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং বিদ্যমান ক্ষুদ্র ব্যবসার সম্প্রসারণে এ তহবিল ব্যবহার করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও পিকেএসএফের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোগের পাশাপাশি এসব উদ্যোগের সঙ্গে সম্পর্কিত পশ্চাৎমুখী ও অগ্রমুখী মূল্যশৃঙ্খলের ব্যবসাগুলোকেও অর্থায়নের আওতায় আনা হবে। এর ফলে উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন ও সংশ্লিষ্ট সেবাখাতে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই কর্মসূচি মূলত তিনটি বিষয়ের সমন্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। এগুলো হলো—আর্থিক সেবা প্রদান, ব্যবসাগুচ্ছভিত্তিক মূল্যশৃঙ্খল উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি। অর্থায়নের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পিকেএসএফ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা সম্ভাবনাময় ব্যবসাগুচ্ছ বা ক্লাস্টারের উন্নয়নে কাজ করবে। এসব অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে যেসব ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উৎপাদন কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলোকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নারী ও তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি বিদ্যমান ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকে সম্প্রসারণের সুযোগ দেওয়া হবে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে আয় ও উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহও বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

পিকেএসএফের লক্ষ্য হলো এই কর্মসূচির আওতায় মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ খাতে প্রায় ২ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্ভাবনাময় ব্যবসাগুচ্ছকে কেন্দ্র করে নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান উদ্যোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তহবিল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। মাঠপর্যায়ে অর্থায়নের চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় এবং সীমিত অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ৫ হাজার কোটি টাকার এই প্রণোদনা তহবিলকে আবর্তক তহবিল হিসেবে পরিচালনা করা হবে। অর্থাৎ অর্থায়ন থেকে পাওয়া অর্থ পুনরায় ব্যবহার করে নতুন উদ্যোক্তা ও ব্যবসাকে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আবর্তক তহবিল হিসেবে পরিচালিত হলে তহবিলের অর্থ দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন উদ্যোক্তার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে একদিকে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে বিদ্যমান ব্যবসাগুলোর সম্প্রসারণেও ধারাবাহিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা যাবে।

দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসা ও মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ খাত দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হলেও এ খাতে অর্থায়ন, দক্ষতা এবং বাজারসংযোগের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে গ্রাম ও প্রান্তিক এলাকায় ছোট উদ্যোগের উদ্যোক্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। নতুন এই তহবিল সেই সীমাবদ্ধতা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু ঋণ বিতরণ নয়, বরং উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও ব্যবসাগুচ্ছভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে কোনো একটি ব্যবসাকে আলাদাভাবে সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত উদ্যোগগুলোকেও অর্থায়নের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, ৫ হাজার কোটি টাকার এই বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে দেশের মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ খাতে নতুন গতি তৈরি হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, নারী ও তরুণদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব হবে।

Facebook Comments Box

Posted ০৭:১৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com