নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬ প্রিন্ট ৩১ বার পঠিত
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সব সময়ই পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে কমোডিটি ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য সিএসই সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগ পুঁজিবাজারের জন্য অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সিএসইর এএম-পিএন্ডসিআর ও পিআরডি তানিয়া বেগম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়েছে, আজ পুঁজিবাজার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা ও প্রায়োগিক পরিচালনা সম্পর্কে সম্যক ধারণা গ্রহণ এবং একই সঙ্গে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থীর একটি দল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির আগ্রাবাদ, চট্টগ্রামস্থ কার্যালয়ে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং বিজনেস’ বিষয়ক শিক্ষা সফর সম্পন্ন করেছে। বাংলাদেশ পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এবং বিনিয়োগ শিক্ষার অংশ হিসেবে সিএসই প্রতিনিয়তই এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমন্ত্রণ ও স্বাগত জানিয়ে আসছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে সিএসই কর্তৃপক্ষের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার, এফসিএ, এফসিএমএ, জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড হেড অব রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন মোহাম্মদ মর্তুজা আলম, ডিজিএম অ্যান্ড হেড অব ক্লিয়ারিং, সেটেলমেন্ট অ্যান্ড লিস্টিং কমপ্লায়েন্স একেএম শাহরোজ আলম, এজিএম অ্যান্ড হেড অব ইন্টারনাল অডিট ডিপার্টমেন্ট মোহাম্মদ বারাকাত শফি, এসিসিএ এবং ব্যবস্থাপক, প্রোমোশন অ্যান্ড প্রি-লিস্টিং ডিপার্টমেন্ট মোহাম্মাদ হাবিব উল্লাহ। অধিবেশনটি পরিচালনা করেন হেড অব ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস এম সাদেক আহমেদ। অনুষ্ঠানে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর এ কাইয়ুম চৌধুরী।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার, এফসিএ, এফসিএমএ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একটি কার্যকর পুঁজিবাজারের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার জ্ঞান, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি জরুরি। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিজেদের বহুমাত্রিক দক্ষতায় উন্নীত করতে হবে। আজকের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পুঁজিবাজারের কার্যক্রম, ট্রেডিং ও সেটেলমেন্ট, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা, সার্ভেইলেন্স এবং প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেয়েছেন। পুঁজিবাজারের পুরো কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হতে হলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে এবং যত জানা যাবে, তত শেখা যাবে। এ ক্ষেত্রে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রায়োগিক শিক্ষাও জরুরি।
তিনি আরও বলেন, সিএসই সব সময়ই পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে কমোডিটি ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য সিএসই সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, এই উদ্যোগ পুঁজিবাজারের জন্য অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই পুঁজিবাজার এমন একটি স্থান যেখানে সঞ্চিতির বিনিয়োগ যেমন হয়, তেমনই এই মার্কেট থেকে নতুন পুঁজি নিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। পুঁজিবাজারের সম্পূর্ণ কার্যক্রম টেকনিক্যাল এবং রেগুলেটরি কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান অর্জন করা এবং সেভাবে নিজেকে প্রস্তুত করা প্রয়োজন।
জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড হেড অব রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন মোহাম্মদ মর্তুজা আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকারী এবং কর্ণধার উভয়ই হবেন আজকের শিক্ষার্থীরা। তাই শিক্ষাকালীন সময় থেকেই এই পুঁজিবাজার এবং এর কার্যক্রম সম্পর্কে জানা, গবেষণা করা, সম্যক জ্ঞান লাভ করা এবং সুযোগ থাকলে প্রায়োগিক জ্ঞান গ্রহণ করা প্রয়োজন। পুঁজিবাজারে ইনভেস্টর ছাড়াও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার অনেকগুলো সুযোগ রয়েছে। যেমন, উদ্যোক্তা, কনসালটেন্ট, ট্রেইনার, পরিকল্পনাকারী কিংবা অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষণকারী হিসেবেও কাজ করা যাবে। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে তৈরি হতে হবে, যেন যা হওয়ার কথা ছিল বা যা হয়নি সেগুলো করার উদ্যম ও প্রচেষ্টা তাদের লক্ষ্যে থাকে। শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রয়াস বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। আজকের শিক্ষার্থীদের নিতে হবে সেই দায়িত্ব, হতে হবে আগামী দিনের সফল কর্ণধার।
প্রফেসর এ কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পুঁজিবাজারের অবস্থানের পেছনে সিএসই সব সময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে, যার সাম্প্রতিক একটি উদাহরণ হলো কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। তিনি উপস্থিতিদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা সামনে এই পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক, আজকের এই শিক্ষা সফরই হতে পারে তাদের প্রথম পদক্ষেপ। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সিএসইর অগ্রণী ভূমিকা উপস্থিতিদের তুলে ধরেন এবং ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বর্তমানে প্রচলিত এবং অদূর ভবিষ্যতে নতুন চালু হতে যাওয়া প্রোডাক্ট বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অবহিত করেন। এছাড়াও আর্থিক পরিকল্পনা, ঝুঁকি এবং পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পর্কিত রিটার্ন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে এবং তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুরক্ষার জন্য তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে পুঁজিবাজার সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা প্রদান ও প্রায়োগিক পরিচালনা বিষয়ে অবহিত করতে এম সাদেক আহমেদ তাঁর উপস্থাপনা প্রদান করেন। এরপর অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভাগীয় প্রধানরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।
আগত শিক্ষার্থীরা পুঁজিবাজারের কাঠামোতে আগামী দিনগুলোতে বিভিন্ন বিষয়বস্তুর ওপর আয়োজিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা কিংবা সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং সিএসইর অগ্রণী কার্যক্রমগুলো ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে ও পুঁজিবাজারকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।
Posted ০৭:৪৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com