|

Advertisement
×

বিদেশি কার্ডের অর্থে ১৫% বৈদেশিক মুদ্রা রাখতে পারবেন ব্যবসায়ীরা

রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬   প্রিন্ট   ১০ বার পঠিত

বিদেশি কার্ডের অর্থে ১৫% বৈদেশিক মুদ্রা রাখতে পারবেন ব্যবসায়ীরা

বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আন্তর্জাতিক কার্ডসহ অনুমোদিত পরিশোধ ব্যবস্থায় পণ্য ও সেবা বিক্রি করে পাওয়া অর্থের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় নিজেদের হিসাবে রাখতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। বাকি ৮৫ শতাংশ অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে টাকায় রূপান্তর করতে হবে। সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা প্রতিষ্ঠানগুলো বৈধ বৈদেশিক দায় পরিশোধে ব্যবহার করতে পারবে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-২ এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। দেশের সব অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংককে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, বিপণি-বিতান, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদেশি ক্রেতা ও পর্যটকদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক কার্ডে পাওয়া অর্থের একটি অংশ সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণের সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বিদেশি দর্শনার্থীদের আন্তর্জাতিকভাবে ইস্যু করা কার্ড এবং অন্যান্য অনুমোদিত পরিশোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে পণ্য ও সেবা কেনাবেচাকে উৎসাহিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত ব্যাংকের মাধ্যমে এসব লেনদেন থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে জমা রাখা যাবে।

তবে এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশের সীমা নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থাৎ, বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে ১০০ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১৫ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে রাখতে পারবে। অবশিষ্ট ৮৫ টাকার সমপরিমাণ অর্থ স্থানীয় মুদ্রা টাকায় রূপান্তর করতে হবে।

নতুন নিয়মে সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা ইচ্ছামতো খরচ করার সুযোগ থাকছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব অর্থ চলতি হিসাবের আওতাভুক্ত বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার দায় পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে করা অনুমোদিত পরিশোধও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তবে বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের সুবিধা পেলেও সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযোজ্য কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) যথাযথভাবে পরিশোধ করতে হবে। লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কর ও ভ্যাট কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, বৈদেশিক মুদ্রা রাখার সুযোগ দেওয়া হলেও কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতায় কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে, সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক কার্ড ও অন্যান্য অনুমোদিত পরিশোধব্যবস্থা গ্রহণের উপযুক্ত ব্যবস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচিতি, ব্যবসার বৈধতা ও লেনদেনের প্রকৃতি যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে।

বিদেশি মুদ্রা সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি অর্থপাচার ও অবৈধ অর্থের প্রবাহ ঠেকাতেও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অনুমোদিত ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের পরিচিতি যাচাই, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত বিধান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন দেওয়ার নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হলে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

নতুন এ সুবিধার আওতায় হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, বিপণি-বিতান, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রসহ বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছে পণ্য ও সেবা বিক্রি করে আন্তর্জাতিক কার্ড বা অন্য অনুমোদিত পরিশোধ ব্যবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রা আয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলো আসবে।

সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য এ সিদ্ধান্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় কিছুটা নমনীয়তা তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ করে বৈধ আন্তর্জাতিক দায় পরিশোধের সুযোগ দেবে। এতে এসব প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক লেনদেন পরিচালনার ক্ষেত্রে সুবিধা তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা ও বিভিন্ন সেবা গ্রহণে উৎসাহিত করাও এ সিদ্ধান্তের অন্যতম উদ্দেশ্য। আন্তর্জাতিক কার্ডে লেনদেন সহজ হলে বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য অর্থ পরিশোধের সুবিধা বাড়তে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সুযোগ পাবে।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় বিভিন্ন বৈধ লেনদেনের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ধারাবাহিকতায় এবার বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছে পণ্য ও সেবা বিক্রি করে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হিসাবে সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত ব্যাংকগুলোকে নতুন নির্দেশনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে অবহিত করারও নির্দেশ দিয়েছে।

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ০৭:৩৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com