নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ১৫ বার পঠিত
দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ২২টি ব্যাংক পুঞ্জীভূত লোকসানে রয়েছে। গত মার্চ পর্যন্ত এসব ব্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে চারটি রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকও রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। রোববার (০৪ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চ ২০২৬ ভিত্তিতে ব্যাংক খাতের পরিচালন মুনাফা ছিল ৭৮৯ কোটি টাকা। তবে বিভিন্ন ব্যয়, প্রভিশন সংরক্ষণ ও অন্যান্য সমন্বয়ের পর ব্যাংকগুলোর নিট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।
লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো—জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক। বিশেষায়িত ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকও লোকসানে রয়েছে। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান লোকসানে রয়েছে।
এ ছাড়া লোকসানে থাকা ১৫টি বেসরকারি ব্যাংক হলো—এবি, বাংলাদেশ কমার্স, এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, আইসিবি ইসলামিক, আইএফআইসি, ইসলামী, মেঘনা, ন্যাশনাল, গ্লোবাল ইসলামী, পদ্মা, সীমান্ত, সোশ্যাল ইসলামী, দ্য প্রিমিয়ার ও ইউনিয়ন ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, উচ্চ শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ, মূলধন ঘাটতি এবং দুর্বল সম্পদমান ব্যাংকগুলোর আয়ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ফলে পরিচালন পর্যায়ে মুনাফা থাকলেও বিভিন্ন সমন্বয়ের পর অনেক ব্যাংক নিট লোকসানে পড়ছে।
খেলাপি ঋণ ৬ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা:
ব্যাংক খাতের দুর্বলতার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে খেলাপি ঋণের ব্যাপক বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ৩০ জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৩ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ২২টি ব্যাংকের লোকসানে থাকা কোনোভাবেই স্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি নয়। খেলাপি ঋণের হার প্রায় এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে, আবার ব্যাংকেরও এক-তৃতীয়াংশের বেশি লোকসানে রয়েছে। এতে ব্যাংক খাতের প্রতি মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।
১২ ব্যাংককে ৮৫ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা:
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত মার্চ পর্যন্ত ১৫টি ব্যাংক ন্যূনতম মূলধন সংরক্ষণ করতে পারেনি। এ ছাড়া গত ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২টি ব্যাংককে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ১৫ হাজার ৮১০ কোটি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ১০ হাজার ৮৪৩ কোটি, এক্সিম ব্যাংক ১২ হাজার ১০ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংক ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক ৫ হাজার ৪২১ কোটি টাকা সহায়তা পেয়েছে।
এ ছাড়া গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ৩ হাজার ৪ কোটি, এবি ব্যাংক ৪ হাজার ২৭০ কোটি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ৬১৫ কোটি, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ২৫২ কোটি, পদ্মা ব্যাংক ২৫২ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংক ৪ হাজার ৯০০ কোটি এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ১৭ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা পেয়েছে।
বৈঠকে ব্যাংক খাত সংস্কার ও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন প্রস্তাবও দেওয়া হয়। কমিটির সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ খেলাপি ঋণ স্থায়ীভাবে বন্ধে সংস্কার প্রস্তাব দেন। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম তাঁদের দলের পক্ষ থেকে ব্যাংক খাত সংস্কারে লিখিত প্রস্তাব তুলে ধরেন।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সংসদীয় কমিটির কাছে সরকারের জবাবদিহি করার দায়িত্ব রয়েছে এবং কোনো বিষয়ে লুকোচুরি করা হবে না। অর্থনীতিতে রাজনীতিকীকরণের কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বৈঠক শেষে সংসদ সদস্য সাইফুল আলম বলেন, বাংলাদেশের মতো ছোট অর্থনীতির দেশে এতগুলো ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান। কমিটির সদস্যদের মধ্যে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, জালাল উদ্দিন, মঈনুল ইসলাম খান, সফিকুর রহমান ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন।
Posted ০৮:০৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com