নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ১৬ বার পঠিত
বাংলাদেশে ভোক্তা বা রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রি করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। ব্যক্তিগত ঋণ, শাখা কার্যক্রম, ইসলামি ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডসহ রিটেইল ব্যাংকিংয়ের আওতাভুক্ত ব্যবসা বিক্রির জন্য দেশের একাধিক ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করছে ব্যাংকটি।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের এই ব্যবসা অধিগ্রহণে শুরুতে আগ্রহ দেখিয়েছিল ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক। নতুন করে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পূবালী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। এরই মধ্যে কয়েকটি ব্যাংক ব্যবসাসংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ের জন্য অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি বা এনডিএ সই করেছে। অন্য ব্যাংকগুলোও এনডিএ সই করতে আগ্রহ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যাংকারদের মতে, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল ব্যবসার অন্যতম আকর্ষণ এর আমানত। এ খাতে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা আমানত রয়েছে, যার বড় অংশ তুলনামূলক কম সুদের। এসব আমানতের বিপরীতে প্রায় ১ থেকে ২ শতাংশ সুদ দিতে হয়। বিপরীতে দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে আমানতের সুদহার সাধারণত ৬ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে। ফলে কম খরচের আমানত পাওয়ার সুযোগ থাকায় ভালো মানের কয়েকটি ব্যাংক ব্যবসাটি কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
তবে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জনবল। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড তাদের রিটেইল ব্যবসার সম্পদ ও দায়ের পাশাপাশি প্রায় দেড় হাজার কর্মীকেও অধিগ্রহণের শর্ত দিয়েছে। ব্যাংকটির মোট প্রায় ১ হাজার ৯০০ কর্মীর মধ্যে দেড় হাজারই রিটেইল ব্যাংকিংয়ে কাজ করেন। ফলে এত বড় জনবল গ্রহণের পর ব্যবসাটি কতটা লাভজনক হবে, তা নিয়ে আগ্রহী ব্যাংকগুলো নতুন করে হিসাব করছে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল ব্যবসার আওতায় রয়েছে ১৮টি শাখা, একটি ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো, ইসলামি ব্যাংকিং সেবা, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাব, স্থায়ী ও বৈদেশিক মুদ্রার আমানত, ব্যক্তিগত ঋণ, গাড়ির ঋণ এবং গৃহঋণ। সব মিলিয়ে এ ব্যবসায় প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার আমানতের বিপরীতে ঋণের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।
আরেকটি বিষয় নিয়েও আগ্রহী ব্যাংকগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। রিটেইল ব্যবসা অধিগ্রহণের পর কোনো ব্যাংকই স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের নাম ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে বর্তমানে যে কম সুদের আমানত রয়েছে, ব্যাংকের নাম পরিবর্তনের পর তার কতটা ধরে রাখা সম্ভব হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের দুবাই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বাংলাদেশে রিটেইল ব্যবসা বিক্রির প্রক্রিয়াটি তদারক করছেন। একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। আগ্রহী ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক নিলামের মাধ্যমেই ব্যবসাটি বিক্রির সিদ্ধান্ত হবে। নিলামে অংশ নেওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্য থেকে চূড়ান্ত ক্রেতা নির্বাচন করা হবে।
পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল ব্যবসা অধিগ্রহণ নিয়ে তাঁদের আলোচনা হয়েছে। তবে কর্মীদের বিষয়েও নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে। এত বড় জনবল গ্রহণ করা সম্ভব কি না এবং পুরো অধিগ্রহণটি ব্যাংকের জন্য কতটা লাভজনক হবে, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
চলতি বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশে রিটেইল ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। এরপর দেশের কয়েকটি ব্যাংক ব্যবসাটির অংশ অধিগ্রহণে আলোচনা শুরু করে। এর আগে গত বছরের মাঝামাঝি এইচএসবিসি বাংলাদেশে রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেয়। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয় আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংক।
বাংলাদেশের পাশাপাশি বৈশ্বিক ব্যবসায়িক কৌশলের অংশ হিসেবে কয়েকটি দেশ থেকেও স্থানীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম কমিয়েছে বা গুটিয়ে নিয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। তানজানিয়া ও আইভরি কোস্টে কনজ্যুমার, প্রাইভেট ও ব্যবসায়িক ব্যাংকিং থেকে সরে গেলেও করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং চালু রেখেছে ব্যাংকটি। শ্রীলঙ্কায় রিটেইল ব্যাংকিং ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবসাও বিক্রি করেছে তারা।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের প্রধান বিটপী দাশ চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক ব্যবসায়িক মডেলের কার্যকারিতা নিয়মিত মূল্যায়ন করে গ্রুপটি। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে যেখানে গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে বেশি সুবিধা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেখানে সম্পদ কেন্দ্রীভূত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
Posted ০৩:১১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com