|

Advertisement
×

৩৫৫ দিন থেকে ১৪ দিন: ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়ায় বড় সংস্কার আনছে সরকার

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬   প্রিন্ট   ৩০ বার পঠিত

৩৫৫ দিন থেকে ১৪ দিন: ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়ায় বড় সংস্কার আনছে সরকার

 ব্যবসা শুরুর দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ইউনিক বিজনেস আইডি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা নিবন্ধন, লাইসেন্স, ছাড়পত্র ও অনুমোদনের প্রয়োজনীয় তথ্য সংযুক্ত করে ব্যবসা শুরুর সময় ৩৫৫ দিন থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইনভেস্ট বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করছে। এ উদ্যোগের আওতায় ‘বাংলাবিজ’ (BanglaBiz) প্ল্যাটফর্মের জন্য ১৪ দিনের একটি ‘বিজনেস রেডিনেস প্যাকেজ’ তৈরি করা হচ্ছে।

বর্তমানে একটি কোম্পানি নিবন্ধনের পর কার্যক্রম শুরু করতে ট্রেড লাইসেন্স, ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন), ব্যাংক হিসাবসহ ব্যবসার ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন লাইসেন্স, ছাড়পত্র ও অনুমোদন নিতে হয়। এর মধ্যে ফায়ার ও পরিবেশগত অনুমোদনও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব অনুমোদন আবার আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) পাওয়ার পূর্বশর্ত হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ হয়।

ব্যবসায়ীদের মতে, কোম্পানি নিবন্ধন থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা কাঁচামাল আমদানির জন্য লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলা পর্যন্ত সময় ১৮০ থেকে ৩৫৫ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে।

একই তথ্য বারবার জমা দিতে হবে না

ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় একটির পর একটি পূর্বশর্ত পূরণ করতে হয় বলেই ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া দীর্ঘ হচ্ছে।

তিনি বলেন, ১৪ দিনে প্রক্রিয়াটি নামিয়ে আনার অর্থ কমপ্লায়েন্স বা বিধিবিধান বাতিল করা নয়। বরং বর্তমানে ব্যবসা শুরু বা এলসি খোলার জন্য যেসব পূর্বশর্ত বাধ্যতামূলক, সেগুলোর কিছু কমানো, পরবর্তী সময়ে সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া কিংবা একাধিক প্রক্রিয়া সমান্তরালে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হবে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় উদ্যোক্তাদের কোম্পানি নিবন্ধন, ফায়ার, পরিবেশসহ বিভিন্ন সেবার জন্য একই নথি বারবার জমা দিতে হবে না। একবার তথ্য জমা দেওয়ার পর তা ইউনিক বিজনেস আইডির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো তা ব্যবহার করতে পারবে।

এ ছাড়া একটি ড্যাশবোর্ডে কোন অনুমোদন পাওয়া গেছে, কোনটি বাকি রয়েছে এবং কোনো আবেদন কোন পর্যায়ে আটকে আছে—এসব তথ্য দেখা যাবে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ব্যবসা শুরু করতে প্রয়োজনীয় ধাপগুলো চিহ্নিত করেছে এবং প্রতিটি পর্যায়ে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, তারও ম্যাপিং সম্পন্ন করেছে। কিছু ক্ষেত্রে বিধিবিধান সংশোধনের কাজও শুরু হয়েছে।

একই সঙ্গে কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিজিটাল করা, ফায়ার ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা এবং লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করার কাজ চলছে।

শুধু নীতিতে নয়, বাস্তবায়নে গুরুত্ব

ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামিয়ে আনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড)-এর চেয়ারপারসন ও সাবেক ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি আবুল কাসেম খান।

তিনি বলেন, উদ্যোগটি স্বাগত জানানোর মতো। তবে এটি যেন শুধু নীতি বা পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বাস্তবে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

২০১১ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের সব ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন ব্যবস্থার আওতায় আনার সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছিল। তবে এরপর এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

২০২২ সালে তৎকালীন সরকার ই-কমার্স খাতের ব্যবসাগুলোর জন্য ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ডিবিআইডি) চালু করে।

আবুল কাসেম খান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা ইতোমধ্যে চালু রয়েছে। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশেও দ্রুত এমন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বিভিন্ন লাইসেন্স ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যবস্থার সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

ট্রেড লাইসেন্সের প্রক্রিয়া শুধু সহজ না করে প্রয়োজনে আলাদা ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত বলেও মত দিয়েছেন আবুল কাসেম খান।

তার মতে, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে একটি বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বরই যথেষ্ট হওয়া উচিত। এই নম্বর ব্যবহার করেই অনলাইন ব্যবসা পরিচালনা, আমদানি-রপ্তানি, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং বিকাশ বা নগদের মতো আর্থিক সেবা গ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত।

তিনি বলেন, যে বাস্তবতায় ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু হয়েছিল, বর্তমান ব্যবসায়িক পরিবেশ তার চেয়ে অনেক ভিন্ন। অনলাইনভিত্তিক ব্যবসার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। ফলে কয়েক দশক আগে চালু হওয়া বিভিন্ন লাইসেন্স ও বিধিবিধান এখনো প্রয়োজনীয় কি না, তা নতুন করে মূল্যায়ন করা দরকার।

পরবর্তী ধাপে খাতভিত্তিক লাইসেন্স সংস্কার

ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানিয়েছে, ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপের সংস্কার শেষ হওয়ার পর খাতভিত্তিক লাইসেন্সিং ব্যবস্থাকে সহজ করার কাজ শুরু হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি ইতোমধ্যে অগ্রাধিকার খাতগুলো চিহ্নিত করেছে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী এক মাসের মধ্যেই সংস্কারের কিছু প্রাথমিক ফল পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে সংস্কারের বড় একটি অংশ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আর পুরো ব্যবস্থাকে প্রায় এক বছরের মধ্যে কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর ফলে ব্যবসা নিবন্ধনের পর দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটকে না থেকে উদ্যোক্তারা দ্রুত ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box

Posted ১২:১৮ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com