|

Advertisement
×

দুদকের মামলায় সাহাবুদ্দিনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজের আবেদন

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬   প্রিন্ট   ২৫ বার পঠিত

দুদকের মামলায় সাহাবুদ্দিনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজের আবেদন

জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তের স্বার্থে তার নামে থাকা স্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থ ফ্রিজ করার আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ-সংক্রান্ত একটি আবেদন সিনিয়র স্পেশাল জজ ও মহানগর দায়রা জজ, ঢাকার আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার আসামি মো. সাহাবুদ্দিনের বয়স ৪৫ বছর। তার পিতার নাম আবদুর রব। নথিতে তার বর্তমান ঠিকানা হিসেবে ঢাকার ৭৩/২ সিদ্দিক বাজার এবং স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে নোয়াখালী সদর উপজেলার শুকুরপুর, বিনোদপুর এলাকার ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে। নামের মিল থাকায় বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে বলে আদালতেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে অভিযুক্ত ব্যক্তি সাবেক রাষ্ট্রপতি নন।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, সাহাবুদ্দিনের নিজ নামে মোট ১ কোটি ৮৭ লাখ ৪৯ হাজার ৩০৭ টাকার সম্পদ রয়েছে, যা তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, তদন্ত চলাকালে বিশ্বস্ত সূত্রে দুদক জানতে পেরেছে যে, আসামি তার নামে থাকা অবৈধভাবে অর্জিত স্থাবর সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। এসব সম্পদ হস্তান্তর করা হলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবিষ্যতে অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে সম্পদগুলো ক্রোক করা জরুরি বলে মনে করছে সংস্থাটি।

দুদকের আবেদনে ঢাকার শ্যামপুর, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, সাভার এবং নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় সাহাবুদ্দিনের নামে থাকা জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। নথিতে কদমতলী, তারাব, ইয়ারপুর, জয়কৃষ্ণপুর, শুকুরপুর, বিনোদপুর ও পণ্ডিতপুরসহ বিভিন্ন মৌজায় একাধিক খতিয়ান ও দাগের জমির উল্লেখ রয়েছে।

নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, এসব সম্পদের মধ্যে ঢাকার কদমতলী এলাকায় ০.৪৭৫ অযুতাংশ, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিভিন্ন দাগে ০.৩০০, ০.৫২৫ ও ০.৪৫০ অযুতাংশ জমি এবং সাভারের আশুলিয়া এলাকায় ০.৮২৫/২ শতাংশ জমির উল্লেখ রয়েছে। নোয়াখালী সদর এলাকার বিভিন্ন মৌজায়ও একাধিক জমির তথ্য আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নোয়াখালীর সম্পদগুলোর মধ্যে শুকুরপুর, বিনোদপুর ও পণ্ডিতপুর এলাকায় বিভিন্ন খতিয়ান ও দাগের জমির উল্লেখ রয়েছে। একটি সম্পদের পরিমাণ ৮.৫ শতাংশ, আরেকটির ৭.৩৮৫ শতাংশ এবং অন্য একটি সম্পদের পরিমাণ ৩.৪০৫ শতাংশ হিসেবে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ১৬.২৫ শতাংশসহ আরও কয়েকটি জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

স্থাবর সম্পদের পাশাপাশি সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি ব্যাংক হিসাবও ফ্রিজ করার আবেদন করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ফুলবাড়িয়া শাখায় ‘মেসার্স মা ট্রেডার্স-২’ নামে একটি চলতি হিসাবে ২০ হাজার ৮৩৫ টাকা এবং ‘মেসার্স মা ট্রেডার্স’ নামে আরেকটি চলতি হিসাবে ১৬ হাজার ৪৮৪ টাকা জমা রয়েছে।

দুদক আদালতের কাছে এসব স্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পদ ফ্রিজ করার আদেশ চেয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং সম্পদ হস্তান্তর বা সরিয়ে ফেলার সম্ভাবনা ঠেকাতে আদালতের আদেশ প্রয়োজন।

আদালতের আদেশ কার্যকর করার জন্য শ্যামপুর, রূপগঞ্জ, সাভার ও নোয়াখালীর সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ফুলবাড়িয়া শাখার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানোর অনুরোধও জানিয়েছে দুদক।

Facebook Comments Box

Posted ০৭:৪৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com