অনলাইন ডেস্ক
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ২৭ বার পঠিত
দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পোশাক শ্রমিকদের বর্তমান ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়াতে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী অক্টোবরের মধ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব।
চার দিন আগে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব পোশাকশিল্পের দুই মালিক সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। বৈঠকে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের প্রস্তাবে মালিকপক্ষ আপত্তি জানায়নি বলে জানিয়েছেন সচিব মো. আবদুর রহমান তাফাদার।
তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা একটি কমিটি গঠন করব। এরপর বোর্ড গঠনের আগে আরও কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আশা করছি, অক্টোবরের মধ্যে পোশাকশিল্পের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে।”
তবে মজুরি বাড়ানোর সময় নিয়ে আপত্তি রয়েছে পোশাক কারখানা মালিকদের। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মজুরি বাড়ানোর উপযুক্ত সময় নয়।
তিনি বলেন, রপ্তানি আদেশ কমছে, বিভিন্ন কারণে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। কিন্তু ক্রেতাদের কাছ থেকে সে অনুযায়ী দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে মজুরি বাড়ানো হলে শিল্পের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে।
তার আশঙ্কা, এর ফলে আরও অনেক কারখানা বন্ধের তালিকায় যুক্ত হতে পারে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫৬ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর আগে ন্যূনতম মজুরি ছিল ৮ হাজার টাকা।
তবে গত তিন বছর ধরে দেশে ৯ শতাংশের ওপরে মূল্যস্ফীতি থাকায় মজুরি বৃদ্ধির প্রকৃত সুফল অনেকটাই কমে গেছে বলে মনে করছেন শ্রমিক নেতারা।
২০২৫ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করে। সে হিসাবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ মজুরি নির্ধারণ হওয়ায় ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণ করার কথা।
বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার বলেন, নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানালেও এটি আরও আগেই করা উচিত ছিল। তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করার দাবি জানান।
তবে এ আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন মোহাম্মদ হাতেম। তার মতে, শ্রম আইনের সংশোধন আগের সময়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে না।
ঢাকার তেজগাঁও এলাকার আরমানা অ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিক শম্পা আক্তার জানান, তার কারখানায় ওভারটাইমের সুযোগ না থাকায় তিনি সরকার নির্ধারিত ১২ হাজার ৫০০ টাকা মজুরি পান।
চার সদস্যের পরিবার নিয়ে এই আয় দিয়ে চলা কঠিন বলে জানান তিনি।
শম্পা বলেন, ২০২৩ সালে তার আয় ৪ হাজার ৫০০ টাকা বাড়লেও একই সময়ে বাসাভাড়া বেড়েছে ১ হাজার টাকা। গত তিন বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দামও বেড়েছে।
২৫ বছর ধরে পোশাকশিল্পে কাজ করা এই শ্রমিক বলেন, মজুরি বাড়ার পরও তার জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হয়নি। উন্নত চিকিৎসা, ভালো খাবার বা ভালো বাসস্থানের সামর্থ্যও তৈরি হয়নি।
কল্পনা আক্তার বলেন, শুধু মজুরি বাড়ালেই হবে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসাভাড়া ও শ্রমিকদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলা অন্যান্য খরচ নিয়ন্ত্রণেও সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
একই সঙ্গে রপ্তানিকারকদের ক্রেতাদের সঙ্গে দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়িয়ে পণ্যের ভালো দাম নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নতুন মজুরি কার্যকর করতে সাধারণত মজুরি বোর্ড গঠন, একাধিক বৈঠক, মজুরি প্রস্তাব জমা, সরকারের অনুমোদন এবং গেজেট প্রকাশের মতো কয়েকটি ধাপ পার হতে হয়। আগের অভিজ্ঞতায় পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ছয় মাস সময় লেগেছে।
এ কারণে শ্রমিক নেতারা দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করে ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছেন।
Posted ০১:২৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com