|

Advertisement
×

ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের পণ্য, লক্ষ্য ১০ বিলিয়ন ডলার

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬   প্রিন্ট   ১৩ বার পঠিত

ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের পণ্য, লক্ষ্য ১০ বিলিয়ন ডলার

বাজারসুবিধা বাড়ানো, ওষুধ ও পোশাক রপ্তানি এবং আটকে থাকা পিটিএ আলোচনা ফের শুরুর উদ্যোগ

ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশটির সঙ্গে বিদ্যমান বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পোশাক, ওষুধ, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের বাজারসুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও ইন্দোনেশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আনিস মাত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বর্তমানে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করলেও দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলার।

ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশকে ইন্দোনেশিয়ার বাজারে আরও বেশি পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে হবে।

বাজারসুবিধা বাড়লে বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে

বৈঠকে মুক্তাদির বলেন, বাজারে প্রবেশের বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করা গেলে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, আলু ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের জন্য ইন্দোনেশিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বিশেষ করে বাংলাদেশি ওষুধের রপ্তানি বাড়াতে ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতা চান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন করে এবং বর্তমানে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে।

ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে নিবন্ধনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমানোর আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশি ওষুধের বাজার সম্প্রসারণে ঢাকার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ইন্দোনেশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জাকার্তায় বাংলাদেশি ওষুধের একটি একক প্রদর্শনী আয়োজনের প্রস্তাবে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আটকে থাকা পিটিএ আলোচনা ফের শুরু করতে চায় ঢাকা

দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বা পিটিএ (Preferential Trade Agreement) নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে পিটিএ নিয়ে ইতোমধ্যে চার দফা আলোচনা হয়েছে। তবে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে ২০২৩ সাল থেকে আলোচনা স্থবির হয়ে আছে।

ইন্দোনেশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের বস্ত্র ও পোশাকশিল্পের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

এ লক্ষ্যে আগামী ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনীর সময় দুই দেশের মধ্যে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তাব দেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও একটি প্রতিনিধিদলকে ওই প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে পিটিএর পাশাপাশি ভবিষ্যতে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) নিয়েও সম্ভাবনার কথা আলোচনা করা হয়।

ইন্দোনেশিয়ায় আলু রপ্তানিতে নতুন উদ্যোগ

বাংলাদেশি আলু ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানির বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় আলু রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে পরীক্ষাগার পরীক্ষা ও নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি।

এবার এসব জটিলতা দূর করতে দুই দেশের পরীক্ষাগারের পরীক্ষার ফলাফল পারস্পরিক স্বীকৃতির প্রস্তাব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে ইন্দোনেশিয়ার বাজারে আলুসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানির সুযোগ বাড়বে।

জ্বালানি খাতেও সহযোগিতার আলোচনা

বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ও উঠে আসে। বাংলাদেশের সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) টার্মিনাল পরিচালনায় ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি পারটামিনাকে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়টি আলোচনা করা হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানি বাড়ানোর সম্ভাবনাও নিয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

হালাল পণ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ

হালাল পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুই দেশের হালাল সনদ ও মানদণ্ডের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।

বৈঠকে দুই দেশই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়।

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিস্তিওয়াতি এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box

Posted ০২:৫০ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com