নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ২৫ বার পঠিত
দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগানো, স্থানীয় উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে একটি জাতীয় এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকরা। তাঁদের মতে, এআই খাতের বিকাশে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থার মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত দেশের প্রথম ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’-এ বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস দুলু এবং ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বক্তব্য দেন।
উদ্বোধনী পর্বের পর এআই প্রযুক্তির বর্তমান অবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্যে এর ব্যবহার, শিল্প ও শিক্ষার সংযোগ এবং স্থানীয় উদ্ভাবনের সম্ভাবনা নিয়ে তিনটি বিষয়ভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রিসভার সদস্য, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং তরুণ গবেষকরা অংশ নেন।
‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রূপান্তর মোকাবিলা: প্রয়োগ, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রথম অধিবেশনে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে। ব্যবসা পরিচালনা, শিল্প উৎপাদন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতিতে এ প্রযুক্তির প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে।
বাংলাদেশেও এআই ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিজিটাল সেবা, স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম এবং তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রযুক্তিটির ব্যবহার সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে সীমিত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, দক্ষ জনবলের অভাব, বাস্তবায়নের উচ্চ ব্যয় এবং সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি এ খাতের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
‘শিল্প ও শিক্ষার মধ্যকার সংযোগ: ব্যবসায়িক উদ্ভাবনে এআইয়ের প্রয়োগ’ শীর্ষক দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান।
মাহ্দী আমিন বলেন, পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে বাংলাদেশের অনেক মেধাবী তরুণ বিদেশে কাজ করছেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করছেন। তাঁদের মেধা, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ দেশে কাজে লাগানোর পরিবেশ তৈরি করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।
রিজওয়ান রাহমান বলেন, এআই উপযোগী দক্ষ জনশক্তি ও ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের চাহিদার সমন্বয় জরুরি। শিক্ষার্থীদের এআই বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে দক্ষ করে তুলতে হবে। দেশের এআইভিত্তিক রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এফএলএএক্সএ সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, শিক্ষা ও গবেষণায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগকারীদের শুল্ক অব্যাহতির সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে মেধাস্বত্ব আইন আধুনিকায়ন করতে হবে। শিল্প খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের এআইভিত্তিক সেবা উদ্ভাবনের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান বলেন, শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতা ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
‘সবার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: স্থানীয় মেধা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে বাস্তবভিত্তিক করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক তৃতীয় অধিবেশনে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, দেশে এআই প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তি তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে এ প্রযুক্তির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ ছাড়া দেশীয়ভাবে তৈরি এআইভিত্তিক প্রযুক্তি ও সেবার আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং বৈশ্বিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
সমাপনী অধিবেশনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে দেশে একটি জাতীয় এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।
তিনটি অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর প্রধান নির্বাহী রাইসুল কবির, মার্কপোলোর প্রধান নির্বাহী তাসফিয়া তাসবীন, পাঠাওয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম আহমেদ এবং বুয়েটের শিক্ষার্থী মো. রাহিনুর রহমান ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির শিক্ষার্থী তৌসিফা ইসলাম।
সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত ‘এআই বিজনেস এক্সপো’তে দেড় শতাধিক স্টলে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের এআইভিত্তিক পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করে। দেশের ২০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তারাও নিজেদের তৈরি প্রযুক্তিপণ্য প্রদর্শন করেন।
আয়োজকদের মতে, এ প্রদর্শনী তরুণ উদ্ভাবক, দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ এবং ব্যবসায়িক ধারণা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে দেশে এআইভিত্তিক নতুন উদ্যোগ, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Posted ০৬:২৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন