বিবিএ নিউজ.নেট
বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১ প্রিন্ট ৫৭০ বার পঠিত
বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে যে চাঙ্গাভাব লক্ষ করা গিয়েছিল তা বুঝি আর রইলো না। গত পাঁচ মাস ধরেই রেমিট্যান্স আহরণ হ্রাস পাচ্ছিল। রেমিট্যান্স আহরণের এই ক্রমহ্রাসমান ধারা এখনো অব্যাহত আছে। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম একুশ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ১২০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স প্রেরণ করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১০ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রবাসী আয়ের এই ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৭০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত হতে পারে।
উল্লেখ্য, এ যাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আহরিত হয়েছিল ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের জুলাই মাসে। সেই সময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ৩৫৯ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স প্রেরণ করেছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনো একক মাসে এতো বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স আহরিত হয়নি। অবশ্য করোনাকালীন অবস্থাতেও বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আহরণের ধারা মোটামুটি গতিশীলই ছিল।
রেমিট্যান্স আহরণ গতিশীল থাকার পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা কর্মচ্যুত হয়ে স্থানীয়ভাবে তাদের জমানো টাকা একবারে দেশে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসী আয়ের ওপর ২ শতাংশ নগদ আর্থিক প্রণোদনা দিয়েছে। ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণে উৎসাহিত হয়েছেন। করোনার কারণে হুন্ডি ব্যবসায় প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসা বৃদ্ধি পায়। গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১৭২ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স প্রেরণ করেছিল, যা ছিল আগের ১৫ মাসের তুলনায় সর্বনিম্ন। করোনার কারণে অন্তত ৫ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি স্বদেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। নতুন করে বিদেশে যাবার হারও কমে যায়। সব মিলিয়ে জনশক্তি রফতানি খাত বর্তমানে বেশ বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। আগামীতে এই অবস্থার আরো অবনতি হতে পারে।
২০২০-২০২১ অর্থবছরে মোট ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। করোনাকালীন অবস্থাতেও রেমিট্যান্স আহরণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে অনেকের মাঝেই সংশয় রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ মনে করছেন, করোনাকালীন অবস্থায় রেমিট্যান্স আহরণের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির পেছনে কিছু লুকানো কারণও ছিল। যারা বিভিন্ন সময় বিদেশি অর্থ পাচার করেছেন তাদের অনেকেই রেমিট্যান্সের আড়ালে সেই অর্থ দেশে প্রেরণ করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। আগামীতে রেমিট্যান্স আহরণ বৃদ্ধির জন্য সম্ভাব্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
Posted ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com