নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ প্রিন্ট ১৩৯ বার পঠিত
নিয়োগে বয়স জালিয়াতি, ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের আলোচিত মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বলে একাধিক তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে উল্টো বাণিজ্য ও কার্যক্রম বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক নথিপত্রে জানা যায়। এ নিয়ে ইতোমধ্যে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একজন উপসচিবের স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদন ও সাম্প্রতিক প্রশাসনিক দলিল বিশ্লেষণে এই অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে উপ-ব্যবস্থাপক (বিপণন) পদে নিয়োগের সময় বয়সসীমা ছিল ৩৩ বছর। কিন্তু মোরশেদ হোসাইন আজাদ ৩৬ বছর দুই মাস বিশ দিন বয়সে আবেদন করে নিয়োগ পান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবেদনপত্রে বয়সসংক্রান্ত অনিয়ম থাকলেও নিয়োগ কমিটি ও পরিচালনা পর্ষদ তা উপেক্ষা করে তাকে নিয়োগ দেয়, যা গুরুতর অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিজ্ঞতার প্রমাণ হিসেবে তিনি একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সনদ জমা দেন বলে তদন্তে উল্লেখ রয়েছে। তবে অডিট আপত্তিতে বলা হয়, ওই প্রতিষ্ঠানের বাস্তব অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি এবং এটি সম্পূর্ণ ভুয়া সনদ হতে পারে।
তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি রিফাইনারি থেকে মাসিক দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ, একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে মাসিক প্রায় পনেরো লাখ টাকা মাসোহারা গ্রহণের অভিযোগ, চট্টগ্রামের উত্তর আগ্রাবাদ এলাকায় প্রায় দশ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়তলা ভবন নির্মাণ, কালামিয়া বাজার এলাকায় বড় আকারের প্লট এবং লালখান বাজার এলাকায় দোকান মালিকানা, পাশাপাশি তার স্ত্রীর নামেও একাধিক সম্পদের তথ্য।
তদন্তে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠনের সুপারিশ থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং গত ৮ মার্চ এক অফিস আদেশে তাকে অর্থ বিভাগ থেকে সরিয়ে বাণিজ্য ও কার্যক্রম বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় বিপিসির অভ্যন্তরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি সাধারণ বদলি নয় বরং অভিযোগের চাপ থেকে তাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া হতে পারে।
তদন্ত প্রতিবেদনে তার নিয়োগ ও সম্পদ অর্জন আরও গভীরভাবে অনুসন্ধানের সুপারিশ থাকলেও অগ্রগতি না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার পেছনে প্রভাবশালী প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের সমর্থন রয়েছে, যার কারণে বারবার অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে মোরশেদ হোসাইন আজাদ-এর সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করা চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরবর্তীতে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তার কোন উত্তর মেলেনি।
Posted ০৮:৩১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com