নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ প্রিন্ট ৪৪ বার পঠিত
নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যক্তি এজেন্ট কমিশন বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকরের পরও কিছু প্রতিষ্ঠান তা না মানায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি সাঈদ আহমেদ, এমপি।
দেশের নন-লাইফ বীমা খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহীদের সঙ্গে বুধবার আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কমিশন বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যেসব কোম্পানি আগে জোরালো অবস্থান নিয়েছিল, তাদের মধ্যেই এখন অনেকে সেই সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করছে। সভায় নন-লাইফ বীমা কোম্পানির অনেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে বিআইএ সভাপতি বলেন, “আপনারা অতিরিক্ত উৎসাহ দেখিয়ে কমিশন বন্ধে আমাকে চাপ দিয়েছেন। এখন আবার নিজেরাই সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করছেন।”
সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, বিআইএ’র ভিজিলেন্স টিম অন্তত ১২টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে কমিশন দেয়ার তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন কিংবা আইডিআরএ ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও আলোচনা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এক চেয়ারম্যানের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। তিনি বলেন, কমিশন দেয়ার দায় শুধু মুখ্য নির্বাহীদের ওপর চাপিয়ে দিলে হবে না। পরিচালনা পর্ষদের সম্মতি ছাড়া এককভাবে কোনো মুখ্য নির্বাহী এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারেন না।
সভায় অংশ নেয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, কমিশন বন্ধের সিদ্ধান্তের পর নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীরা এখন বহুমুখী চাপে রয়েছেন। একদিকে গ্রাহকরা বলছেন কমিশন না পেলে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বীমার শাখা ব্যবস্থাপকরা কমিশন না থাকলে ব্যবসা কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানাচ্ছেন। অন্যদিকে পরিচালনা পর্ষদ থেকেও ব্যবসা ধরে রাখার চাপ রয়েছে। ফলে ব্যবসা কমে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশের ৪৬টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানির ব্যক্তি এজেন্টদের লাইসেন্স স্থগিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে উন্নয়ন কর্মকর্তাদের সংগৃহীত প্রিমিয়ামের ওপর শতকরা হারে কমিশন বা প্রণোদনা দেওয়াও বন্ধ করা হয়।
‘নন-লাইফ বীমাকারীর ব্যক্তি এজেন্ট কমিশন এবং উন্নয়ন কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা’ শীর্ষক ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দেশের কোনো নন-লাইফ বীমা কোম্পানিতে ব্যক্তি এজেন্ট রাখা যাবে না। পাশাপাশি কোনো প্রতিষ্ঠান কমিশনও দিতে পারবে না।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের গত ১৮ নভেম্বরের সুপারিশ এবং ৩০ নভেম্বর আইডিআরএর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নন-লাইফ বীমা খাতের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা, পলিসিধারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে, বিআইএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় সংগঠনের সভাপতি সাঈদ আহমেদ দ্রুত বীমা দাবি নিষ্পত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বীমা শিল্পের উন্নয়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তব্য দেন সিটি ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান হোসেন আখতার, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, বিআইএর সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ (পাভেল), পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মজিবুল ইসলাম, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসির চেয়ারম্যান তৌহিদ সামাদ, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান এএসএম ওয়াহেদউজ্জামান এবং ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান।
এছাড়া ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ভাইস চেয়ারম্যান রিজওয়ান-উর রহমান এবং নিটল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান এ কে এম মনিরুল হক।
Posted ০৮:১৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com