সোমবার ১৮ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x
ডিসিসিআই’র প্রাক-বাজেট আলোচনা

নতুন করে করের বোঝা বাড়বে না: বাণিজ্য মন্ত্রী

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬   প্রিন্ট   ১৫৬ বার পঠিত

নতুন করে করের বোঝা বাড়বে না: বাণিজ্য মন্ত্রী

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনা, যেখানে বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তৃত মতবিনিময় হয়। সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির। তিনি বলেন, আগামী বাজেটে ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন করে করের বোঝা বাড়ানো হবে না। বেসরকারিখাতে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে সরকার সহযোগিতামূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মনজুর হোসনে এবং আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন দৈনিক সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী।

স্বাগত বক্তব্যে তাসকীন আহমেদ বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে রাজস্ব ব্যবস্থার অটোমেশন, সহজীকরণ এবং করজাল সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি। তিনি করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ, সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং নন-লিস্টেড কোম্পানির করহার লিস্টেড কোম্পানির সমপর্যায়ে আনার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে অগ্রিম ভ্যাট ব্যবস্থা বাতিলের দাবিও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, টেকসই আর্থিক খাত গড়ে তুলতে নীতির আধুনিকায়ন, খেলাপি ঋণ কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা জরুরি। উৎপাদনশীল খাতে পুনঃঅর্থায়ন বাড়ানো ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সুদহার যৌক্তিক করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্যের বিকাশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের ওপর জোর দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের কিছু অযৌক্তিক প্রকল্পের কারণে অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে। তিনি জানান, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো এবং সরকারি সেবা সহজীকরণ এখন সময়ের দাবি। দেশের জিডিপি বড় হলেও বিপুল জনগোষ্ঠী এখনও দারিদ্রসীমার নিচে রয়েছে- এ বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে করদাতার সংখ্যা কম হওয়াকে তিনি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, জ্বালানি সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতার কারণে সরকারকে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ খাতে সক্ষমতা বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, বাজেট প্রণয়নে বেসরকারিখাতের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জিডিপিতে করের অবদান বাড়ানোর কথা বলা হলেও বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। উচ্চ সুদহার, ঋণপ্রবাহের সংকট এবং জ্বালানি সমস্যার কারণে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজা এবং স্থিতিশীল নীতিপরিবেশ নিশ্চিতের ওপর জোর দেন তিনি।

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মনজুর হোসনে বলেন, বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব কাটিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি এমএসএমই খাতকে সহায়তা এবং গবেষণা কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে আয়কর ও ভ্যাট, আর্থিক খাত, শিল্প ও বাণিজ্য এবং অবকাঠামো—এই চারটি সেশনে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন। তারা করব্যবস্থার জটিলতা, আর্থিক খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট এবং বিনিয়োগ পরিবেশের চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতামত দেন।

ডিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, কর প্রশাসনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানির কারণে বেসরকারিখাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি প্রান্তিক পর্যায়ে বিনিয়োগে প্রণোদনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক মুদ্রানীতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।

আরেক সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, কর আদায় পুরোপুরি অটোমেটেড করা গেলে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়বে। তিনি জানান, দেশের বড় অংশের লেনদেন এখনও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার বাইরে থাকায় সরকার প্রকৃত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমান ভ্যাট ব্যবস্থার পরিবর্তে জিএসটি চালুর প্রস্তাবও দেন তিনি।

জ্বালানি খাতের প্রতিনিধি ডেভিড হাসানাত বলেন, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে দীর্ঘসূত্রতা উদ্বেগজনক। তিনি জ্বালানি সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর জোর দেন।

কনফিডেন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইমরান করিম বলেন, পুঁজিবাজারে আস্থার অভাবে বিনিয়োগ বাড়ছে না। দীর্ঘদিন ধরে বাজার সূচকের স্থবিরতা বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আকন্দ মোহাম্মদ আখতার হোসাইন কর্মসংস্থান বাড়াতে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সেবায় জবাবদিহিতা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেন।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা সামগ্রিকভাবে করব্যবস্থার সংস্কার, একক ভ্যাট হার নির্ধারণ, আর্থিক খাতে সুশাসন, স্থিতিশীল বিনিময় হার, সুদের হার হ্রাস, শক্তিশালী বন্ড মার্কেট গঠন এবং পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ, গবেষক এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box

Posted ০৭:২০ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com