নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ প্রিন্ট ২৫০ বার পঠিত
দেশের নন-লাইফ বীমা খাতে অনিষ্পন্ন দাবির বড় অংশই জমে আছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের (এসবিসি) কাছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) শেষে খাতটির মোট অপরিশোধিত বীমা দাবির ৫৯ দশমিক ২৮ শতাংশই রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কাছে। এতে বীমা খাতে দাবি নিষ্পত্তির ধীরগতির চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশের ৪৬টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানির মধ্যে ৪৫টির অনিরীক্ষিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রথম প্রান্তিকে মোট বীমা দাবির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৯৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর বিপরীতে পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র ৪২৯ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা মোট দাবির ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ। ফলে ৩ হাজার ৩৬৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার দাবি এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে, যা মোট দাবির ৮৮ দশমিক ৭০ শতাংশ।
তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের মোট দাবি ছিল ২ হাজার ২২৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ২২৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকার দাবি পরিশোধ করেছে। বিপরীতে অনিষ্পন্ন রয়েছে ১ হাজার ৯৯৭ কোটি ১০ লাখ টাকার দাবি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি নিষ্পত্তির হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০ দশমিক ৩২ শতাংশ।
আইডিআরএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নন লাইফ বীমা খাতে বকেয়া ৩ হাজার ৫২২ কোটি ৬৬ লাখ টাকার দাবির সঙ্গে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে নতুন করে আরও ২৭৪ কোটি ৯২ লাখ টাকার দাবি যুক্ত হয়েছে। ফলে খাতজুড়ে দাবির চাপ আরও বেড়েছে।
খাতভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনেক বেসরকারি বীমা কোম্পানিরও দাবি নিষ্পত্তির হার অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ইন্স্যুরেন্সের দাবি নিষ্পত্তির হার মাত্র শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ, ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ, নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ১ দশমিক ১৪ শতাংশ, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ১ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং পিপলস ইন্স্যুরেন্সের ১দশমিক ৭৩ শতাংশ।
সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের পর পরিমাণের দিক থেকে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ৩১৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের ১৭৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের ১৪৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং পিপলস ইন্স্যুরেন্সের ৮৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার দাবি অনিষ্পন্ন রয়েছে।
বীমা খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপুল পরিমাণ দাবি দীর্ঘদিন অনিষ্পন্ন থাকায় গ্রাহকদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাদের মতে, দাবি যাচাই ও পরিশোধ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা না গেলে বীমা খাতের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে।
তারা আরও বলেন, বীমা শিল্পের টেকসই উন্নয়ন এবং গ্রাহক সুরক্ষার স্বার্থে কোম্পানিগুলোর দাবি নিষ্পত্তি সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।#
Posted ০৮:৫২ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com