নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ২২ জুন ২০২০ প্রিন্ট ৬০৯ বার পঠিত
বাজেটে তামাক কর ও মূল্য বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে তামাকপণ্যের ব্যবহার হ্রাসের পাশাপাশি তামাক খাত থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আয় অর্জন সম্ভব। তাই করোনাকালে সরকারকে ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে তামাকপণ্যে কর বৃদ্ধি করে রাজস্ব আহরণের আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
এ অর্থ করোনা মোকাবিলা সংক্রান্ত থোক বরাদ্দ এবং প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যয় করার সুযোগ রয়েছে। প্রস্তাবিত ২০২০-২১ বাজেটে এসব প্রস্তাব উপেক্ষিত হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ তামাকবিরোধীরা।
সোমবার (২২ জুন) প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স- আত্মা’র উদ্যোগে ২০টি তামাকবিরোধী সংগঠন আয়োজিত অনলাইনে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠানে বক্তারা এ পরামর্শ দেন।
অনলাইনে এ আয়োজনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, টিভি টুডের এডিটর ইন চিফ সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, সরকারি স্বায়ত্তশাসিত গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর প্রমুখ।
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, আমরা বার বার বলছি তামাকের ক্ষতি থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য তামাকপণ্যের কর ও মূল্য বাড়াতে হবে। কিন্তু সেটার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আমাদের উন্নয়ন দর্শন এখন বাজার অর্থনীতি নির্ভর হয়ে গেছে সুতরাং জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। তবে আমরা তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধির কথা বলেই যাব।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বাজেট অর্থায়নে ব্যাংকিং খাতের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা অর্থনীতির জন্য মোটেও ভালো নয়। সরকারের হাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বাড়তি রাজস্ব আহরণের একটি সুযোগ রয়েছে। আমরা দেখলাম, তামাকপণ্য থেকে অতিরিক্ত ১১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব, যা বাজেট অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা না কমানো এবং গুলের দাম প্রত্যাশিত মাত্রায় বৃদ্ধি না করায় মানুষের মধ্যে তামাক ব্যবহার কমবে না। অন্যদিকে, তামাকপণ্যে সুনির্দিষ্ট কর আরোপ না করায় তামাক কোম্পানির লাভ বেড়ে যাচ্ছে। আমি আশা করবো, চূড়ান্ত বাজেটে আমাদের প্রস্তাব অনুযায়ী তামাকপণ্যে সুনির্দিষ্ট করারোপসহ দাম ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করা হবে।
অনলাইন বাজেট প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে প্রজ্ঞা জানায়, তামাকবিরোধীদের পক্ষ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের চারটি মূল্যস্তরের পরিবর্তে দুটি মূল্যস্তর প্রচলন এবং সম্পূরক শুল্কের একটি অংশ সুনির্দিষ্ট কর (স্পেসিফিক ট্যাক্স) হিসেবে আরোপ করার দাবি জানানো হলেও প্রস্তাবিত বাজেটে এর কোনো প্রতিফলন নেই। সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখায় ভোক্তা তার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্র্যান্ড বেছে নিতে পারবে, ফলে সিগারেটের ব্যবহার কমবে না।
প্রবন্ধে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্তর ভেদে সিগারেটের দাম সর্বোচ্চ ৫.৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে, অথচ এ সময়ে জনগণের মাথাপিছু আয় (নমিনাল) বেড়েছে ১১.৬ শতাংশ। ফলে সিগারেটের প্রকৃত মূল্য কমে যাবে। প্রস্তাবিত বাজেটে টানা চতুর্থ বছরের মত বিড়ির সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে জনস্বাস্থ্যবিরোধী। এর ফলে বিড়ি মালিকদের আয় ২৮.৫ শতাংশ বেড়ে যাবে। শলাকা প্রতি বিড়ির দাম বাড়ানো হয়েছে মাত্র ১৬ পয়সা, এতে বিড়ির ব্যবহার কমবে না বরং দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাবে।
এতে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে দশ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য মাত্র ৫ টাকা বৃদ্ধি করে ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নারী এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠির মধ্যে গুলের ব্যবহার নিরুৎসাহিত হবে না। তবে, দশ গ্রাম জর্দার দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা কিছুটা সন্তোষজনক হলেও যথেষ্ট নয়। জর্দা ও গুলের সম্পূরক শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৫৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। কর এবং মূল্য একসঙ্গে বৃদ্ধি করায় ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য থেকে সরকার বিগত বছরের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ বাড়তি রাজস্ব আয় অর্জন করতে পারবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে তামাক ব্যবহারকারীর ৫০ শতাংশরও বেশি ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করলেও তামাক রাজস্বের ১ শতাংশেরও কম আসে ধোঁয়াবিহীন তামাক থেকে। সুতরাং ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য থেকে সরকারের বাড়তি রাজস্ব আয়ের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
Posted ০৭:৪১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২২ জুন ২০২০
bankbimaarthonity.com | saed khan
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com